MP New Waqf Board: দেশের মধ্যে প্রথম! কেন্দ্রের সংশোধিত আইনে ওয়াকফ বোর্ড পুনর্গঠন করল মধ্যপ্রদেশ, ঠাঁই পেলেন ২ হিন্দু সদস্য ও নাজমা হেপাতুল্লা

source : সংবাদ প্রতিদিন
কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী সরকারের সংশোধিত ওয়াকফ আইনের ব্যবহারিক প্রয়োগ ঘটিয়ে দেশের প্রথম রাজ্য হিসেবে ইতিহাস গড়ল মধ্যপ্রদেশ। মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদবের (CM Mohan Yadav) এক তাৎপর্যপূর্ণ ও নজিরবিহীন সিদ্ধান্তের জেরে রাজ্য সরকার নতুন যে ১০ সদস্যের ওয়াকফ বোর্ড গঠন করেছে, তাতে ঠাঁই দেওয়া হয়েছে ২ জন হিন্দু সদস্যকে। কেন্দ্রের সংশোধিত আইন অনুযায়ী, ওয়াকফ বোর্ডের সদস্য হওয়ার জন্য আর মুসলিম হওয়া বাধ্যতামূলক নয়— এই ঐতিহাসিক আইনি পরিবর্তনকে হাতিয়ার করেই এই প্রথম কোনো মুসলিম ধর্মীয় বোর্ডে অমুসলিমদের প্রবেশ ঘটানো হলো।
নতুন বোর্ডের সমীকরণ: সানওয়ার প্যাটেল চেয়ারম্যান, ২ হিন্দু মুখ
মধ্যপ্রদেশ সরকারের জারি করা বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, পুনর্গঠিত এই ১০ সদস্যের ওয়াকফ বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন সানওয়ার প্যাটেল (Sanwar Patel)। তবে সবচেয়ে বড় চমক রয়েছে বাকি সদস্যদের তালিকায়। কেন্দ্রের সংশোধিত আইনকে কাজে লাগিয়ে বোর্ডে ২ জন হিন্দু সদস্যকে আনা হয়েছে, তাঁরা হলেন মনোজ মালপানি (Manoj Malpani) এবং অনিমেষ ভার্গব (Animesh Bhargava)।
নতুন ওয়াকফ আইন অনুযায়ী, বোর্ড গঠনের চূড়ান্ত অধিকার এখন রাজ্য সরকারের হাতে এবং রাজ্য চাইলে সর্বাধিক ২ জন পর্যন্ত অমুসলিম সদস্যকে বোর্ডে রাখতে পারে। মধ্যপ্রদেশ সরকার প্রথম দিন থেকেই এই নিয়মের শতভাগ প্রয়োগ নিশ্চিত করল।
নারীবাদ ও নাজমা হেপাতুল্লা: বোর্ডে মহিলাদের জয়জয়কার
মোহন যাদব সরকারের গঠিত এই ওয়াকফ বোর্ডে শুধু অমুসলিমদের অন্তর্ভুক্তিই নয়, লিঙ্গ ভারসাম্যের দিকেও বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে। এই তাৎপর্যপূর্ণ বোর্ডে জায়গা পেয়েছেন দেশের বর্ষীয়ান রাজনীতিবীদ তথা প্রাক্তন বিজেপি নেত্রী নাজমা হেপাতুল্লা (Najma Heptullah)। এছাড়াও মহিলা প্রতিনিধি হিসেবে বোর্ডে রয়েছেন ফাইজান খান, ফতেমা চৌধুরী এবং সাহিস্তা সুলতানরা। ওয়াকফ সম্পত্তির রক্ষণাবেক্ষণ এবং পরিচালনায় মহিলাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতেই সরকারের এই পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে।
[মধ্যপ্রদেশ ওয়াকফ বোর্ডের নতুন পরিকাঠামো]
* মোট সদস্য সংখ্যা: ১০ জন।
* চেয়ারম্যান: সানওয়ার প্যাটেল।
* অমুসলিম (হিন্দু) সদস্য: ২ জন (মনোজ মালপানি এবং অনিমেষ ভার্গব)।
* উল্লেখযোগ্য মহিলা মুখ: নাজমা হেপাতুল্লা, ফাইজান খান, ফতেমা চৌধুরী, সাহিস্তা সুলতান।
“ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান বনাম ধর্মনিরপেক্ষ সম্পত্তি”— তুঙ্গে বিতর্ক
ওয়াকফ বোর্ডে অমুসলিমদের অন্তর্ভুক্তির এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রদেশের মুসলিম সম্প্রদায় এবং বিরোধী দলগুলোর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও আপত্তির সৃষ্টি হয়েছে। বিরোধীদের যুক্তি, দেশের অন্য কোনো ধর্মীয় বোর্ড— যেমন হিন্দু বা শিখদের বোর্ডে কোনো অহিন্দু বা মুসলিম প্রতিনিধি থাকে না, তাহলে ওয়াকফ বোর্ডে কেন অমুসলিমদের রাখা হবে? তাঁদের দাবি, ওয়াকফ একটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, এটি ধর্মনিরপেক্ষ নয়।
তবে সরকারের যুক্তি ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। সরকারি মহলের দাবি, একটি ধর্মনিরপেক্ষ দেশে ওয়াকফ বোর্ড যখন দেশের যে কোনো সাধারণ নাগরিক বা সব ধর্মের মানুষের সম্পত্তিতে নিজেদের অধিকার দাবি করতে পারে (ওয়াকফ আইনের বিশেষ ধারা অনুযায়ী), তখন সেই বোর্ডে অমুসলিম প্রতিনিধি কেন থাকবে না? এই আইনি লড়াই দেশের সর্বোচ্চ আদালত তথা সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court) পর্যন্ত গড়ালেও, আদালত নতুন ওয়াকফ আইনের ওপর কোনো স্থগিতাদেশ দেয়নি। ফলে মধ্যপ্রদেশ সরকারের এই সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ আইনসম্মত বলেই গণ্য হচ্ছে।
এক নজরে মধ্যপ্রদেশের নতুন ওয়াকফ বোর্ড:
| বিষয়ের ক্ষেত্র | পুনর্গঠিত ওয়াকফ বোর্ডের মূল তথ্য |
| উদ্যোক্তা রাজ্য | মধ্যপ্রদেশ (দেশের প্রথম রাজ্য হিসেবে আইন কার্যকর করল)। |
| বোর্ডের মোট সদস্য | ১০ জন সদস্য (মহিলাদের বিশেষ গুরুত্ব)। |
| অমুসলিম কোটা | ২ জন হিন্দু সদস্য (মনোজ মালপানি ও অনিমেষ ভার্গব)। |
| নতুন চেয়ারম্যান | সানওয়ার প্যাটেল। |
| আইনি বৈধতা | কেন্দ্রের নতুন সংশোধিত ওয়াকফ আইন মেনে গঠিত; সুপ্রিম কোর্টের কোনো স্থগিতাদেশ নেই। |
মধ্যপ্রদেশের এই ওয়াকফ বোর্ড পুনর্গঠন দেশের বাকি রাজ্যগুলোর জন্যও এক বড় নজির হয়ে রইল। আগামী দিনে বিজেপি শাসিত অন্যান্য রাজ্যগুলোও যে এই একই মডেলে ওয়াকফ বোর্ড পুনর্গঠন করবে, তা বলাই বাহুল্য। তবে মুসলিম সম্প্রদায়ের একাংশের ক্ষোভ এবং বিরোধীদের রাজনৈতিক প্রতিবাদের মুখে দাঁড়িয়ে মোহন যাদব সরকারের এই ‘মাস্টারস্ট্রোক’ কতটা মসৃণভাবে কাজ পরিচালনা করতে পারে, এখন সেটাই দেখার।






