Nadia Crime News: শান্তিপুরে হাড়হিম করা ঘটনা! ৫ বছরের মেয়ের সঙ্গে শ্বশুরকে ‘অপকর্ম’ করতে দেখলেন বউমা, ৩ নাতনিকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে গ্রেপ্তার ঠাকুরদা

source : সংবাদ প্রতিদিন
সমাজ ও পারিবারিক সম্পর্কের সমস্ত বিশ্বাসকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে এক চরম বিকৃত মানসিকতার নজির মিলল নদিয়ায়। নিজেরই ৩ অপ্রাপ্তবয়স্ক নাতনিকে দিনের পর দিন যৌন নির্যাতন করার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হলো এক বৃদ্ধকে। উত্তর ২৪ পরগনার বারুইপুর কাণ্ডের পর যখন রাজ্য জুড়ে নারী ও শিশু নিরাপত্তা নিয়ে কড়া নজরদারি চলছে, তখনই নদিয়ার শান্তিপুর (Shantipur) থানা এলাকায় এই ঘৃণ্য অপরাধের ঘটনাটি প্রকাশ্যে এলো।
বউমার চোখে শ্বশুরের ‘অপকর্ম’, হাতেনাতে ধরা পড়ল সত্য
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, আক্রান্ত ওই পরিবারের গৃহবধূর তিন মেয়ে এবং তিনজনেই অপ্রাপ্তবয়স্ক। দীর্ঘদিন ধরেই ওই মহিলার সঙ্গে তাঁর শ্বশুর-শাশুড়ির পারিবারিক অশান্তি চলছিল। কিন্তু সেই অশান্তির নেপথ্যে যে এত বড় এক নারকীয় সত্য লুকিয়ে রয়েছে, তা কেউ আঁচ করতে পারেনি।
সম্প্রতি বাড়ির ভেতরেই নিজের ৫ বছর বয়সি ছোট মেয়ের চিৎকার বা সন্দেহজনক আচরণ দেখে এগিয়ে যান মা। তখনই তিনি চোখের সামনে দেখেন, তাঁর শ্বশুরমশাই ওই একরত্তি শিশুর ওপর চরম যৌন নির্যাতন চালাচ্ছে। শিউরে উঠে বউমা শ্বশুরকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন।
একে একে খুলল বাকি দুই মেয়ের রহস্য, পুলিশের দ্বারস্থ মা-বাবা
ছোট মেয়ের এই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার পর ওই মহিলা তাঁর বাকি দুই অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়ের সাথেও কথা বলেন। তখনই কেঁচো খুঁড়তে কেউটে বেরিয়ে পড়ে। দুই নাবালিকা কন্যাও কান্নায় ভেঙে পড়ে জানায় যে, তাদের ওপরেও বিভিন্ন সময়ে একই ধরনের শারীরিক ও যৌন নির্যাতন চালিয়েছে তাদের নিজের ঠাকুরদা।
স্বভাবতই নিজের তিন সন্তানের এই চরম লাঞ্ছনার কথা জানতে পেরে আর ঘরে বসে থাকেননি নির্যাতিতাদের বাবা-মা। তাঁরা সটান শান্তিপুর থানায় গিয়ে ওই বৃদ্ধের বিরুদ্ধে সমস্ত বিবরণ দিয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
[শান্তিপুর শিশু নির্যাতন মামলার গতিপ্রকৃতি]
* ঘটনা প্রকাশ: ৫ বছরের মেয়ের সাথে শ্বশুরকে অপকর্ম করতে দেখলেন মা।
* বাকি তথ্য: অন্য দুই নাবালিকা মেয়ের ওপরেও দীর্ঘদিন ধরে নির্যাতনের স্বীকারোক্তি।
* সোমবার রাত: শান্তিপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়েরের পরেই পুলিশি অভিযানে ধৃত ঠাকুরদা।
* মঙ্গলবার দুপুর: কঠোর ধারায় মামলা রুজু করে ধৃতকে রানাঘাট আদালতে পেশ।
বারুইপুরের মতোই ‘রকেট গতিতে’ অ্যাকশন পুলিশের
রাজ্যে শিশু ও নারী নির্যাতনের সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ প্রশাসন এখন অত্যন্ত সংবেদনশীল ও তৎপর। শান্তিপুর থানায় অভিযোগ জমা পড়ার সাথে সাথেই কোমর বেঁধে ময়দানে নামেন তদন্তকারীরা। সোমবার রাতেই পুলিশ ওই এলাকায় হানা দিয়ে অভিযুক্ত ঠাকুরদাকে লোহার গরাদের পেছনে পুরে দেয়।
আজ মঙ্গলবার সকালে ধৃতকে রানাঘাট বিচার বিভাগীয় আদালতে (Ranaghat Court) পাঠানো হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, শিশুদের বয়ান রেকর্ড করা এবং পকসো (POCSO) আইনের উপযুক্ত ধারায় মামলা রুজু করে তদন্ত প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। পুলিশের এই তাৎক্ষণিক ও কড়া পদক্ষেপে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন নির্যাতিতা শিশুদের মা-বাবা। তাঁরা লম্পট বৃদ্ধের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এক নজরে শান্তিপুরের নাবালিকা নির্যাতন কাণ্ড:
| বিষয়ের ক্ষেত্র | ঘটনার বিবরণ ও আইনি খতিয়ান |
| অভিযুক্তের পরিচয় | নির্যাতিতাদের নিজস্ব ঠাকুরদা (নদিয়ার শান্তিপুর থানা এলাকা)। |
| নির্যাতিতার সংখ্যা | ৩ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক বোন (যার মধ্যে ছোটটির বয়স মাত্র ৫ বছর)। |
| কীভাবে প্রকাশ্যে এলো | ৫ বছরের মেয়ের ওপর নির্যাতন চালানোর সময় হাতেনাতে ধরেন মা। |
| পুলিশি পদক্ষেপ | সোমবার রাতে দ্রুত গ্রেপ্তার, সমস্ত দিক খতিয়ে দেখতে বিশেষ তদন্ত। |
| আদালতের অবস্থান | মঙ্গলবার ধৃতকে রানাঘাট বিচার বিভাগীয় আদালতে পেশ। |
রক্তের সম্পর্কের এমন অবক্ষয় ও বিকৃতি শান্তিপুর সংলগ্ন এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। নিজের নাতনিদের যারা সুরক্ষার ঘেরাটোপে রাখবে, তাদের কাছ থেকেই এমন পৈশাচিক আচরণ মেনে নিতে পারছে না প্রতিবেশীরা। পুলিশ আশ্বাস দিয়েছে, মামলাটিকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে যাতে অপরাধী কোনোভাবেই ছাড় না পায়।






