Pune Ketan Agrawal Murder Case: কেতনকে মারার আগে মেঘালয় মধুচন্দ্রিমা হত্যাকাণ্ডের ব্লু-প্রিন্ট পড়েছিলেন সিয়া! সার্চ হিস্ট্রিতে মিলল নিখুঁত খুনের ছক ও লক-আপের অধিকারের তথ্য

source : আনন্দবাজার
অপরাধের গল্প বা ‘ক্রাইম থ্রিলার’ সিনেমা দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে খুনের ছক কষার ঘটনা নতুন নয়। কিন্তু পুণের (Pune) নামী ব্যবসায়ীপুত্র কেতন অগ্রবাল (Ketan Agrawal) হত্যাকাণ্ডে যা সামনে এলো, তা এককথায় হাড়হিম করা। প্রেমিককে সাথে নিয়ে প্রাক্তন বা বর্তমান সঙ্গীকে পাহাড় থেকে ঠেলে ফেলে দেওয়ার আগে ইন্টারনেটে রীতিমতো অন্য একটি খুনের মামলা নিয়ে ‘রিসার্চ’ বা পড়াশোনা করেছিলেন মূল অভিযুক্ত সিয়া গোয়াল (Siya Goyal)! সিয়ার মোবাইল ফোনের ‘সার্চ হিস্ট্রি’ খতিয়ে দেখে তাজ্জব বনে গেছেন পুণে পুলিশের তদন্তকারী আধিকারিকরা।
‘নিখুঁত খুনের’ ব্লু-প্রিন্ট: মেঘালয় মধুচন্দ্রিমা হত্যাকাণ্ডে নজর সিয়ার
তদন্তের দায়িত্বে থাকা এক শীর্ষ পুলিশ আধিকারিক সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি (NDTV)-কে জানিয়েছেন, কেতনকে লোহাগড় দুর্গ (Lohagad Fort) থেকে নিচে ধাক্কা মেরে ফেলে দেওয়ার আগে সিয়া এবং তাঁর প্রেমিক চেতন চৌধরী (Chetan Choudhary) যথেষ্ট সময় নিয়ে ইন্টারনেটে খুনের পরিকল্পনা সাজিয়েছিলেন।
সিয়ার মোবাইল থেকে উদ্ধার হওয়া তথ্য অনুযায়ী, তিনি মেঘালয়ের বিখ্যাত ‘মধুচন্দ্রিমা হত্যাকাণ্ড’ (Meghalaya Honeymoon Murder) নিয়ে একাধিক প্রতিবেদন পড়েছিলেন। ওই ঘটনায় সোনম রঘুবংশী নামের এক মহিলা তাঁর স্বামী রাজা রঘুবংশীকে খুন করেছিলেন। সিয়া মূলত দেখতে চেয়েছিলেন, সোনম কোন কোন ভুল করার জন্য পুলিশের হাতে ধরা পড়ে যান। সিয়ার মূল লক্ষ্য ছিল, সোনমের করা ভুলগুলো এড়িয়ে কেতনকে এমনভাবে সরাতে হবে যেন পুলিশ একে ‘দুর্ঘটনা’ বা ‘নিখোঁজ’ বলে ধরে নেয়।
“পুলিশ কি লক-আপে মারে?”— অগ্রিম খোঁজ নিয়েছিলেন সিয়া
ডিজিটাল ফরেনসিক রিপোর্টে সিয়ার সার্চ হিস্ট্রি থেকে আরও কিছু অদ্ভুত ও চমকপ্রদ তথ্য মিলেছে। কেতনকে খুনের আগে সিয়া অনলাইনে সার্চ করেছিলেন—
- পুলিশি হেফাজতে (Police Custody) থাকাকালীন মহিলাদের আইনি অধিকার কী কী রয়েছে?
- গ্রেফতার করার পর পুলিশ লক-আপে বন্দিদের মারধর বা শারীরিক নির্যাতন করে কি না?
এই সমস্ত বিষয় অনলাইনে খোঁজার অর্থই হলো, সিয়া ভালো করেই জানতেন যে খুনের পর সন্দেহভাজন হিসেবে পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করতে পারে। আর সেই কারণেই পুলিশের হাত থেকে বাঁচার রাস্তা এবং আইনি ঢাল আগেভাগেই প্রস্তুত রাখতে চেয়েছিলেন এই তরুণী।
[সিয়ার মোবাইলের ডিজিটাল প্রমাণ]
* প্রথম সার্চ: মেঘালয় মধুচন্দ্রিমায় স্বামী রাজা রঘুবংশী খুন সংক্রান্ত খবর।
* দ্বিতীয় সার্চ: সোনম রঘুবংশীর মামলার তদন্তের ফাঁকফোকর ও আইনি জট।
* তৃতীয় সার্চ: পুলিশি হেফাজতে মহিলাদের আইনি অধিকার ও সুরক্ষার নিয়মাবলী।
* বর্তমান স্থিতি: সিয়ার বাড়ি থেকে আরও একটি মোবাইল উদ্ধার, পাঠানো হয়েছে ফরেনসিকে।
ঠান্ডা মাথার খুনি, চোখে নেই এক ফোঁটা অনুশোচনা
পুলিশ সূত্রে খবর, কেতনকে লোহাগড় দুর্গ থেকে ফেলে দেওয়ার পর সিয়া বা তাঁর প্রেমিক চেতনের মনে বিন্দুমাত্র অনুশোচনা বা অপরাধবোধ দেখা যায়নি। লক-আপে অত্যন্ত স্বাভাবিক আচরণ করছেন দুজনেই।
এদিকে, মেঘালয় হত্যাকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত সোনম রঘুবংশী পুলিশের ‘প্রক্রিয়াগত ত্রুটি’ বা গাফিলতির কারণে আদালত থেকে জামিন পেয়ে গেছেন। সিয়াও হয়তো সেই আইনি ফাঁকফোকর ব্যবহার করে পার পেয়ে যাওয়ার চেষ্টা করবেন। কিন্তু পুণে পুলিশ এবার অত্যন্ত সতর্ক। সিয়ার বাড়ি থেকে ইতিমধ্যেই দ্বিতীয় আরেকটি মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। পুলিশ কোনো ফাঁক না রেখে এমন পোক্ত প্রমাণ সাজাতে চাইছে যাতে সিয়ার জামিনের রাস্তা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।
এক নজরে কেতন অগ্রবাল খুনের ডিজিটাল তদন্ত:
| তদন্তের ক্ষেত্র | সিয়া গোয়লের মোবাইল থেকে প্রাপ্ত তথ্য |
| হত্যাকাণ্ডের শিকার | কেতন অগ্রবাল (পুণে-র নামী ব্যবসায়ীর ছেলে)। |
| প্রধান দুই অভিযুক্ত | সিয়া গোয়ল এবং তাঁর বর্তমান প্রেমিক চেতন চৌধরী। |
| খুনের মূল পদ্ধতি | লোহাগড় দুর্গের চূড়া থেকে নিচে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া। |
| ডিজিটাল মোটিভ | মেঘালয় মধুচন্দ্রিমা খুনের কায়দা নকল করার চেষ্টা। |
| পুলিশের পরবর্তী পদক্ষেপ | দ্বিতীয় মোবাইলের ফরেনসিক রিপোর্ট সংগ্রহ ও কড়া চার্জশিট গঠন। |
ইন্টারনেট ও প্রযুক্তির অপব্যবহার করে কীভাবে ঠান্ডা মাথায় খুনের ছক কষা যায়, সিয়া গোয়লের এই কান্ড তার এক চরম উদাহরণ। তবে অপরাধী যতই চতুর হোক না কেন, নিজের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট বা সার্চ হিস্ট্রি মুছে ফেলতে না পারায় সিয়ার নিজের পাতা ফাঁদেই পা দিতে হলো তাঁকে। পুণে পুলিশ আশাবাদী, বাজেয়াপ্ত হওয়া দ্বিতীয় মোবাইল থেকে আরও কিছু চাঞ্চল্যকর চ্যাট বা ভয়েস নোট মিলবে, যা আদালতে সিয়া ও চেতনের অপরাধ প্রমাণে সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হবে।






