Ronaldo vs Neymar Net Worth 2026: বিশ্বকাপহীন বিদায়, তাও সম্পত্তির পাহাড়ে সিআর৭ ও নেইমার! চিনে নিন দুই মহাতারকার আলিশান সাম্রাজ্য

source : সংবাদ প্রতিদিন
ফুটবল বিধাতা তাঁদের পায়ে জাদু দিয়েছেন, বিশ্বজোড়া খ্যাতি দিয়েছেন, কিন্তু যে সোনার ট্রফিটার জন্য তাঁরা নিজেদের কেরিয়ারের শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে লড়াই করেছিলেন, সেই ফিফা বিশ্বকাপটা আর ছোঁয়া হলো না ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো (Cristiano Ronaldo) এবং নেইমার জুনিয়রের (Neymar Jr)। ২০২৬ সালের বিশ্বমঞ্চ থেকে বিদায় নিয়ে রোনাল্ডো স্পষ্ট করে দিয়েছেন পরের বিশ্বকাপে তিনি আর নেই, আর নেইমার তো ব্রাজিলের হলুদ জার্সিটাই চিরতরে তুলে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে বিশ্বকাপ না থাকলেও, তাঁদের বিলাসবহুল জীবনযাত্রা এবং সম্পত্তির খতিয়ান দেখলে যে কারও চোখ কপালে উঠতে বাধ্য।
ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো: ইতিহাসের প্রথম ‘বিলিয়নেয়ার’ ফুটবলার
২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে সিআর সেভেনের মোট সম্পদের পরিমাণ ১.২ বিলিয়ন থেকে ১.৪ বিলিয়ন ডলার। যা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ১১,০০০ কোটি থেকে ১৩,০০০ কোটি টাকার সমান।
আয়ের মূল উৎস ও আল নাসের চুক্তি:
২০২৫ সালের জুন মাসে সৌদি আরবের ক্লাব আল নাসেরের সঙ্গে চুক্তি বৃদ্ধির পর রোনাল্ডোর আয় আকাশ ছুঁয়েছে। নতুন চুক্তি অনুযায়ী বোনাসসহ তাঁর বার্ষিক আয় ৪০০ থেকে ৬২০ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ৫,০০০ কোটি টাকা)। যেহেতু সৌদি আরব করমুক্ত (Tax-Free) দেশ, তাই এই বিপুল অঙ্কের পুরোটাই ঢোকে সিআর৭-এর পকেটে। এছাড়া আল নাসের ক্লাবে তাঁর ১৫% শেয়ারও রয়েছে।
ব্র্যান্ড ও নিজস্ব ব্যবসা:
- লাইফটাইম ডিল: ক্রীড়াসংস্থা নাইকির (Nike) সঙ্গে তাঁর আজীবনের চুক্তি রয়েছে, যেখান থেকে আয় প্রায় ৭০০ কোটি টাকা।
- ব্যক্তিগত ব্র্যান্ড: হোটেল (Pestana CR7), পোশাক, সুগন্ধি এবং জিমের চেইন ব্যবসা থেকে কোটি কোটি টাকা লাভ করেন তিনি।
- সোশ্যাল মিডিয়া: ইনস্টাগ্রামের প্রতিটি স্পনসরড পোস্ট থেকে বিশ্বরেকর্ড পরিমাণ অর্থ উপার্জন করেন রোনাল্ডো।
গাড়ি, বাড়ি ও ব্যক্তিগত বিমান:
- গাড়ির সংগ্রহশালা: রোলস রয়েস, ল্যাম্বরগিনি, ফেরারি, মাসেরাতিসহ তাঁর গ্যারেজে থাকা গাড়িগুলির মোট মূল্য প্রায় ৩০ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ৩০০ কোটি টাকা)।
- প্রাইভেট জেট: তাঁর নিজস্ব বিমানের নাম ‘বোম্বাডিয়ের গ্লোবাল এক্সপ্রেস’ (Bombardier Global Express), যার বাজার মূল্য ৬১ মিলিয়ন ডলার।
- আবাসন: পর্তুগাল, স্পেন ও দুবাইয়ে তাঁর বিলাসবহুল বাংলো রয়েছে, যার মোট মূল্য ১০০ মিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি।
নেইমার জুনিয়রের ধনসম্পত্তি: বিলাসবহুল জীবনের রাজা
ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড নেইমারের বর্তমান মোট সম্পত্তির আনুমানিক মূল্য ৪৫০ মিলিয়ন ডলার, যা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৪,২৮৫ কোটি টাকা।
ক্লাব কেরিয়ারের আয়:
স্যান্টোস, বার্সেলোনা, পিএসজি এবং বর্তমানে আল হিলালে খেলার সুবাদে শুধুমাত্র ক্লাব কেরিয়ারের বেতন ও চুক্তি থেকেই নেইমার আয় করেছেন ৭০০ মিলিয়ন ডলার। পিএসজি ও সৌদিতে থাকাকালীন তাঁর বার্ষিক বেতন ছিল ৭০-৮০ মিলিয়ন ডলার।
বিজ্ঞাপন ও সোশ্যাল মিডিয়া:
- পুমা ডিল: ক্রীড়াসংস্থা পুমার (Puma) সাথে নেইমারের দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি রয়েছে, যেখান থেকে তিনি বছরে ৩০ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ৩০০ কোটি টাকা) পান।
- ডিজিটাল আয়: বিভিন্ন ব্র্যান্ড এনডোর্সমেন্ট এবং সোশ্যাল মিডিয়া থেকে তাঁর বার্ষিক আয় আরও ১০০ কোটি টাকা।
- বিনিয়োগ: রিয়েল এস্টেট সেক্টরে নেইমারের কোটি কোটি টাকার বড় বিনিয়োগ রয়েছে।
গাড়ি, বাড়ি ও ব্যক্তিগত বিমান:
- গাড়ির শখ: ল্যাম্বরগিনি, মাসেরাতি, মার্সিডিজ বেঞ্জ ও অ্যাস্টন মার্টিনের মতো চোখধাঁধানো সব গাড়ি রয়েছে নেইমারের গ্যারেজে। এই গাড়িগুলির মোট মূল্য কিন্তু রোনাল্ডোর চেয়েও বেশি— প্রায় ৬৫ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ৬০০ কোটি টাকা)!
- প্রাইভেট জেট: নেইমারের নিজস্ব একটি ব্যক্তিগত বিমান রয়েছে, যার নাম ‘ডাসল্ট ফ্যালকন’ (Dassault Falcon)। এর মূল্য ৪৬ মিলিয়ন ডলার।
- আবাসন: ব্রাজিল, দুবাই, স্পেন, ফ্রান্স এবং আমেরিকায় ছড়িয়ে থাকা তাঁর বিলাসবহুল বাড়িগুলির মোট বাজার মূল্য ৩৫ মিলিয়ন ডলার।
এক নজরে রোনাল্ডো বনাম নেইমার (সম্পত্তির তুলনা ২০২৬):
| সম্পত্তির ক্ষেত্র | ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো (CR7) | নেইমার জুনিয়র (Neymar Jr) |
| মোট সম্পত্তির মূল্য | ১.২ – ১.৪ বিলিয়ন ডলার (₹১১,০০০ – ₹১৩,০০০ কোটি) | ৪৫০ মিলিয়ন ডলার ( canবিবেচনা ₹৪,২৮৫ কোটি) |
| বার্ষিক ক্লাব আয় (সর্বোচ্চ) | ৪০০ – ৬২০ মিলিয়ন ডলার (আল নাসের) | ৭০ – ৮০ মিলিয়ন ডলার (আল হিলাল/পিএসজি) |
| গাড়ির সংগ্রহের মূল্য | ৩০ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ৩০০ কোটি টাকা) | ৬৫ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ৬০০ কোটি টাকা) |
| ব্যক্তিগত বিমান (Private Jet) | বোম্বাডিয়ের গ্লোবাল এক্সপ্রেস ($৬১ মিলিয়ন) | ডাসল্ট ফ্যালকন ($৪৬ মিলিয়ন) |
| প্রধান ব্র্যান্ড পার্টনার | নাইকি (Nike – আজীবন চুক্তি) | পুমা (Puma – বার্ষিক ৩০ মিলিয়ন ডলার) |
মাঠের লড়াইয়ে কে সেরা— সেই বিতর্ক চিরকাল চলবে। ২০২৬ বিশ্বকাপে দুজনেই চোখের জলে বিদায় নিয়েছেন ঠিকই, কিন্তু মাঠের বাইরে তাঁরা যে সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছেন, তা এককথায় অবিশ্বাস্য। ফুটবল থেকে অবসর নিলেও তাঁদের এই বিলাসবহুল রয়্যাল লাইফস্টাইল এবং ব্যবসার পরিধি আগামী দিনে তাঁদের সম্পত্তির পরিমাণ আরও বাড়িয়ে তুলবে, তা বলাই বাহুল্য।






