Argentina vs Egypt VAR Controversy: “জোচ্চুরি করে আমাদের হারানো হয়েছে, ফিফা আর্জেন্টিনাকে ট্রফি দিতে মরিয়া!” ম্যাচ হেরে রেফারিকে ধুয়ে দিলেন মিশর কোচ হোসেম

source : সংবাদ প্রতিদিন
বিশ্বকাপের শেষ ১৬-র ম্যাচে আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে বুক চিতিয়ে লড়াই করেছিল মিশর। মাঠের খেলায় ২-০ গোলে এগিয়ে গিয়ে ল্যাটিন আমেরিকার মহাশক্তিদের কাপ কাঁপিয়ে দিয়েছিল তারা। কিন্তু মাঠের ভেতরের সেই মহাকাব্যিক লড়াইকে ছাপিয়ে গেল রেফারির বিতর্কিত সব সিদ্ধান্ত এবং তার জেরে ম্যাচ শেষে তৈরি হওয়া চরম উত্তেজনা। “জোচ্চুরি করে আমাদের হারানো হয়েছে”— আর্জেন্টিনার কাছে হারের পর বিশ্বফুটবলের নিয়ামক সংস্থা ফিফা (FIFA) এবং ম্যাচ রেফারির বিরুদ্ধে এভাবেই বিস্ফোরক ও নজিরবিহীন ক্ষোভ উগরে দিলেন মিশরের প্রধান কোচ হোসেম হাসান।
“ফিফা ওদের ট্রফিটা দিয়ে দিলেই পারে!”— নিউ ইয়র্ক টাইমসের খবর
ম্যাচ শেষ হওয়ার পর প্রথমে সাংবাদিক সম্মেলন এবং পরবর্তীতে মিক্সড জোনে গিয়ে রীতিমতো রণচণ্ডী মূর্তি ধারণ করেন মিশর কোচ হোসেম হাসান। বিখ্যাত আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘নিউ ইয়র্ক টাইমস’ (The New York Times)-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ম্যাচ হেরে মেসিদের কটাক্ষ করে হোসেম বলেন—
“আরও একটি বিশ্বকাপ জেতার জন্য ওদের (আর্জেন্টিনাকে) আগাম শুভেচ্ছা! ফিফা ওদের হাতে সরাসরি বিশ্বকাপটা তুলে দিলেই পারে, এত নাটকের কী দরকার? শুরু থেকেই আমাদের হারাতে উঠেপড়ে লেগেছিলেন রেফারি। ম্যাচটা একপেশে খেলানো হলো। আমরা হারিনি, আমাদের জোচ্চুরি করে হারানো হয়েছে।”
একই সুর শোনা গিয়েছে মিশরের হয়ে গোল করা তারকা ফরোয়ার্ড মোস্তাফা জিকোর গলাতেও। তিনি সাফ বলেন, “আমরা মাঠে নেমেছিলাম বিশ্বসেরাদের বিরুদ্ধে নিজেদের দমে খেলব বলে। রেফারি চাননি আমরা জিতি। আজ মাঠে যা হয়েছে, তা সারা বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ লাইভ দেখেছে।”
৬০ থেকে ৮৩ মিনিট: মাঠের ভেতর রেফারির ‘কীর্তি’
ম্যাচের বয়স যখন ৬০ মিনিটের কাছাকাছি, তখন ২-০ গোলে এগিয়ে থাকা মিশর কাউন্টার অ্যাটাকে গিয়ে লিয়োনেল মেসিদের রক্ষণকে ছিন্নভিন্ন করে দেয়। মহম্মদ সালাহর নিখুঁত পাস থেকে বল জালে জড়িয়ে দেন মোস্তাফা জিকো। কিন্তু তখনই আসরে নামেন রেফারি ফ্র্যাঙ্কোইস লেটেক্সিয়ার। তিনি ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (VAR) দেখে দাবি করেন, কাউন্টার শুরু হওয়ার সময় মিশরের এক ফুটবলার আর্জেন্টিনার লিসান্দ্রো মার্টিনেজকে ফাউল করেছিলেন! এই অদ্ভুত যুক্তিতে গোল বাতিল না হলে মিশর তখনই ৩-০ গোলে এগিয়ে যেত।
এখানেই শেষ নয়, এরপর আর্জেন্টিনার করা দুটি গোলের ক্ষেত্রেই রেফারিংয়ের কঙ্কালসার রূপ ধরা পড়ে—
- ৭৯ মিনিট (রোমেরোর গোল): ক্রিস্টিয়ান রোমেরো যখন গোল করে আর্জেন্টিনার ব্যবধান কমান, তখন স্পষ্ট অফসাইডের দাবি তোলেন মিশরের ডিফেন্ডাররা। কিন্তু রেফারি একবারও ভিএআর দেখার প্রয়োজন মনে করেননি।
- ৮৩ মিনিট (মেসির সমতাসূচক গোল): যে আক্রমণ থেকে মেসি ২-২ করেন, তার ঠিক আগেই মিশরের আইকন মহম্মদ সালাহকে মাঝমাঠে স্পষ্ট ফাউল করা হয়েছিল, যা থেকে মিশর পেনাল্টি বা ফ্রি-কিক পেতে পারত। অথচ রেফারি সেই ফাউল এড়িয়ে আর্জেন্টিনাকে গোল উপহার দেন। এর প্রতিবাদ করায় মিশর বেঞ্চের সদস্যদের যথেচ্ছ কার্ড দেখান রেফারি।
[আর্জেন্টিনা বনাম মিশর: বিতর্কিত টাইমলাইন]
* ৬০ মিনিট: সালাহর পাসে জিকোর গোল বাতিল (অদ্ভুত ফাউলের অজুহাতে)।
* ৭৯ মিনিট: রোমেরোর গোল নিয়ে অফসাইডের বিতর্ক (VAR এড়িয়ে গেলেন রেফারি)।
* ৮৩Target মিনিট: সালাহকে ফাউল উপেক্ষা করে মেসির সমতাসূচক গোল।
* ম্যাচ শেষে: ক্ষোভে ফুঁসতে ফুঁসতে ড্রেসিংরুম ও টিম বাসে রওনা মিশর দলের।
কাঠগড়ায় বিতর্কিত রেফারি লেটেক্সিয়ার, প্রশ্নের মুখে কোটি কোটি টাকার VAR
ম্যাচের পর বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া এবং সার্চ ইঞ্জিনে রীতিমতো খলনায়ক হিসেবে ট্রেন্ড করছেন ফরাসি রেফারি ফ্র্যাঙ্কোইস লেটেক্সিয়ার (Francois Letexier)। ফুটবলপ্রেমীরা তাঁর পুরোনো রেকর্ড ঘেঁটে দেখিয়েছেন, ফ্রান্সের লিগ ওয়ান থেকে শুরু করে অলিম্পিক যোগ্যতা অর্জন পর্ব— লেটেক্সিয়ার যেখানেই বাঁশি মুখে নেমেছেন, সেখানেই বড় কোনো বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
ইন্টারনেটে ফুটবল ভক্তরা প্রশ্ন তুলছেন, যদি মাঠের রেফারি নিজের ইচ্ছামতো কোটি কোটি টাকার ভিএআর (VAR) প্রযুক্তিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে একপেশে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন, তবে এই প্রযুক্তির প্রয়োজনীয়তা কী? ১৯৮৬ বিশ্বকাপে প্রযুক্তি ছিল না বলে দিয়েগো মারাদোনার ‘হ্যান্ড অফ গড’ গোল মেনে নিতে হয়েছিল, কিন্তু ২০২৬ সালের অত্যাধুনিক প্রযুক্তির যুগে এমন নিকৃষ্ট মানের রেফারিংয়ের পিছনে আসল কারণ কী, তা নিয়ে সরব হয়েছেন নেটিজেনরা।
এক নজরে আর্জেন্টিনা বনাম মিশর ম্যাচ বিতর্ক:
| বিতর্কের ক্ষেত্র | মাঠের ঘটনা ও মিশর শিবিরের দাবি |
| প্রধান ম্যাচ রেফারি | ফ্র্যাঙ্কোইস লেটেক্সিয়ার (ফ্রান্স)। |
| মিশরের মূল অভিযোগ | ফিফা লিওনেল মেসিকে বিশ্বকাপে টিকিয়ে রাখতে জোচ্চুরি করেছে। |
| সবচেয়ে বড় অবিচার | ৩-০ করার মুহূর্তে মোস্তাফা জিকোর বৈধ গোল বাতিল। |
| আর্জেন্টিনার সুবিধা | অফসাইড ও ফাউল বিতর্ক থাকা সত্ত্বেও ভিএআর চেক না করেই গোল দেওয়া। |
| ম্যাচ পরবর্তী প্রতিক্রিয়া | ক্ষোভে ফুঁসতে ফুঁসতে প্রেস কনফারেন্স বয়কট করে হোটেলে ফেরে মিশর। |
বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে আর্জেন্টিনার মতো দলের বিরুদ্ধে রেফারিংয়ের এই মারাত্মক ভুলগুলো ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম কালো অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। মিশরের চোখ থেকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে যে প্রতিবাদের ভাষা দেখা গিয়েছে, তা বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের সহমর্মিতা কুড়াচ্ছে। এখন দেখার, মিশর কোচের এই গুরুতর ‘জোচ্চুরি’ ও ফিফার পক্ষপাতিত্বের মারাত্মক অভিযোগের জবাবে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থা কোনো শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেয় কি না।






