Argentina vs Egypt Racism Controversy: বিতর্কের শেষ নেই! এবার লিওনেল মেসির বিরুদ্ধে বর্ণবিদ্বেষের মারাত্মক অভিযোগ মিশর কোচের, রেফারির ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ

source : সংবাদ প্রতিদিন
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের শেষ ১৬-র আর্জেন্টিনা বনাম মিশর ম্যাচটি ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম বিতর্কিত ম্যাচ হিসেবে জায়গা করে নিতে চলেছে। রেফারি ফ্র্যাঙ্কোইস লেটেক্সিয়ারের পক্ষপাতমূলক সিদ্ধান্তের জেরে মিশর শিবিরের “জোচ্চুরি”র পর, এবার মাঠের ভেতর প্রবেশ করল বর্ণবিদ্বেষের (Racism) মারাত্মক অভিযোগ। আর এই বিতর্কের কেন্দ্রে জড়িয়ে গেল খোদ ফুটবল রাজপুত্র লিওনেল মেসি (Lionel Messi) এবং মিশরের হেড কোচ হোসাম হাসানের নাম। ম্যাচের অন্তিমলগ্নে মাঠের ভেতরের সঙ্ঘাত এখন বর্ণবাদের মতো সংবেদনশীল রূপ নিয়েছে।
মেসির সাথে সংঘাত ও হোসাম হাসানের ‘এক্স’ (X) ভঙ্গি
ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার ঠিক আগে যখন মাঠের উত্তাপ এবং দুই দলের ফুটবলারদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি চরমে ওঠে, ঠিক তখনই একটি ভিডিও ফুটেজ সামনে আসে। সেখানে দেখা যায়, মিশরের ডাগআউটের দিকে তাকিয়ে আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি উত্তেজিতভাবে কিছু একটা বলছেন।
মেসির সেই মন্তব্যের পরই মিশরের কোচ হোসাম হাসান (Hosam Hasan) অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন এবং মাঠের ভেতর রেফারিকে লক্ষ্য করে নিজের দু’হাত বুকের সামনে এনে ‘এক্স’ (X) আকৃতির ভঙ্গি প্রদর্শন করেন। আন্তর্জাতিক ফুটবল মহলে এই ‘এক্স’ ভঙ্গির অর্থ অত্যন্ত স্পষ্ট— কোনো ফুটবলার বা কোচ যদি মাঠের ভেতর বর্ণবিদ্বেষী (Racist) আক্রমণের শিকার হন, তবে তিনি এই ভঙ্গির মাধ্যমে তা অফিশিয়ালি রেফারি ও ম্যাচ কমিশনারকে জানান। তবে মেসি সত্যিই হাসানকে কোনো বিতর্কিত বা বর্ণবাদী মন্তব্য করেছেন কি না, তা এখনো সুনির্দিষ্টভাবে প্রমাণিত হয়নি।
ফিফার কড়া প্রোটোকল এড়ালেন বিতর্কিত রেফারি!
সাধারণত কোনো আন্তর্জাতিক ম্যাচে ফুটবলার বা কোচ যদি বর্ণবাদের শিকার হয়ে ‘এক্স’ ভঙ্গি করেন, তবে ফিফার (FIFA) অ্যান্টি-রেসিজম গাইডলাইন অনুযায়ী রেফারিরা তিনটি কড়া পদক্ষেপ নিতে বাধ্য থাকেন:
১. প্রথম ধাপ: রেফারি তাৎক্ষণিকভাবে ম্যাচ সাময়িক বন্ধ রাখবেন এবং মাঠে অ্যানাউন্সমেন্টের মাধ্যমে বর্ণবাদ থামাতে বলবেন।
২. দ্বিতীয় ধাপ: আক্রমণ অব্যাহত থাকলে দল দুটিকে নিয়ে রেফারি মাঠের বাইরে চলে যাবেন এবং দীর্ঘ সময়ের জন্য খেলা স্থগিত থাকবে।
৩. তৃতীয় ধাপ: পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এলে ম্যাচ পুরোপুরি বাতিল বা পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হবে।
অথচ এই ম্যাচে ফরাসি রেফারি ফ্র্যাঙ্কোইস লেটেক্সিয়ার (Francois Letexier) ফিফার সেই নিয়মকে পুরোপুরি বুড়ো আঙুল দেখান। তিনি বর্ণবাদের অভিযোগ খতিয়ে দেখা বা ম্যাচ থামানোর কোনো প্রয়োজনই মনে করেননি, উল্টে প্রতিবাদ করার অপরাধে মিশরের কোচ হোসাম হাসানকে হলুদ কার্ড দেখিয়ে দেন!
[ফিফার বর্ণবাদ বিরোধী ৩-ধাপের নিয়ম বনাম মাঠের বাস্তব চিত্র]
* নিয়ম ১: বর্ণবাদের সংকেত (X Gesture) মিললে ম্যাচ সাময়িক বন্ধ রাখা। (রেফারি করেননি)
* নিয়ম ২: পরিস্থিতির উন্নতি না হলে দল নিয়ে টানেলে চলে যাওয়া। (রেফারি এড়িয়ে গেছেন)
* বাস্তব চিত্র: বর্ণবাদের অভিযোগ জানানোয় উল্টে মিশর কোচকে হলুদ কার্ড ও সহকারীকে লাল কার্ড প্রদান!
মুখ ঢাকলেন ম্যাক অ্যালিস্টার, লাল কার্ড পেলেন মিশরের সহকারী কোচ
ঘটনার জল আরও ঘোলা হয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও ক্লিপ ভাইরাল হওয়ার পর। সেখানে দেখা যায়, আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার (Alexis Mac Allister) নিজের মুখ পুরোপুরি হাত দিয়ে ঢেকে মিশরের কোনো এক সদস্যের সাথে কথা বলছেন। ফিফার নতুন নিয়ম অনুযায়ী, মাঠে বর্ণবাদী বা আপত্তিকর মন্তব্য লুকিয়ে করার জন্য ফুটবলাররা এভাবে মুখ ঢাকেন এবং এমনটা করলে সরাসরি হলুদ কার্ড দেখানোর নিয়ম রয়েছে।
রেফারি ম্যাক অ্যালিস্টারের এই আচরণকে সম্পূর্ণ এড়িয়ে যান। অন্যদিকে, রেফারির এই চরম একপেশে ও জঘন্য সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে যখন মিশরের বেঞ্চ তীব্র প্রতিবাদ শুরু করে, তখন রেফারি লেটেক্সিয়ার মিশরের সহকারী কোচকে সরাসরি লাল কার্ড দেখিয়ে মাঠ থেকে বের করে দেন। ম্যাচ শেষে মিশরের ফুটবলার ও কর্মকর্তারা ক্ষোভে ফুটতে ফুটতে মাঠ ছাড়েন।
এক নজরে আর্জেন্টিনা বনাম মিশর ম্যাচের বর্ণবাদ বিতর্ক:
| বিতর্কের ক্ষেত্র | মাঠের ভেতরের ঘটনা ও আইনি নিয়ম |
| অভিযোগের তির কার দিকে | আর্জেন্টিনা অধিনায়ক লিওনেল মেসির দিকে (মিশর কোচের ভঙ্গি অনুযায়ী)। |
| কোচের ভঙ্গি | দু’হাত তুলে ‘এক্স’ (X) চিহ্ন প্রদর্শন, যা বর্ণবাদের বিরুদ্ধে ফিফার প্রতীক। |
| রেফারির অ্যাকশন | ফিফার প্রোটোকল ভেঙে বর্ণবাদের অভিযোগকারী হোসাম হাসানকে হলুদ কার্ড। |
| আর্জেন্টাইন ফুটবলারের ভূমিকা | ম্যাক অ্যালিস্টারের মুখ ঢেকে কথা বলার ভিডিও ভাইরাল। |
| মিশর বেঞ্চের শাস্তি | প্রতিবাদ করায় মিশরের সহকারী কোচকে সরাসরি লাল কার্ড। |
আর্জেন্টিনা বনাম মিশর ম্যাচটি শুধুমাত্র ফুটবল স্কোরের জন্য নয়, বরং রেফারিংয়ের কালো ইতিহাস এবং বর্ণবাদের এই মারাত্মক অভিযোগের জন্য দীর্ঘকাল চর্চায় থাকবে। ফিফা যেখানে ‘নো টু রেসিজম’ স্লোগান নিয়ে বিশ্বজুড়ে প্রচার চালায়, সেখানে বিশ্বকাপের মঞ্চে রেফারির এমন উদাসীনতা ও উল্টো অভিযোগকারীকে শাস্তি দেওয়া বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন খাড়া করেছে। এখন দেখার, ম্যাচের এই রুদ্ধশ্বাস ও বিতর্কিত ভিডিও ফুটেজগুলো খতিয়ে দেখে ফিফার ডিসিপ্লিনারি কমিটি লিওনেল মেসি বা রেফারি লেটেক্সিয়ারের বিরুদ্ধে কোনো তদন্তের নির্দেশ দেয় কি না।






