Abhishek Banerjee DJ Case Update: ডিজে মামলায় দ্বিতীয়বার হাজিরা এড়ালেন অভিষেক! তদন্ত শ্লথ করার অভিযোগে সাংসদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের আর্জি সিআইডি-র

source : আনন্দবাজার
তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) অস্বস্তি বাড়াল রাজ্য পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ সিআইডি (CID)। নির্বাচনী প্রচার পর্বে বিতর্কিত ‘ডিজে’ মন্তব্য মামলায় কণ্ঠস্বরের নমুনা (Voice Sample) দিতে বুধবার বিধাননগর আদালতে হাজির হওয়ার কথা ছিল তাঁর। কিন্তু গত ৩০ জুনের পর, বুধবার দ্বিতীয়বারের জন্য এই হাজিরা এড়ালেন তৃণমূলের এই শীর্ষ নেতা। অভিষেকের এই অনুপস্থিতির পরই আইনি লড়াইয়ে সুর চড়িয়েছে সিআইডি। তাদের স্পষ্ট দাবি, তদন্ত প্রক্রিয়াকে শ্লথ এবং বিলম্বিত করে দিতেই ইচ্ছাকৃতভাবে আদালতের নির্দেশ অমান্য করছেন সাংসদ।
আদালতে সিআইডি-র ২ ঘণ্টা ‘অপেক্ষা’, বিচারকের কাছে কড়া পদক্ষেপের আর্জি
বুধবার বিধাননগর আদালতে অভিষেকের কণ্ঠস্বরের নমুনা সংগ্রহের জন্য সমস্ত প্রস্তুতি সেরে রেখেছিলেন সিআইডি আধিকারিকেরা। উপস্থিত ছিলেন কণ্ঠস্বর-নমুনা সংগ্রহ করার ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা। কিন্তু ঘড়ির কাঁটা পেরিয়ে গেলেও দেখা মেলেনি অভিষেকের। দীর্ঘ প্রায় দুই ঘণ্টা অপেক্ষা করার পর ক্ষোভে ফেটে পড়ে সিআইডি পক্ষ।
আদালতের বিশেষ বিচারকের কাছে সরকার পক্ষের আইনজীবী বিভাস চট্টোপাধ্যায় লিখিতভাবে সিআইডি-র ক্ষোভের কথা জানান। আবেদনে বলা হয়েছে—
“অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ইচ্ছাকৃত ভাবে আদালতের নির্দেশ মানছেন না। যাতে মূল মামলার তদন্ত বিলম্বিত হয়, সেই উদ্দেশ্য নিয়েই তিনি বারবার এমনটা করছেন। আদালতের নির্দেশকে এভাবে বারবার বুড়ো আঙুল দেখানো হচ্ছে। এবার তাঁর বিরুদ্ধে কড়া আইনি পদক্ষেপ করা হোক।”
কী এই ‘ডিজে’ মামলা? কেন অভিষেকের কণ্ঠস্বরের নমুনা চায় সিআইডি?
ঘটনার সূত্রপাত বিগত বিধানসভা নির্বাচনের প্রচার চলাকালীন। সে সময় একাধিক জনসভায় অভিষেকের গলায় ‘ডিজে’ বাজানো সংক্রান্ত মন্তব্য শোনা গিয়েছিল। বিরোধী দল বিজেপির দাবি ছিল, ভোট জয়ের পর বিরোধীদের দমাতে এবং পরোক্ষে রাজনৈতিক হিংসায় উস্কানি দিতেই তৃণমূল নেতা এই মন্তব্য করেছিলেন। ভোটের ফলাফল প্রকাশের পর এই মর্মে অভিষেকের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়, যার তদন্তভার যায় সিআইডি-র হাতে।
তদন্তকারীদের দাবি, এই মামলার বিচারপ্রক্রিয়া ও চার্জশিট গঠনের মূল ভিত্তিই হলো ওই বিতর্কিত বক্তব্যের কণ্ঠস্বরের সত্যতা যাচাই করা। সেই কারণেই বিধাননগর আদালতের অনুমতি নিয়ে অভিষেকের কণ্ঠস্বরের ডিজিটাল নমুনা সংগ্রহ করতে চায় সিআইডি।
[ডিজে মামলার আইনি টানাপোড়েনের টাইমলাইন]
* প্রচার পর্ব: নির্বাচনী জনসভায় অভিষেকের বিতর্কিত ‘ডিজে’ মন্তব্য।
* ভোটের পর: হিংসায় উস্কানির অভিযোগে অভিষেকের বিরুদ্ধে এফআইআর ও সিআইডি তদন্ত শুরু।
* ৩০ জুন: বিধাননগর আদালতের নির্দেশে প্রথমবার নমুনা দেওয়ার দিন ধার্য, অভিষেক অনুপস্থিত।
* হাইকোর্টের নির্দেশ: সিআইডি-র তদন্তের প্রয়োজনে হস্তক্ষেপ করতে অস্বীকার উচ্চ আদালতের।
* ৮ জুলাই (বুধবার): দ্বিতীয়বার হাজিরা এড়ালেন অভিষেক; সিআইডি-র কড়া পদক্ষেপের আর্জি।
হাইকোর্টেও মেলেনি স্বস্তি, তদন্তে অসহযোগিতার অভিযোগ
সিআইডি-র কণ্ঠস্বরের নমুনা সংগ্রহের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে এর আগে কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court) দ্বারস্থ হয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। উচ্চ আদালতে তাঁর আইনজীবীরা ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন, জনসভায় ডিজে বাজানোর কথা অভিষেক নিজেই স্বীকার করেছেন এবং ওই কণ্ঠস্বর যে তাঁর, তা নিয়ে কোনো দ্বিমত নেই। তাহলে আলাদা করে নমুনা সংগ্রহের প্রয়োজন কোথায়?
তবে হাইকোর্ট অভিষেকের এই যুক্তি খারিজ করে সাফ জানিয়ে দেয়, তদন্তের স্বার্থে ঠিক কী প্রয়োজন বা কী প্রয়োজন নয়, তা কোনো তদন্তকারী সংস্থাকে আদালত ঠিক করে দিতে পারে না। মূল মামলা যেখানে বিচারাধীন, সেখানেই যাবতীয় বিষয়ের নিষ্পত্তি হবে। হাইকোর্টের এই সবুজ সঙ্কেতের পরেও বুধবার অভিষেক আদালতে না আসায় সিআইডি আদালতে দাবি করেছে, এটি তদন্তে সম্পূর্ণ অসহযোগিতার সামিল।
এক নজরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডিজে মামলা বিতর্ক:
| বিষয়ের ক্ষেত্র | মামলার বিবরণ ও বর্তমান স্থিতি |
| অভিযুক্তের নাম | অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (সাংসদ ও তৃণমূল সাধারণ সম্পাদক)। |
| মামলার এজেন্সী | রাজ্য পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (CID)। |
| মূল অভিযোগ | ‘ডিজে’ মন্তব্যের মাধ্যমে রাজনৈতিক হিংসায় উস্কানি প্রদান। |
| আদালতের অবস্থান | বিধাননগর আদালত ও হাইকোর্ট দুই সংস্থাই সিআইডি-কে নমুনা সংগ্রহের অনুমতি দিয়েছে। |
| বর্তমান বিতর্ক | পরপর দু’বার (৩০ জুন ও ৮ জুলাই) সিআইডি-র সামনে হাজিরা এড়ানো। |
পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মহলে কেন্দ্রীয় এজেন্সির বিরুদ্ধে তৃণমূলের তরফে বারবার তদন্তে হেনস্থার অভিযোগ তোলা হলেও, এবার স্বয়ং রাজ্য পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগই তৃণমূলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ডের বিরুদ্ধে তদন্তে অসহযোগিতার লিখিত অভিযোগ আনল। কণ্ঠস্বরের নমুনার ওপরই যেখানে পুরো মামলার ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে, সেখানে অভিষেকের এই অনুপস্থিতি আইনি লড়াইকে আরও জটিল করে তুলল। এখন দেখার, সিআইডি-র এই কড়া পদক্ষেপের দাবির প্রেক্ষিতে বিধাননগর আদালতের বিচারক আগামী দিনে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে কোনো সমন বা কড়া আইনি নির্দেশ জারি করেন কি না।






