Mamata Banerjee Slaps TMC Worker: হাজরায় বারুইপুর কাণ্ডের মিছিলে ‘মাছ চোর’ স্লোগান, চরম বিশৃঙ্খলার মাঝে দলেরই কর্মীকে সপাটে চড় মারলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়!

source : সংবাদ প্রতিদিন
উত্তর ২৪ পরগনার বারুইপুরের নাবালিকা হত্যা ও ধর্ষণের ঘটনার প্রতিবাদে বুধবার দুপুরে কলকাতা হাইকোর্টের অনুমতি নিয়ে এক বিশাল প্রতিবাদী মিছিলের ডাক দিয়েছিল কালীঘাট তৃণমূলের ছাত্র-যুব সংগঠন। বালিগঞ্জ ফাঁড়ি থেকে শুরু হওয়া এই মিছিলটি হাজরা মোড়ের কাছাকাছি পৌঁছানো মাত্রই কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়। মিছিলকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক সংঘর্ষ, ‘চোর চোর’ স্লোগান এবং ‘মাছ চোর’ গানের ব্যঙ্গাত্মক সুরের জেরে পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে। আর এই চরম উত্তেজনার মাঝেই নিজের কালীঘাটের বাড়ি থেকে রাস্তায় বেরিয়ে এসে মারাত্মকভাবে মেজাজ হারালেন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। ভিড় নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে নিজের দলেরই এক কর্মীকে সপাটে চড় মেরে বসলেন তিনি।
‘মাছ চোর’ গান ঘিরে সংঘর্ষ, রাস্তায় নেমে মেজাজ হারালেন মমতা
বুধবার দুপুরে বালিগঞ্জ ফাঁড়ি থেকে শুরু হওয়া তৃণমূলের এই মিছিলটি যখন হাজরার দিকে এগোচ্ছিল, তখন রাস্তার একপাশ থেকে বিজেপির কর্মী-সমর্থকেরা ‘চোর চোর’ স্লোগান দিতে শুরু করেন। পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হয় যখন সাউন্ড বক্সে ‘মাছ চোর’ গানটি বাজিয়ে তৃণমূলকে কটাক্ষ করা হয়। এর পরেই দুই দলের কর্মীদের মধ্যে হাতাহাতি ও ব্যাপক সংঘর্ষ শুরু হয়ে যায়। তৃণমূলের অভিযোগ, তাদের দলের কর্মীদের ওপর পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়ে মারধর করেছে বিজেপির গুন্ডারা।
এই খবর কালীঘাটের বাড়িতে পৌঁছানো মাত্রই ঘর থেকে বাইরে বেরিয়ে আসেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সময় তাঁর বাড়ির বাইরে দলীয় কর্মী ও সাধারণ মানুষের উপচে পড়া ভিড় ছিল। উদ্ভূত পরিস্থিতি এবং বিশৃঙ্খলা সামলাতে গিয়ে ধস্তাধস্তির মধ্যে পড়ে যান তৃণমূলনেত্রী। তখনই চরম উত্তেজিত হয়ে মেজাজ হারান তিনি। ভিড়ের মধ্যে সামনে থাকা নিজের দলেরই এক কর্মীকে লক্ষ্য করে সপাটে এক চড় কষিয়ে দেন মমতা। শুধু তাই নয়, পরিস্থিতি শান্ত করতে আশেপাশের আরও বেশ কয়েকজন কর্মীকেও পিঠে চড়-থাপ্পড় মারতে দেখা যায় তাঁকে।
“মানসিক ভারসাম্য নষ্ট হয়ে গিয়েছে ওঁর”— সুকান্ত মজুমদারের তীব্র আক্রমণ
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই চড় মারার ভিডিও এবং আচরণ প্রকাশ্যে আসতেই বিরোধী শিবিরের তরফে তীব্র রাজনৈতিক আক্রমণ শানানো হয়েছে। ঘটনার তীব্র নিন্দা করে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা সুকান্ত মজুমদার (Sukanta Majumdar) বলেন—
“বাংলা থেকে ক্ষমতা চলে যাওয়ার পর মানসিকভাবে সম্পূর্ণ বিভ্রান্ত হয়ে গেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই ধরনের আচরণ অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক হলেও তিনি এখন এটাই করছেন। তাঁর মানসিক ভারসাম্য পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গিয়েছে। বাংলার মানুষ যে তাঁকে ক্ষমতা থেকে ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছেন, এই বাস্তবটা তিনি এখনও কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না। সেই হাতাশাই চড়ের মাধ্যমে প্রকাশ পাচ্ছে।”
[হাজরা মোড়ে তৃণমূলের মিছিল ও চড় বিতর্কের টাইমলাইন]
* দুপুর: কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ মেনে বালিগঞ্জ ফাঁড়ি থেকে কালীঘাট তৃণমূলের মিছিল শুরু।
* মিছিলের মাঝে: ‘চোর চোর’ স্লোগান এবং ‘মাছ চোর’ গানকে কেন্দ্র করে তৃণমূল-বিজেপি ব্যাপক সংঘর্ষ।
* বিকেল: পরিস্থিতি সামলাতে কালীঘাটের বাড়ি থেকে রাস্তায় নামলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
* চরম মুহূর্ত: বাড়ির সামনের বিশৃঙ্খলা ও ঠেলাঠেলিতে মেজাজ হারিয়ে দলের কর্মীকে কষিয়ে চড় মারলেন নেত্রী।
* রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া: মমতার মানসিক ভারসাম্য বিঘ্নিত হয়েছে বলে তোপ দাগলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার।
পুলিশের নিন্দা মমতার, বারুইপুরের আসামিদের ‘প্রতিবাদী’ তকমা!
নিজের বাড়ির বাইরে দাঁড়িয়ে পুলিশের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি উষ্মা প্রকাশ করে বলেন, “হাইকোর্টের স্পষ্ট অনুমতি নিয়ে আমাদের ছাত্র-যুবরা আজ শান্তিপূর্ণ মিছিল করছিল। সকলেরই গণতান্ত্রিক অধিকার রয়েছে। কিন্তু আমার বাড়ির সামনে বিজেপির গুন্ডারা বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে, চিৎকার করছে, আমাকে ভয় দেখানোর চেষ্টা করছে! পুলিশ কী করছে?”
এখানেই শেষ নয়, নিজের বক্তব্যে বারুইপুর-কাণ্ডের ‘দাঙ্গাকারী’দের একপ্রকার ‘প্রতিবাদী’ বলেও উল্লেখ করেন মমতা। বর্তমান রাজ্য সরকারের উদ্দেশ্যে ক্ষোভ উগরে দিয়ে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আগে ভালো করে সরকার চালানো শিখুন, তারপর কথা বলবেন।”
এক নজরে হাজরার মিছিল ও মমতার চড় বিতর্ক:
| বিষয়ের ক্ষেত্র | মাঠের ভেতরের ঘটনা ও রাজনৈতিক তরজা |
| মিছিলের উদ্যোক্তা | কালীঘাট তৃণমূলের ছাত্র-যুব সংগঠন (হাইকোর্টের অনুমতিপ্রাপ্ত)। |
| মিছিলের মূল ইস্যু | বারুইপুর-কাণ্ডের (Baruipur Incident) প্রতিবাদ। |
| উত্তেজনার কারণ | মিছিলের একপাশ থেকে ‘মাছ চোর’ গান ও বিজেপি-তৃণমূল সংঘর্ষ। |
| মমতার পদক্ষেপ | বাড়ি থেকে বেরিয়ে বিশৃঙ্খলা রুখতে গিয়ে নিজের কর্মীকে সপাটে চড়। |
| বিজেপির কটাক্ষ | ক্ষমতা হারানোর অপমানে মানসিক ভারসাম্য হারিয়েছেন মমতা (সুকান্ত মজুমদার)। |
বারুইপুর কাণ্ড নিয়ে এমনিতেই রাজ্য রাজনীতি তোলপাড়, তার ওপর বুধবার হাজরার এই মিছিল এবং খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মেজাজ হারিয়ে দলের কর্মীকে চড় মারার ঘটনা জল আরও ঘোলা করল। ক্ষমতা থেকে চ্যুত হওয়ার পর থেকে তৃণমূলের অন্দরে যে এক ধরণের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, আজকের এই ঘটনা যেন তারই বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। একদিকে পুলিশের ব্যর্থতার অভিযোগ, অন্যদিকে প্রকাশ্য রাস্তায় প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর এই ‘মারকুটে’ অবতার— আগামী দিনে শাসক ও বিরোধী শিবিরের লড়াইকে যে আরও উস্কে দিল, তা বলাই বাহুল্য।






