Jaipur Daughter Killed Mother for Job: সম্পত্তির লোভ ও মায়ের সরকারি চাকরি কেড়ে নিতে ৭ লক্ষের সুপারি! জয়পুরে জন্মদাত্রীকে গাড়ি চাপা দিয়ে মারল ২৩ বছরের মেয়ে

source : এইসময় অনলাইন
বলিউডের অত্যন্ত জনপ্রিয় সিনেমার একটি গানে বলা হয়েছিল—‘না বাপ বড়া, না মাইয়া, দ্য হোল থিঙ্ক ইজ় দ্যাট কে ভাইয়া, সবসে বড় রূপাইয়া’। অর্থাৎ টাকা ও সম্পদের সামনে রক্তের সম্পর্ক যে কতটা ফিকে এবং মূল্যহীন হয়ে যেতে পারে, তার এক হাড়হিম করা উদাহরণ সামনে এল রাজস্থানের জয়পুরে (Jaipur, Rajasthan)। লোভের বশে এক জন্মদাত্রী মাকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেওয়ার নারকীয় ব্লুপ্রিন্ট তৈরি করল তাঁরই একমাত্র ২৪ ছুঁইছুঁই কন্যা। সরকারি চাকরি এবং পারিবারিক সম্পত্তি হাতানোর পথে ‘কাঁটা’ দূর করতে মাকে খুনের ছক কষার অভিযোগে গ্রেপ্তার ২৩ বছরের এক তরুণী।
দুর্ঘটনা নয়, ৭ লক্ষ টাকার সুপারি কিলিং!
পুলিশের দাবি, এটি কোনো সাধারণ পথ দুর্ঘটনা ছিল না। এটি ছিল ঠান্ডা মাথায় করা একটি সুপরিকল্পিত মার্ডার বা হিট অ্যান্ড রান কেস। নিহত মহিলার নাম নীরজ শর্মা ( Neeraj Sharma)। তিনি জয়পুরের একটি নিম্ন আদালতে লোয়ার ডিভিশন ক্লার্ক (LDC) পদে কর্মরত ছিলেন।
গত ৩ জুলাই প্রতাপ নগর এলাকায় নিজের ছেলেকে কোচিং সেন্টারে ছেড়ে স্কুটার নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন নীরজ। সেই সময় একটি কালো রঙের স্করপিও গাড়ি তীব্র গতিতে এসে পেছন থেকে তাঁকে সজোরে ধাক্কা মারে। ছিটকে অনেক দূরে গিয়ে পড়েন তিনি এবং ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। প্রথমে পুলিশ একে হিট অ্যান্ড রান দুর্ঘটনা হিসেবে মামলা করলেও, নীরজের ভাইয়ের ডায়েরির ভিত্তিতে সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজ খতিয়ে দেখতেই তদন্তকারীদের চোখ কপালে ওঠে।
সহানুভূতিশীল চাকরি ও ক্ষোভের নেপথ্য কাহিনি
তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, মূল চক্রী আসলে নীরজের একমাত্র মেয়ে আয়ুষী শর্মা (Ayushi Sharma)। প্রায় এক বছর আগে আয়ুষীর বাবা বিজয় শর্মার আকস্মিক মৃত্যু হয়। বিজয়বাবু সরকারি চাকরি করায় তাঁর মৃত্যুর পর পরিবারের একজনকে সহানুভূতিমূলক নিয়োগের (Compassionate Appointment) ভিত্তিতে চাকরি দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।
মেয়ে আয়ুষী ভেবেছিল চাকরিটি সে পাবে। কিন্তু যোগ্যতা ও পরিস্থিতির নিরিখে মা নীরজ শর্মা নিজেই সেই চাকরিটি গ্রহণ করেন। মায়ের এই সিদ্ধান্ত কোনোভাবেই মেনে নিতে পারেনি আয়ুষী। মোটা মাইনের সরকারি চাকরি হাতছাড়া হওয়া এবং সম্পত্তি নিজের নামে করতে না পারার চরম ক্ষোভ থেকেই মায়ের ওপর প্রতিশোধ নেওয়ার পরিকল্পনা শুরু করে সে।
[জয়পুর মা খুনের মামলার চাঞ্চল্যকর তথ্য]
* মাস্টারমাইন্ড: ২৩ বছর বয়সী মেয়ে আয়ুষী শর্মা।
* খুনের মোটিভ: বাবার মৃত্যুর পর মায়ের পাওয়া এলডিসি (LDC) চাকরি ও সম্পত্তি দখল।
* খুনের চুক্তি: ভরতপুরের হেমন্ত শর্মাকে ৭ লক্ষ টাকার সুপারি।
* রেকি করার স্টাইল: প্রথমে থার (Thar) গাড়ি ভাড়া করে ১ মাস ধরে মায়ের গতিবিধির ওপর নজরদারি।
কাকা ও ভাইয়ের সাথে হাত মিলিয়ে মারাত্মক ব্লুপ্রিন্ট
মায়ের ওপর নজরদারি চালাতে আয়ুষী পাশে পেয়ে যায় তার নিজের কাকা মোহন স্বরূপ এবং খুড়তুতো ভাই বলরাম ওরফে রবিকে। তাঁরাও সম্পত্তির ভাগ পেতে এই ষড়যন্ত্রে শামিল হন। এরপর ভরতপুরের পেশাদার অপরাধী হেমন্ত শর্মাকে ৭ লক্ষ টাকার বিনিময়ে নীরজ শর্মাকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেওয়ার দায়িত্ব বা সুপারি দেওয়া হয়।
অভিযুক্তরা এতটাই চতুর ছিল যে, তারা প্রথমে একটি ‘থার’ গাড়ি ভাড়া করে প্রায় এক মাস ধরে নীরজের ডিউটি ও যাতায়াতের রুটের ওপর রেকি চালায়। থার গাড়িতে কয়েকবার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হওয়ার পর, অবশেষে ৩ জুলাই ঘাতক স্করপিও গাড়ি দিয়ে মিশন সফল করে সুপারি কিলাররা।
নীরজ শর্মার ভাই রাকেশ কুমার শর্মা পুলিশকে জানান, সম্পত্তি সংক্রান্ত বিবাদের কারণে নীরজকে দীর্ঘদিন ধরে আয়ুষী ও তার শ্বশুরবাড়ির একাংশ মানসিকভাবে হেনস্থা করছিল। এমনকী তাঁকে একাধিকবার প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়েছিল।
এক নজরে জয়পুরের মা খুনের মামলা:
| বিষয়ের ক্ষেত্র | মামলার মূল বিবরণ ও পুলিশি আপডেট |
| নিহত ব্যক্তিত্ব | নীরজ শর্মা (৪৫), জয়পুর আদালতের ক্লার্ক। |
| প্রধান অভিযুক্ত | আয়ুষী শর্মা (২৩), নিহতের একমাত্র কন্যা। |
| সহ-অভিযুক্ত | কাকা মোহন স্বরূপ ও খুড়তুতো ভাই বলরাম। |
| খুনের অস্ত্র/বাহন | সুপারি কিলারের দ্রুতগতির স্করপিও গাড়ি। |
| বর্তমান আইনি অবস্থা | আয়ুষীসহ ৭ জন পুলিশি হেফাজতে, ১ জন পলাতক। |
টাকার লোভ মানুষকে কতটা অন্ধ এবং পশুর চেয়েও অধম করে তুলতে পারে, জয়পুরের এই ঘটনাটি সমাজকে আরও একবার বড়সড় ধাক্কা দিল। যে মেয়েকে মা এত বছর ধরে বুকে আগলে বড় করলেন, সেই মেয়েই সামান্য সরকারি পদের মোহে মায়ের রক্তে হাত রাঙাতে দ্বিধা করল না। জয়পুর পুলিশ জানিয়েছে, ধৃত ৭ জনকে কঠোর জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি করা হচ্ছে। পলাতক ঘাতক গাড়ি চালক তথা অপর অভিযুক্তকে ধরতে চিরুনি তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ। ফাস্ট ট্র্যাক কোর্টে এই মামলার বিচার সম্পন্ন করে দোষী মেয়ে ও তার সহযোগীদের ফাঁসির সাজা দেওয়ার দাবি তুলেছেন নিহতের বাপের বাড়ির সদস্যরা।






