Siliguri School Video Controversy: মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ছবিতে থুতু, প্রস্রাব ও কুমন্তব্য! শিলিগুড়িতে গ্রেফতার একাদশ শ্রেণির ছাত্র, পাঠানো হলো জুভেনাইল কোর্টে

source : আনন্দবাজার
সমাজ মাধ্যমে সস্তা জনপ্রিয়তা বা ‘ভাইরাল’ হওয়ার চক্করে এবার চরম বিপাকে এক স্কুলছাত্র। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (CM Suvendu Adhikari) ছবি নিয়ে অত্যন্ত আপত্তিকর ও কুরুচিকর ভিডিও তৈরি করে পুলিশের জালে জড়াল একাদশ শ্রেণির এক পড়ুয়া। বুধবার চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে শিলিগুড়িতে। ১৭ বছর বয়সী ওই তরুণের এই ধৃষ্টতা সামনে আসতেই তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে জেলা জুড়ে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, ক্ষুব্ধ আমজনতার হাত থেকে বাঁচাতে পুলিশ তাকে আটক করে এবং পরে তার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
শ্রেণিকক্ষে তৈরি ভিডিও— নেটপাড়ায় তোলপাড়
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত ছাত্রটি শিলিগুড়ির তরাই তারাপদ আদর্শ বিদ্যালয়ের একাদশ শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় তার তৈরি একটি সংক্ষিপ্ত ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ, স্কুলের শ্রেণিকক্ষের ভেতরে বসে মোবাইল ফোন ব্যবহার করে সে এই ভিডিওটি বানিয়েছিল।
ভিডিওটিতে দেখা যায়, ছাত্রটি রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর একটি ছবিতে থুতু ছেটাচ্ছে, অত্যন্ত আপত্তিকরভাবে সেখানে প্রস্রাব করার অঙ্গভঙ্গি করছে এবং মুখ্যমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে একের পর এক কুরুচিকর ও কড়া রাজনৈতিক কুমন্তব্য ছুঁড়ে দিচ্ছে। একজন স্কুলপড়ুয়ার এমন কুরুচিকর মানসিকতা দেখে শিউরে ওঠেন নেটিজেনরা।
ডাবগ্রামের মাঠে ‘গণশাসন’ ও পুলিশের স্বতঃপ্রণোদিত মামলা
ভিডিওটি ভাইরাল হতেই তরাই তারাপদ স্কুলের প্রাক্তন ছাত্র এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভের আগুন জ্বলে ওঠে। বুধবার বিকেলে অভিযুক্ত ছাত্রটি ডাবগ্রামের একটি মাঠে বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিচ্ছিল। সেই সময় স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা ভিডিওটি দেখে তাকে শনাক্ত করেন এবং তাকে ঘিরে ধরে ‘শাসন’ করা শুরু করেন।
উত্তেজনা বাড়তে থাকায় যেকোনো সময় বড়সড় আইন-শৃঙ্খলার অবনতি বা গণপিটুনির আশঙ্কা তৈরি হয়। খবর পেয়েই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় শিলিগুড়ি থানার পুলিশ। জনরোষের হাত থেকে ছাত্রটিকে অক্ষত উদ্ধার করে তড়িঘড়ি থানায় নিয়ে আসা হয়। এরপর ঘটনার গুরুত্ব বিচার করে শিলিগুড়ি মেট্রোপলিটন পুলিশ ওই ছাত্রের বিরুদ্ধে স্বতঃপ্রণোদিত (Suo Motu) মামলা রুজু করে তাকে গ্রেফতার করে। নাবালক হওয়ায় বুধবারই তাকে জুভেনাইল কোর্টে পাঠানো হয়েছে।
[শিলিগুড়ি স্কুল ভিডিও বিতর্কের খতিয়ান]
* অভিযুক্ত: একাদশ শ্রেণির ১৭ বছর বয়সী ছাত্র।
* স্কুল: তরাই তারাপদ আদর্শ বিদ্যালয়, শিলিগুড়ি।
* মূল অপরাধ: মুখ্যমন্ত্রীর ছবি অবমাননা, কুরুচিকর ভিডিও ও সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচার।
* আইনি পদক্ষেপ: পুলিশের স্বতঃপ্রণোদিত মামলা ও জুভেনাইল কোর্টে প্রেরণ।
কাঠগড়ায় স্কুল, কী বলছেন প্রধান শিক্ষক?
এই অনভিপ্রেত ঘটনার পর স্কুলের নিরাপত্তা ও নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে তোপ দেগেছেন ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা। বর্তমানে ওই স্কুলে কোনো নির্বাচিত পরিচালন সমিতি নেই, সরকারি প্রশাসক দিয়ে স্কুল চালানো হচ্ছে।
পুরো বিষয়ে স্কুলের প্রধান শিক্ষক অশোক নাথ তীব্র নিন্দা প্রকাশ করে বলেন—
“এটি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক এবং নিন্দাজনক ঘটনা। একজন ছাত্রের কাছ থেকে এমন আচরণ কখনোই কাম্য নয়। প্রাথমিক তদন্তে জানতে পেরেছি, ঘটনাটি টিফিনের সময় ক্লাসরুমে ঘটেছিল। তখন শিক্ষক-শিক্ষিকারা কেউ ক্লাসে উপস্থিত ছিলেন না। তবে আমাদের স্কুলে মোবাইল ফোন আনা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। কড়া নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও কীভাবে ওই ছাত্রটি মোবাইল নিয়ে স্কুলের ভেতরে ঢুকেছিল, তা আমরা খতিয়ে দেখছি এবং ওর বিরুদ্ধে স্কুল স্তরেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
শিলিগুড়ির পুলিশ কমিশনার সৈয়দ ওয়াকার রাজা সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, আইন অনুযায়ী ছাত্রকে জুভেনাইল কোর্টে পাঠানো হয়েছে৷ আদালত আগামী দিনে যে নির্দেশ বা সিদ্ধান্ত নেবে, সেই অনুযায়ী পুলিশ পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
এক নজরে মুখ্যমন্ত্রীর ছবি অবমাননা মামলা:
| বিষয়ের ক্ষেত্র | শিলিগুড়ির ঘটনার মূল বিবরণ |
| অভিযুক্তের বয়স ও ক্লাস | ১৭ বছর, একাদশ শ্রেণি (Class 11)। |
| অভিযোগের ধরন | মুখ্যমন্ত্রীর ছবিতে থুতু ফেলা, প্রস্রাব করা ও কুরুচিকর ট্রোলিং। |
| উদ্ধারস্থল | ডাবগ্রামের মাঠ (জনরোষের মুখ থেকে পুলিশ উদ্ধার করে)। |
| পুলিশের ভূমিকা | স্বতঃপ্রণোদিত মামলা দায়ের করে জুভেনাইল জাস্টিস বোর্ডে পেশ। |
| স্কুলের অবস্থান | টিফিনের ফাঁকে মোবাইল ব্যবহারের বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস। |
সোশ্যাল মিডিয়ার লাইক আর কমেন্টের লোভে আজকের যুবসমাজ কতটা নিচে নামতে পারে, শিলিগুড়ির এই ঘটনা যেন তারই এক জ্বলন্ত প্রমাণ। রাজনৈতিক মতাদর্শ ভিন্ন হতেই পারে, কিন্তু সাংবিধানিক পদে থাকা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর প্রতি একজন স্কুলপড়ুয়ার এই চরম অসম্মানজনক আচরণ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। সস্তা জনপ্রিয়তার এই বিপজ্জনক প্রবণতা রুখতে এবং আগামী দিনে ছাত্রছাত্রীদের সঠিক দিশা দেখাতে স্কুল ও পরিবার— উভয় পক্ষকেই আরও সচেতন হতে হবে বলে মনে করছেন শিক্ষাবিদরা।






