US Techie Arrested for Wife Murder: পরকীয়া লুকাতে স্ত্রীকে শ্বাসরোধ করে খুন! প্রমাণ দিতে লাশের ছবি ভারতে প্রেমিকাকে পাঠালেন ওয়াশিংটনের ভারতীয় সফ্টঅয়্যার ইঞ্জিনিয়ার

source : আনন্দবাজার
পরকীয়া সম্পর্কের টান আর পরবাসে স্ত্রীর কাঁটা দূর করার এক নৃশংস মানসিকতার সাক্ষী হলো আমেরিকার ওয়াশিংটন। ভারতে থাকা প্রেমিকাকে নিজের ‘বীরত্ব’ আর ভালোবাসার প্রমাণ দিতে নিজের বিবাহিতা স্ত্রীকে খুন করে লাশের ছবি পাঠানোর মতো এক ভয়ানক অপরাধের ঘটনা সামনে এসেছে। এই ঘটনায় আমেরিকায় কর্মরত সেই ভারতীয় ইঞ্জিনিয়ারকে গ্রেফতার করল ওয়াশিংটন পুলিশ। ধৃত যুবকের বিরুদ্ধে ঠান্ডা মাথায় খুনের মামলা রুজু করে আদালতে চার্জশিট পেশ করা হয়েছে।
সাজানো দুর্ঘটনার আড়ালে লুকিয়ে ছিল শ্বাসরোধের নৃশংসতা
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত ভারতীয় যুবকের নাম অবিনাশ নার্নে। তিনি ওয়াশিংটনের একটি নামী সংস্থায় সফ্টঅয়্যার ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ার (Software Development Engineer) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। গত বছরের ৫ জুন রাজিতা সাব্বিনেনির সঙ্গে ধুমধাম করে সম্বন্ধ করে বিয়ে হয়েছিল অবিনাশের। বিয়ের পর রাজিতাকে নিজের কর্মস্থল আমেরিকায় নিয়ে আসেন তিনি। কিন্তু সুখের সংসার বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। গত বছরের ২৭ অক্টোবর অবিনাশ নিজেই মার্কিন পুলিশকে ফোন করে জানান যে, তাঁর স্ত্রী বাথরুমে আটকে পড়েছেন এবং কোনো সাড়াশব্দ দিচ্ছেন না।
ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছে বাথরুমের দরজা ভেঙে রাজিতাকে অচৈতন্য অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। অবিনাশ পুলিশকে জানিয়েছিলেন—
“আমি ৪০ মিনিটের জন্য জরুরি কাজে বাইরে গিয়েছিলাম। বাড়ি ফিরে দেখি বাথরুমের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ। অনেক ডাকাডাকির পরও স্ত্রী সাড়া না দেওয়ায় পুলিশকে জানাই।”
কিন্তু তদন্তকারীরা বাড়ির সিসিটিভি এবং ডিজিটাল লক পরীক্ষা করে দেখেন, অবিনাশ যে সময় বাইরে থাকার দাবি করেছিলেন, সে সময় ওই বাড়িতে বাইরের কোনো ব্যক্তি প্রবেশ করেননি। এর পরের দিনই ময়নাতদন্তের (Autopsy) রিপোর্টে পরিষ্কার হয়ে যায় যে, রাজিতার মৃত্যু স্বাভাবিক বা কোনো দুর্ঘটনাজনিত কারণে হয়নি, তাঁকে গলা টিপে শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়েছে।
বিয়ের মণ্ডপে ‘বন্ধু’ সেজে হাজির প্রেমিকা, খুনের দিনই ছবি আদান-প্রদান
তদন্ত যত এগোয়, অবিনাশের জীবনের এক অন্ধকার অধ্যায় পুলিশের সামনে উন্মোচিত হতে থাকে। ওয়াশিংটন পুলিশ জানতে পারে, ভারতে থাকার সময় থেকেই অবিনাশের এক তরুণীর সঙ্গে দীর্ঘদিনের গভীর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সেই সম্পর্ক লুকিয়েই পরিবারের পছন্দে রাজিতাকে বিয়ে করেন তিনি। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয়, অবিনাশ ও রাজিতার বিয়েতে বন্ধু পরিচয় দিয়ে হাজির ছিলেন অবিনাশের সেই প্রেমিকাও!
বিয়ের পর আমেরিকায় চলে গেলেও প্রেমিকার সঙ্গে অবিনাশের নিয়মিত যোগাযোগ, চ্যাটিং ও ভিডিও কল চলত। রাজিতা এই সম্পর্কের কথা জেনে ফেলার পর থেকেই তাঁদের সংসারে অশান্তি শুরু হয়। তদন্তে মার্কিন গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন, গত বছরের অক্টোবরের যে দিন রাজিতাকে খুন করা হয়, ঠিক সেই দিনই খুনের আগে ও পরে ভারতের ওই প্রেমিকার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন অবিনাশ। স্ত্রীকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দিয়েছেন, তার অকাট্য প্রমাণ দিতে রাজিতার মৃতদেহের ছবি তিনি প্রেমিকাকে আন্তর্জাতিক মেসেজিং অ্যাপের মাধ্যমে পাঠিয়েছিলেন।
[ওয়াশিংটন ভারতীয় ইঞ্জিনিয়ার খুনের মামলার টাইমলাইন]
* ৫ জুন, ২০২৫: রজিতা সাব্বিনেনির সঙ্গে অবিনাশ নার্নের বিয়ে।
* ২৭ অক্টোবর, ২০২৫: বাথরুমে স্ত্রীর রহস্যমৃত্যুর নাটক ও পুলিশের কাছে অবিনাশের ফোন।
* ২৮ অক্টোবর, ২০২৫: ময়নাতদন্তের রিপোর্টে শ্বাসরোধ করে খুনের প্রমাণ।
* মে-জুন, ২০২৬: ডিজিটাল ফরেনসিক তদন্তে প্রেমিকার ফোনে লাশের ছবি পাঠানোর বিস্ফোরক তথ্য উদ্ধার।
* ৫ জুলাই, ২০২৬: ৯ মাসের দীর্ঘ তদন্তের পর অবিনাশের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট পেশ।
৯ মাসের টানাপোড়েন শেষে মার্কিন পুলিশের জালে অবিনাশ
আমেরিকার মাটিতে এই ধরনের হাই-প্রোফাইল ডিজিটাল ক্রাইমের কিনারা করতে ওয়াশিংটন পুলিশ ভারতের সংশ্লিষ্ট এজেন্সির সাহায্য এবং অবিনাশের সমস্ত চ্যাট ও ক্লাউড ডেটা রিকভারি করে। দীর্ঘ ৯ মাস ধরে সমস্ত তথ্যপ্রমাণ এবং ডিজিটাল ফরেনসিক রিপোর্ট খতিয়ে দেখার পর, অবশেষে অবিনাশের অপরাধের অকাট্য প্রমাণ হাতে পায় পুলিশ।
অবিনাশকে গ্রেফতার করার পর গত ৫ জুলাই তাঁর বিরুদ্ধে মার্কিন আদালতে ফার্স্ট ডিগ্রি মার্ডারের (First-Degree Murder) ধারায় কয়েক হাজার পাতার চার্জশিট জমা দিয়েছে পুলিশ। এই মামলায় ভারতের ওই প্রেমিকার কী ভূমিকা ছিল বা তিনি এই খুনে প্ররোচনা দিয়েছিলেন কি না, তাও খতিয়ে দেখছেন আন্তর্জাতিক তদন্তকারীরা।
এক নজরে ওয়াশিংটনে স্ত্রী খুনের মামলা:
| বিষয়ের ক্ষেত্র | মামলার মূল তথ্য ও খতিয়ান |
| অভিযুক্তের নাম | অবিনাশ নার্নে (সফ্টঅয়্যার ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ার)। |
| নিহত স্ত্রী | রজিতা সাব্বিনেনি (বিবাহের বয়স মাত্র ৪ মাস)। |
| খুনের মোটিভ | ভারতে থাকা প্রেমিকার সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্ক বজায় রাখা। |
| খুনের মোডাস অপারেন্ডি | বাথরুমে শ্বাসরোধ করে খুন ও ছবি প্রেমিকাকে পাঠানো। |
| বর্তমান আইনি অবস্থা | ওয়াশিংটন পুলিশের হেফাজতে অভিযুক্ত, ৫ জুলাই চার্জশিট পেশ। |
প্রেমের নামে নিজের বিবাহিতা স্ত্রীকে খুন করে সেই ছবি প্রেমিকাকে পাঠানোর মতো বিকৃত মানসিকতা আইটি সেক্টরের একজন উচ্চশিক্ষিত যুবকের হতে পারে, তা ভেবেই শিউরে উঠছেন মার্কিন প্রবাসী ভারতীয়রা। অবিনাশ ভেবেছিলেন সুদূর আমেরিকায় বসে নিখুঁত অপরাধ করে পার পেয়ে যাবেন, কিন্তু ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট এবং ময়নাতদন্তের রিপোর্টের জেরেই তাঁর সাজানো বাথরুম তত্ত্ব খড়কুটোর মতো উড়ে গেল। মার্কিন আইন অনুযায়ী, এই ধরনের ঠান্ডা মাথার খুনের ক্ষেত্রে অবিনাশের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ শাস্তির সম্ভাবনা রয়েছে।






