Argentina vs Egypt Referee Controversy: মেসিদের বিদায় ঠেকাতেই কি রেফারি-ভিএআর-এর ষড়যন্ত্র? আর্জেন্টিনা-মিশর ম্যাচের নজিরবিহীন ‘ইনজাস্টিস’ নিয়ে তোপ মোরিনহো-শিয়ারারের

source : সংবাদ প্রতিদিন
চলতি বিশ্বকাপে টুকরো-টাকরা রেফারিং বিতর্ক অবধারিতভাবেই ছিল, কিন্তু শেষ ষোলোর আর্জেন্টিনা বনাম মিশর (Argentina vs Egypt) হাইভোল্টেজ ম্যাচের পর সেই বিতর্ক যেন এভারেস্ট-সম রূপ নিয়েছে। আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে লিওনেল মেসিদের (Lionel Messi) মহাকাব্যিক কামব্যাকের নেপথ্যে আসলে মাঠের ফুটবল নয়, বরং রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়েরের একটার পর একটা বিতর্কিত সিদ্ধান্ত কাজ করেছে বলে তোলপাড় বিশ্ব ফুটবল। ম্যাচ শেষে মাঠেই ক্ষোভে ফেটে পড়ে মিশরীয় শিবির। কোচ হোসেম হাসান থেকে শুরু করে ফরোয়ার্ড মোস্তাফা জিকো— প্রকাশ্যেই ফিফার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের গুরুতর অভিযোগ তুলে দিয়েছেন। তাঁদের সাফ কথা, টুর্নামেন্ট থেকে আর্জেন্টিনার মতো বড় দল যাতে বিদায় না নেয়, তার বলি করা হয়েছে মিশরের মতো আন্ডারডগকে।
গোল বাতিল ও সালাহর পেনাল্টি মিস: রেফারির যে ৩ সিদ্ধান্তে তোলপাড়
ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে তখন মিশর দুর্দান্ত ফুটবল খেলছিল। ঠিক এমন সময় কাউন্টার অ্যাটাক থেকে মিশরের মোস্তাফা জিকো (Mostafa Ziko) এক অনবদ্য গোল করে দলকে এগিয়ে দেন। কিন্তু সবাইকে স্তম্ভিত করে দিয়ে রেফারি ‘ভার’ (VAR) দেখে গোলটি বাতিল করেন। যুক্তি দেওয়া হয়, আক্রমণের অনেক আগে মাঝমাঠে আর্জেন্টিনার লিসান্দ্রো মার্টিনেজের পায়ের পাতায় বুটের স্টাড লেগেছিল।
বিতর্কের আগুন আরও বাড়ে যখন ম্যাচের পরের দিকে আর্জেন্টিনার বক্সে মিশরীয় মহাতারকা মহম্মদ সালাহকে (Mohamed Salah) প্রায় একই রকমভাবে আঘাত করেন জুলিয়ান আলভারেজ। কিন্তু সেটিকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করেন রেফারি। এরপর আর্জেন্টিনার তৃতীয় গোলের ঠিক আগে মিশরের বক্সে হামদি ফাথির জার্সি টেনে ফেলে দেন আর্জেন্টিনার অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার। রেফারি খেলা চালিয়ে যান এবং সেখান থেকেই আর্জেন্টিনা পাল্টা আক্রমণে গোল করে ম্যাচ জিতে নেয়।
“ভিএআর নিজের এক্তিয়ারের বাইরে কাজ করেছে”— সরব আন্তর্জাতিক রেফারিরা
ফরাসি রেফারি ও ভিএআর-এর এই পক্ষপাতিত্ব নিয়ে সরব হয়েছেন প্রাক্তন রেফারিরাও। প্রিমিয়ার লিগের প্রাক্তন রেফারি গ্রাহাম স্কট স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন—
“জিকোর গোলটা ১০০ শতাংশ ন্যায্য ছিল। লিসান্দ্রোর সাথে সংঘর্ষটা কোনোভাবেই ফাউল ছিল rescind করার মতো নয়। তাছাড়া ঘটনাটি ঘটেছে আর্জেন্টিনার গোলের ঠিক উল্টো প্রান্তে। ভিএআর গোল থেকে এত দূরের ঘটনার জন্য হস্তক্ষেপ করতে পারে না। এখানে ভিএআর নিজের এক্তিয়ারের বাইরে গিয়ে কাজ করেছে।”
গত কাতার বিশ্বকাপের ফাইনালের ভিএআর প্রধান তথা মেক্সিকান রেফারি ফের্নান্দো গুরেইরোও (Fernando Guerrero) মানছেন যে আর্জেন্টিনা রেফারির দয়ায় পার পেয়েছে। তিনি বলেন, “জিকোর গোলের আগে কোনো ফাউলই হয়নি। তাছাড়া ওই ফাউল ও গোলের মাঝে আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডাররা বল কাড়ার ৩ বার সুযোগ পেয়েছিল। ভিএআরের নিয়ম হলো— যদি ফাউল এবং গোলের মাঝে সময়ের ব্যবধান খুব কম থাকে, তবেই গোল বাতিল করা যায়। এখানে ‘ভার’ ব্লান্ডার করেছে এবং তার মাশুল দিতে হয়েছে মিশরকে।”
[আর্জেন্টিনা বনাম মিশর: বিতর্কিত ভিএআর ফ্যাক্টস]
* মিশরের বাতিল গোল: মোস্তাফা জিকোর কাউন্টার অ্যাটাক গোল (ভিএআর দ্বারা বাতিল)।
* গোল বাতিলের কারণ: গোল হওয়ার অনেক আগে মাঝমাঠে লিসান্দ্রো মার্টিনেজের ওপর কথিত ফাউল।
* পেনাল্টি বঞ্চিত মিশর: বক্সে মহম্মদ সালাহ ও হামদি ফাথিকে ফাউল করলেও রেফারি নীরব।
* বিতর্কিত উইনিং গোল: ম্যাক অ্যালিস্টারের ফাউল এড়িয়ে আর্জেন্টিনার ম্যাচ জয়ী গোল।
“ম্যাচের ফলাফল আগে থেকেই স্ক্রিপ্টেড!”— বিস্ফোরক জোসে মোরিনহো
মাঠের এই নজিরবিহীন অবিচার দেখে ফুটবলের বাইরের বিদগ্ধ ব্যক্তিত্ব দাবাড়ু গ্যারি কাসপারভ থেকে শুরু করে ইংল্যান্ডের কিংবদন্তি অ্যালেন শিয়ারারও (Alan Shearer) ফিফাকে কাঠগড়ায় তুলেছেন। তবে সবচেয়ে চাঁচাছোলা ভাষায় আক্রমণ শানিয়েছেন ‘দ্য স্পেশাল ওয়ান’ জোসে মোরিনহো (Jose Mourinho)।
মোরিনহো তাঁর প্রতিক্রিয়ায় ফুটবলের অন্ধকার দিকটি তুলে ধরে বলেন—
“আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে ২-০ গোলে এগিয়ে থাকাটাও আজকাল আর যথেষ্ট নয়। কারণ আপনাকে মাঠে শুধু ১১ জনের বিরুদ্ধে লড়তে হচ্ছে না, আপনাকে লড়তে হচ্ছে রেফারি আর ভিএআর-এর বিরুদ্ধেও। জিকোর ওই অসাধারণ গোলটা যেকোনো মূল্যে বাতিল করার নির্দেশ ছিল, তাই ভিএআর অতটা পেছনে গিয়ে কারণ খুঁজে বের করল। আর সালাহকে যেভাবে বক্সে ফাউল করা হলো, ওটা পরিষ্কার পেনাল্টি ছিল। সেটা দিলে মিশর জিতে যেত। পুরোটাই এখন একটা সিনেমার মতো— যেখানে ম্যাচের স্ক্রিপ্ট এবং ফলাফল আগে থেকেই নির্ধারিত করা থাকে।”
এক নজরে আর্জেন্টিনা-মিশর ম্যাচ স্ক্যান্ডাল:
| বিষয়ের ক্ষেত্র | রেফারিং ও ভিএআর-এর বিতর্কিত ভূমিকা |
| ম্যাচ ও পর্যায় | বিশ্বকাপ ২০২৬, শেষ ষোলো (Round of 16)। |
| মূল ভুক্তভোগী | মিশর জাতীয় ফুটবল দল (কোচ: হোসেম হাসান)। |
| সুবিধাভোগী দল | লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা। |
| প্রধান রেফারি | ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়ের (ফ্রান্স)। |
| সমালোচকদের প্যানেল | জোসে মোরিনহো, অ্যালেন শিয়ারার, গ্রাহাম স্কট, ফের্নান্দো গুরেইরো। |
মেসি এবং আর্জেন্টিনার বিশ্বব্যাপী আকাশছোঁয়া জনপ্রিয়তাই কি তবে ফুটবলের নিরপেক্ষতাকে গিলে খেল? মোরিনহো বা মিশরের কোচের করা ‘ম্যাচ স্ক্রিপ্টেড’ হওয়ার অভিযোগ হয়তো ফিফা উড়িয়ে দেবে, কিন্তু বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীর চোখে এই ম্যাচের রেফারিং ফুটবলের ইতিহাসে অন্যতম বড় কালো দাগ হিসেবে থেকে যাবে। মাঠের লড়াইয়ে বীরের মতো লড়েও রেফারি এবং প্রযুক্তির মারপ্যাঁচে মিশরের এই ছিটকে যাওয়া বিশ্বকাপের স্পোর্টিং স্পিরিটকেই বড়সড় ধাক্কা দিল।






