US Attacks Iran in Hormuz: ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে ইরানে আমেরিকার বড়সড় সামরিক হানা! হরমুজ প্রণালীতে পণ্যবাহী জাহাজে হামলার প্রত্যাঘাতে উত্তপ্ত পশ্চিম এশিয়া

source : আনন্দবাজার
নতুন করে তীব্র উত্তেজনার আগুনে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে পশ্চিম এশিয়া। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কড়া হুঁশিয়ারির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বুধবার মধ্যরাতে ইরানে একযোগে নতুন করে বড়সড় সামরিক হামলা চালাল আমেরিকা। হরমুজ় প্রণালীর কাছে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের উপর্যুপরি হামলার কড়া প্রত্যাঘাত হিসেবে এই বিধ্বংসী সামরিক অপারেশন শুরু করেছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (US Central Command)। এই হামলার জেরে ইরানের একাধিক বন্দর ও উপকূলীয় শহরে তীব্র বিস্ফোরণের পাশাপাশি কৌশলগত চাবাহার বন্দর এলাকায় বিদ্যুৎ বিপর্যয় দেখা দিয়েছে।
মধ্যরাতের বোমাবর্ষণ— মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের এক্স-পোস্ট
বুধবার রাতে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে ইরানে বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর নিশ্চিত করেছে। এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডলে দেওয়া এক বিবৃতিতে মার্কিন সেনা জানায়—
“প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি নির্দেশে আমাদের বাহিনী হরমুজ় প্রণালীতে আন্তর্জাতিক নিয়ম লঙ্ঘনকারী ইরানের বিরুদ্ধে হামলা শুরু করেছে। তাদের এই আস্ফালন অযৌক্তিক, বিপজ্জনক এবং পূর্ববর্তী অন্তর্বর্তীকালীন যুদ্ধবিরতির স্পষ্ট লঙ্ঘন। এই উস্কানির বিরুদ্ধে আমেরিকার সশস্ত্র বাহিনী কঠোরতম ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হয়েছে।”
তুর্কির আঙ্কারায় নেটো (NATO) শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে ট্রাম্প নিজেই এই হামলার ব্লুপ্রিন্ট ঘোষণা করে বলেন, “হরমুজ় প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ লক্ষ্য করে ইরান ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ছে, ওরা খুব খারাপ আচরণ করছে। গত রাতে ওদের কঠিন আঘাত করেছি। আজ রাতে ওদের আরও কঠিন ও বড় ধরনের আঘাত করতে চলেছি।” তবে ট্রাম্প এটিও স্পষ্ট করেছেন যে এই হামলা দীর্ঘমেয়াদী কোনো যুদ্ধের রূপ নেবে না, যা ঘটার তা খুব দ্রুত ঘটে যাবে।
কাঁপল চাবাহার-বন্দর আব্বাস, ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা সক্রিয়
ইরানের স্থানীয় সংবাদসংস্থা ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের সূত্র অনুযায়ী, বুধবার মধ্যরাতের পর দক্ষিণ ইরানের উপসাগরীয় উপকূলের কাছাকাছি দুটি প্রধান এলাকা ‘বন্দর আব্বাস’ এবং ‘সিরিকে’ প্রথম তীব্র বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। মার্কিন যুদ্ধবিমান ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের এই হামলার বিরুদ্ধে সঙ্গে সঙ্গে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে বন্দর আব্বাস এলাকার আকাশে নিজেদের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা (Air Defense System) সক্রিয় করে তোলে ইরানি বাহিনী।
একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে কোনারাক এবং ভারতের সহায়তায় তৈরি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘চাবাহার’ বন্দর এলাকাও। চাবাহারের একাধিক সামরিক ও কৌশলগত ঘাঁটিতে মার্কিন বোমাবর্ষণের পর পরই নিরাপত্তার কারণে চাবাহারের কিছু অংশে সম্পূর্ণ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়।
[আমেরিকা-ইরান সংঘাত: যুদ্ধক্ষেত্রের সর্বশেষ খতিয়ান]
* মূল হামলার উস্কানি: হরমুজ প্রণালীতে ভারতমুখী জাহাজসহ ৩টি পণ্যবাহী জাহাজে হামলা।
* মার্কিন টার্গেট এলাকা: দক্ষিণ ইরানের বন্দর আব্বাস, সিরিক, কোনারাক ও চাবাহার।
* ইরানের যুদ্ধ ক্ষতি: চাবাহার এলাকার বিস্তীর্ণ অংশে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন।
* ট্রাম্পের পরবর্তী হুমকি: ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র, ডিস্যালিনেশন প্ল্যান্ট এবং তেল উৎপাদন কেন্দ্র ‘খার্গ দ্বীপ’ দখল করার হুমকি।
কুয়েত-বাহরিনে পাল্টা আঘাত ইরানের, মাথা নত না করার বার্তা
মার্কিন এই আগ্রাসনের মুখে ইরানও হাত গুটিয়ে বসে থাকেনি। বুধবার ভোর রাত থেকেই আমেরিকার হামলার জবাব দিতে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন মার্কিন ফৌজের ওপর প্রত্যাঘাত শুরু করেছে ইরান সমর্থিত বাহিনী ও ইরানি রেভল্যুশনারি গার্ড। ওমান ও পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের বাহরিন এবং কুয়েতে অবস্থিত আমেরিকার প্রধান সামরিক ঘাঁটিগুলি লক্ষ্য করে পাল্টা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও আত্মঘাতী ড্রোন ছুড়েছে ইরান।
ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার এবং দেশটির স্থায়ী যুদ্ধবিরতি আলোচনার অন্যতম প্রধান স্থপতি মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ মার্কিন হামলাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে এক্স হ্যান্ডলে একটি কড়া পোস্ট করেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সরাসরি নিশানা করে তিনি লেখেন—
“দাদাগিরি ও তোলাবাজির যুগ এবার শেষ। আমেরিকার এই হুমকিতে কোনো লাভ হবে না। অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তি অনুযায়ী হরমুজ প্রণালীর ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করার আইনি অধিকার একমাত্র তেহরানেরই রয়েছে। আমরা কোনো সাম্রাজ্যবাদী শক্তির সামনে মাথা নত করব না।”
তবে একদিকে সামরিক প্রতিরোধ চালালেও পর্দার আড়ালে কূটনৈতিক স্তরে উত্তেজনা প্রশমিত করতে সক্রিয় হয়েছে তেহরান। ইরানের একটি বিশেষ প্রতিনিধি দল মধ্যস্থতাকারী দেশ কাতারের কাছে জরুরি বার্তা পাঠিয়েছে এবং শান্তি ফিরিয়ে আনতে আন্তর্জাতিক স্তরে আলোচনা ও সমন্বয় অব্যাহত রাখার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছে।
এক নজরে পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতি:
| বিষয়ের ক্ষেত্র | আমেরিকা বনাম ইরান সংঘাতের মূল আপডেট |
| মূল নির্দেশদাতা | মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (হোয়াইট হাউস)। |
| আক্রান্ত মূল ইরানি অঞ্চল | বন্দর আব্বাস, সিরিক, কোনারাক ও চাবাহার। |
| ইরানের পাল্টা প্রতিরোধ | বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয়করণ ও বাহরিন-কুয়েতে মার্কিন ঘাঁটিতে রকেট হানা। |
| ট্রাম্পের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা | ইরানের তেল ক্ষেত্র ‘খার্গ দ্বীপ’ দখল ও জল পরিশোধনাগার ধ্বংসের হুমকি। |
| শান্তি প্রক্রিয়া | মধ্যস্থতাকারী কাতারের মাধ্যমে যুদ্ধ এড়াতে বার্তা পাঠাল ইরান। |
ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে মার্কিন প্রশাসনের এই ঝোড়ো সামরিক নীতি পারস্য উপসাগর তথা আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে বড়সড় ধাক্কা দিতে চলেছে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের সিংহভাগ খনিজ তেল ও বাণিজ্যিক পণ্য পরিবহণ করা হয়, যা এখন সম্পূর্ণ যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। যদিও ট্রাম্প দাবি করেছেন যে মার্কিন সামরিক বাহিনী হয়তো তাদের কাজটি একেবারে শেষ করে দিয়ে দ্রুত ফিরে আসবে, কিন্তু ইরান যেভাবে কুয়েত ও বাহরিনের মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা আঘাত হানল, তাতে এই সংঘাত আগামী দিনে আরও বড় আন্তর্জাতিক যুদ্ধের রূপ নেয় কি না, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় চিন্তার বিষয়।






