France vs Morocco Quarter Final: ফ্রান্স-মরক্কো মহারণে ৫ রেফারিই আর্জেন্টিনার! এমবাপেদের কি টার্গেট করা হতে পারে? বিস্ফোরক জবাব দিলেন ফরাসি কোচ দেশঁ

source : আনন্দবাজার
বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর আর্জেন্টিনা-মিশর ম্যাচে ফরাসি রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়েরের সিদ্ধান্ত নিয়ে জল ঘোলা কম হয়নি। সেই রেশ কাটতে না কাটতেই কোয়ার্টার ফাইনালের মঞ্চে ফের এক নজিরবিহীন রেফারি বিতর্কের জন্ম দিল ফিফা। বিশ্বকাপের মেগা কোয়ার্টার ফাইনালে ফ্রান্স-মরক্কো ম্যাচের পাঁচ রেফারিই আর্জেন্টিনার। বিগত কয়েক বছরে বিশ্ব ফুটবলে ফ্রান্স ও আর্জেন্টিনার দ্বৈরথ যেখানে চরম তিক্ততায় পৌঁছেছে, সেখানে কিলিয়ান এমবাপেদের (Kylian Mbappe) সেমিফাইনালে ওঠার মরণ-বাঁচন ম্যাচে ৫ জন আর্জেন্টাইন অফিশিয়ালকে রাখা কতটা যুক্তিযুক্ত, তা নিয়ে শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনা। এই আবহে বড় বয়ান দিলেন ফরাসি কোচ দিদিয়ের দেশঁ (Didier Deschamps)।
“প্রতিপক্ষ মরক্কো, রেফারি নয়”— ঠান্ডা মাথায় বিতর্ক ওড়ালেন দেশঁ
মরক্কোর বিরুদ্ধে হাইভোল্টেজ ম্যাচের আগে সাংবাদিক বৈঠকে ফরাসি কোচ দিদিয়ের দেশঁকে সরাসরি প্রশ্ন করা হয়েছিল, মাঠের সব রেফারি আর্জেন্টিনার হওয়ায় ফ্রান্সের কি কোনো সমস্যা হতে পারে বা কোনো অদৃশ্য চাপ সৃষ্টি হবে?
চাপের মুখে স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে শান্ত থেকে দেশঁ জবাব দেন—
“এখানে ভয়ের বা চাপ নেওয়ার কিছু নেই, আমাদের তো মাঠে নেমে ফুটবলটা খেলতেই হবে। রেফারিদের উপর আমার পূর্ণ বিশ্বাস রয়েছে। মাথায় রাখতে হবে, আমাদের প্রতিপক্ষ মরক্কো, রেফারিরা নন। আমরা নিজেদের সেরা খেলাটা খেলতেই ফোকাস করছি।”
ফরাসি শিবিরের দ্বিতীয় গোলরক্ষক রবিন রিসারের (Robin Risser) গলাতেও শোনা গিয়েছে একই সুর। তিনি বলেন, “গত বিশ্বকাপের ফাইনালের পর থেকে ফ্রান্স এবং আর্জেন্টিনার সম্পর্কে কিছুটা তিক্ততা এসেছে, এটা ঠিক। কিন্তু এটা তো স্রেফ খেলার অঙ্গ। এই রেফারিদের ওপর যদি ফিফা দায়িত্ব দিয়ে থাকে, তার মানে তাঁরা এই বড় ম্যাচ পরিচালনার যোগ্য।”
ইতিহাস ও আর্জেন্টিনার ৫ অফিশিয়ালের খতিয়ান
বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব থেকে শুরু করে শেষ ১৬ মিলিয়ে মোট ৯৬টি ম্যাচ সম্পন্ন হয়েছে। সাধারণত মূল রেফারি ও লাইন্সম্যান একই দেশের হলেও চতুর্থ, পঞ্চম বা ভিএআর (VAR) রেফারি অন্য দেশের রাখা হয়। কিন্তু এই প্রথম পুরো ম্যাচের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকবে এক দেশের রেফারিদের হাতে।
ফ্রান্স-মরক্কো ম্যাচের ৫ রেফারি কারা?
- মূল রেফারি: ফাকুন্দো তেলো।
- সহকারী রেফারি (লাইন্সম্যান): জুয়ান পাবলো বেলাত্তি এবং গ্যাব্রিয়েল চেদ।
- চতুর্থ রেফারি: দারিও হেরেরা।
- রিজার্ভ রেফারি: ক্রিশ্চিয়ান নাভারো।
[ফ্রান্স-মরক্কো ম্যাচ অফিশিয়ালদের প্রোফাইল]
* মূল রেফারি: ফাকুন্দো তেলো (আর্জেন্টিনা)।
* রেফারি স্টাইল: কড়া অনুশাসন, কার্ড দেখাতে দ্বিধা করেন না।
* কুখ্যাতি/রেকর্ড: বোকা জুনিয়র্স বনাম রেসিং ক্লাবের ম্যাচে ১০টি লাল কার্ড।
* কাতার বিশ্বকাপ রেকর্ড: পর্তুগাল-মরক্কো ম্যাচে মরক্কোর ওয়ালিদ চেদিরাকে লাল কার্ড।
কড়া রেফারি ফাকুন্দো তেলো কি কাঁটা হবেন ফ্রান্সের?
ফ্রান্সের ম্যাচ পরিচালনা করতে চলা ফাকুন্দো তেলো দক্ষিণ আমেরিকার অন্যতম সেরা ও কড়া রেফারি হিসেবে পরিচিত। কড়া হাতে ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ করার জন্য তাঁর কুখ্যাতি ও সুখ্যাতি দুই-ই রয়েছে। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে পর্তুগাল বনাম মরক্কো ম্যাচে মরক্কোর ওয়ালিদ চেদিরাকে লাল কার্ড দেখিয়ে তিনি লাইমলাইটে এসেছিলেন।
তার চেয়েও বড় রেকর্ড হলো, আর্জেন্টিনার ঘরোয়া লিগে বোকা জুনিয়র্স বনাম রেসিং ক্লাবের এক ম্যাচে ফুটবলারদের উশৃঙ্খলতা রুখতে একাই ১০টি লাল কার্ড (10 Red Cards) দেখিয়েছিলেন তিনি। ফ্রান্সের কোনো ম্যাচ এই প্রথমবার পরিচালনা করতে চলেছেন তেলো। ফুটবল বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, মিশর ম্যাচে ফরাসি রেফারি যেমন আর্জেন্টিনার দিকে সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগে বিদ্ধ হয়েছেন, তেলো ও তাঁর দল তেমন কোনো ভুল বা পক্ষপাতিত্ব করবেন না বলেই আশা করা যায়।
এক নজরে ফ্রান্স-মরক্কো ম্যাচের রেফারি প্যানেল:
| বিষয়ের ক্ষেত্র | কোয়ার্টার ফাইনালের রেফারিং ফ্যাক্টস |
| ম্যাচ | ফ্রান্স বনাম মরক্কো (বিশ্বকাপ কোয়ার্টার ফাইনাল)। |
| বিতর্কের কারণ | মাঠের ও রিজার্ভ বেঞ্চের ৫ রেফারিই আর্জেন্টিনার নাগরিক। |
| প্রধান রেফারি | ফাকুন্দো তেলো (Facundo Tello)। |
| ফ্রান্সের প্রতিক্রিয়া | কোচ দেশঁ ও রিসার কোনো বিতর্কে না গিয়ে রেফারিদের ওপর আস্থা রাখছেন। |
| বিশেষত্ব | ৯৬টি ম্যাচের পর এই প্রথম কোনো ম্যাচে সব রেফারি একই দেশের। |
২০১৮ বিশ্বকাপে ফ্রান্সের কাছে আর্জেন্টিনার হার এবং ২০২২ বিশ্বকাপে ফ্রান্সকে হারিয়ে আর্জেন্টিনার ট্রফি জয়— দুই দলের ফুটবল যুদ্ধকে অন্য মাত্রা দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ফ্রান্সের বাঁচা-মরার কোয়ার্টার ফাইনালে ৫ জন আর্জেন্টাইনের হাতে ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্ব থাকাটা মনস্তাত্ত্বিকভাবে মরক্কোকে বাড়তি অ্যাডভান্টেজ দেবে কি না, তা নিয়ে ফুটবল দুনিয়া দ্বিখণ্ডিত। তবে ফরাসি কোচ দিদিয়ের দেশঁ যেভাবে মাঠের বাইরের বিতর্ককে মাঠের ফুটবলেই সীমাবদ্ধ রাখলেন, তা কিলিয়ান এমবাপেদের ফোকাস ধরে রাখতে সাহায্য করবে সন্দেহ নেই। এখন দেখার, ফাকুন্দো তেলোর বাঁশি ফ্রান্সের সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে, নাকি কোনো নতুন বিতর্কের জন্ম দেয়।






