US Iran War Updates: ‘বাবার মৃত্যুর বদলা নেবই!’ ট্রাম্পের ১০০০ ক্ষেপণাস্ত্রের হুঁশিয়ারি উড়িয়ে হুঙ্কার ইরানের নতুন সুপ্রিম লিডার মোজতবা খামেনেইয়ের, কাঁপছে তেহরান

source : সংবাদ প্রতিদিন
মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে এবার চরম মহাপ্রলয়ের সংকেত। ইরানের সর্বাধিনায়ক তথা সুপ্রিম লিডার আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের মৃত্যুর পর পরিস্থিতি এখন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের বাইরে। একদিকে যখন প্রাক্তন সুপ্রিম লিডারের শেষকৃত্য সম্পন্ন হচ্ছে, ঠিক তখনই ইরানের রাশ নিজের হাতে নিয়ে আমেরিকার বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধের ডাক দিলেন খামেনেই-পুত্র মোজতবা খামেনেই (Mojtaba Khamenei)। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ১০০০টি ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাত্মক হুমকিকে বিন্দুমাত্র আমল না দিয়ে সোশাল মিডিয়ায় খামেনেই হত্যার চরম প্রতিশোধের প্রতিজ্ঞা করেছেন বর্তমান সুপ্রিম লিডার।
‘গোটা দেশের একটাই দাবি— প্রতিশোধ!’
ইরানের প্রাক্তন সুপ্রিম লিডার আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের প্রয়াণের পর শনিবার সোশাল মিডিয়ায় দেশবাসীর উদ্দেশ্যে একটি অত্যন্ত কড়া ও আবেগঘন লিখিত বার্তা পেশ করেছেন নতুন সুপ্রিম লিডার মোজতবা খামেনেই। বার্তায় তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে আমেরিকার সঙ্গে সমঝোতার কোনো জায়গাই আর অবশিষ্ট নেই।
মোজতবা তাঁর লিখিত বার্তায় লেখেন—
“গোটা দেশের একটাই দাবি, তা হলো খামেনেই হত্যার প্রতিশোধ। এই দাবি আমাদের অবশ্যই পূরণ করতে হবে। কুখ্যাত অপরাধী ও হত্যাকারীদের দ্বারা যে সব নেতা বা বীরেরা শহিদ হয়েছেন, এই যুদ্ধে সেই সমস্ত শহিদের রক্তের শেষ ফোঁটার বদলা নেওয়ার প্রতিজ্ঞা করছি আমরা।”
তিনি আরও যোগ করেন, “আমরা এই পৃথিবীতে থাকি বা না থাকি, আমাদের এই লক্ষ্য অর্জিত হবেই। খুব শীঘ্রই বিশ্বজুড়ে স্বাধীনতাকামী মানুষ এই ঐশ্বরিক মিশনের অংশ হয়ে উঠবে।”
ট্রাম্পের খুনের ছক ও ১০০০ মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্রের গর্জন
আমেরিকা ও ইরানের এই নতুন সংঘাতের সূত্রপাত ঘটে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি বিস্ফোরক দাবির পর। সম্প্রতি ইজরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে ওয়াশিংটন দাবি করে, ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সশরীরে হত্যার জন্য বড়সড় গোপন ছক কষছে ইরান।
এই খবর সামনে আসতেই ইরানের উদ্দেশ্যে সরাসরি যুদ্ধের হুঁশিয়ারি দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ট্রাম্প কড়া ভাষায় হুঙ্কার দিয়ে জানান—
- আমেরিকার প্রেসিডেন্টকে স্পর্শ করার চেষ্টা করা হলে ইরানে এমন ভয়ংকর গোলাবর্ষণ শুরু হবে যা কেউ কখনো দেখেনি।
- ওয়াশিংটন ইতিমধ্যেই ইরানের শতাধিক সামরিক ও কৌশলগত ঘাঁটির দিকে লক্ষ্য করে প্রায় ১০০০টি অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র তাক করে রেখেছে।
- ইরানের সঙ্গে আমেরিকার পূর্ববর্তী সমস্ত যুদ্ধবিরতির আলোচনা ও চুক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়ে গিয়েছে।
[আমেরিকা-ইরান সংঘাতের বর্তমান পরিস্থিতি]
* ইরান: আয়াতোল্লা খামেনেইয়ের মৃত্যুর পর পুত্র মোজতবার নেতৃত্বে প্রতিশোধের সংকল্প।
* আমেরিকা: ট্রাম্পকে হত্যার ছকের অভিযোগে ১০০০ ক্ষেপণাস্ত্র তাক করার হুঁশিয়ারি।
* গ্রাউন্ড জিরো: তেহরানসহ ইরানের শতাধিক এলাকায় ধারাবাহিক অজ্ঞাত ক্ষেপণাস্ত্র হানা ও বিস্ফোরণ।
কাঁপছে তেহরান, দায় নেয়নি ওয়াশিংটন
নতুন সুপ্রিম লিডারের এই বার্তার মধ্যেই চরম বিপর্যয় নেমে এসেছে ইরানের মাটিতে। খামেনেইয়ের শেষকৃত্য সম্পন্ন হওয়ার সমসাময়িক সময়েই তেহরান ও তার আশেপাশের সংলগ্ন এলাকা কেঁপে উঠেছে একের পর এক ভয়াবহ বিস্ফোরণে।
সূত্রের খবর, ইরানের প্রায় শতাধিক কৌশলগত জায়গায় ইতিমধ্যেই আকাশপথে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু হয়ে গিয়েছে। যদিও এই হামলার পেছনে আমেরিকার হাত রয়েছে কি না, তা নিয়ে হোয়াইট হাউস বা পেন্টাগন এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো দায় স্বীকার করেনি। তবে সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি বাতিলের ঘোষণার পরই এই হামলা মধ্যপ্রাচ্যকে এক সম্পূর্ণ পরমাণু ও ক্ষেপণাস্ত্র যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিল।
এক নজরে মার্কিন-ইরান যুদ্ধ পরিস্থিতি:
| বিষয়ের ক্ষেত্র | ওয়াশিংটন ও তেহরানের সাম্প্রতিকতম সংঘাত খতিয়ান |
| ইরানের বর্তমান প্রধান | মোজতবা খামেনেই (আয়াতোল্লা খামেনেইয়ের পুত্র)। |
| আমেরিকার অবস্থান | যুদ্ধবিরতি সম্পূর্ণ বাতিল, ট্রাম্প হত্যার ছকের পাল্টা জবাব। |
| মার্কিন সামরিক প্রস্তুতি | ইরানের দিকে লক্ষ্য করে ১০০০টি বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন। |
| ইরানের পাল্টা হুঙ্কার | খামেনেইসহ সমস্ত শহিদদের মৃত্যুর রক্তের বদলা নেওয়ার শপথ। |
| বর্তমান মাঠের পরিস্থিতি | তেহরানসহ ইরানের শতাধিক জায়গায় ব্যাপক বোমাবর্ষণ ও হুলস্থুল। |
আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের মৃত্যুর পর মনে করা হয়েছিল ইরান হয়তো কিছুটা নরম মনোভাব দেখাবে, কিন্তু পুত্র মোজতবা খামেনেইয়ের এই ‘অকুতোভয়’ ও জেহাদি বার্তা আমেরিকার কপালেও চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। ট্রাম্পের বিপুল সামরিক শক্তির সামনে দাঁড়িয়েও ইরান যেভাবে ‘ঐশ্বরিক মিশনের’ নামে বিশ্বজুড়ে স্বাধীনতাকামীদের এক হওয়ার ডাক দিচ্ছে, তাতে এই যুদ্ধ কেবল দুটি দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না বলেই মনে করছে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহল। তেহরানের আকাশে জ্বলতে থাকা ক্ষেপণাস্ত্রের আলো এখন বিশ্বজুড়ে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দামামা বাজিয়ে দিল।






