NEET Paper Leak Protest: নিট কেলেঙ্কারির প্রতিবাদে যন্তর মন্তরে সোনম ওয়াংচুকের অনশন ১৪ দিনে! ‘আমাকে গান্ধী বলবেন না’, বার্তা সমাজকর্মীর; সংসদ অভিযানের হুঁশিয়ারি CJP-র

source : সংবাদ প্রতিদিন
দেশজুড়ে নিট (NEET) প্রবেশিকা পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস ও দুর্নীতি নিয়ে ক্ষোভের আগুন এখনও নেভেনি। শিক্ষা ব্যবস্থার এই চরম বিপর্যয়ের দায় নিয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে দিল্লির যন্তর মন্তরে অবস্থান বিক্ষোভ জারি রেখেছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)। আর সেই মঞ্চেই দেশের শিক্ষা ও পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ রক্ষায় অনির্দিষ্টকালের জন্য অনশনে বসেছেন লাদাখের প্রখ্যাত সমাজকর্মী তথা গবেষক সোনম ওয়াংচুক (Sonam Wangchuk)। শনিবার তাঁর এই কৃচ্ছ্রসাধন ও অনশন আন্দোলন পা দিল ১৪তম দিনে।
“আমি গান্ধী নই, নিজের হিরো নিজেই হোন”: সোনম ওয়াংচুক
টানা ১৪ দিন ধরে অন্ন জল ত্যাগ করে অনশন চালিয়ে যাওয়ার ফলে স্বাভাবিকভাবেই সোনম ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটেছে। চিকিৎসকদের মতে, তাঁর শরীরে চর্বি এবং পেশির ব্যাপক ক্ষয় হতে শুরু করেছে। তবে শরীর ভাঙলেও তাঁর মানসিক দৃঢ়তা যে বিন্দুমাত্র কমেনি, তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন সোনম নিজেই।
সোনমের এই লড়াই সোশাল মিডিয়ায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। নেটিজেনদের একাংশ তাঁকে ‘আধুনিক গান্ধী’ বা ‘লড়াইয়ের আসল হিরো’ বলে সম্বোধন করছেন। তবে এই সমস্ত তকমায় ঘোর আপত্তি জানিয়েছেন খোদ সোনম।
বিক্ষোভ মঞ্চ থেকে সমাজকর্মী বলেন—
“আমি কোনো গান্ধী নই। অনেকেই দেখছি সোশাল মিডিয়ায় আমাকে হিরো বলছেন, আমাকে গান্ধী বলছেন— এই শব্দগুলো আমাকে চরম অস্বস্তিতে ফেলে দিচ্ছে। আমি অত্যন্ত সাধারণ একজন নাগরিক এবং নাগরিক হিসেবে দেশের প্রতি নিজের কর্তব্য পালন করছি মাত্র। আপনাদেরও একই অনুরোধ করব, অন্যের মধ্যে হিরো খুঁজবেন না। নিজেদের হিরো নিজেদেরই হতে হবে এবং নাগরিক কর্তব্য পালন করতে হবে।”
২১ আত্মঘাতী পড়ুয়ার জন্য ক্ষতিপূরণের দাবি
সোনম ওয়াংচুক এবং ককরোচ জনতা পার্টির এই যৌথ আন্দোলনের পেছনে রয়েছে অত্যন্ত সংবেদনশীল কিছু দাবি। নিট-প্রশ্নপত্র ফাঁসের পরে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা এবং দেশের সামগ্রিক পরীক্ষা ব্যবস্থার পরিকাঠামোগত সংস্কারের পাশাপাশি আরও একটি বড় দাবি তোলা হয়েছে এই মঞ্চ থেকে।
প্রশ্নফাঁস ও দুর্নীতির জেরে যে ২১ জন যোগ্য ও আশাবাদী পড়ুয়া মানসিক অবসাদে আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছেন, তাঁদের পরিবারকে অন্তত ১ কোটি টাকা করে আর্থিক সাহায্য বা ক্ষতিপূরণ দিতে হবে কেন্দ্রকে। একই সাথে সমস্ত জাতীয় স্তরের পরীক্ষাকে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও প্রযুক্তিগতভাবে দুর্নীতিমুক্ত করার দাবিও জানানো হয়েছে।
[যন্তর মন্তর আন্দোলনের মূল খতিয়ান]
* অনশনকারী: সমাজকর্মী ও গবেষক সোনম ওয়াংচুক (আজ ১৪তম দিন)।
* আয়োজক সংগঠন: ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)।
* লক্ষ্য: নিট (NEET) দুর্নীতিমুক্ত করা এবং শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ।
* পরবর্তী পদক্ষেপ: কেন্দ্র সাড়া না দিলে বাদল অধিবেশনে সংসদ ভবন অভিযান।
কেন্দ্রের নীরবতা, বাদল অধিবেশনে সংসদ ঘেরাওয়ের হুঁশিয়ারি
দুর্ভাগ্যবশত, একজন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন সমাজকর্মী দিল্লির বুকে টানা ১৪ দিন ধরে অনশন করার পরেও কেন্দ্রীয় সরকারের তরফ থেকে এই আন্দোলনকে সেভাবে পাত্তাই দেওয়া হয়নি। ককরোচ জনতা পার্টি বা সোনম ওয়াংচুকের সঙ্গে কোনো রকম আলোচনার টেবিল তৈরি বা প্রস্তাব পাঠানোর সদিচ্ছা দেখায়নি শিক্ষা মন্ত্রক।
কেন্দ্রের এই চরম উদাসীনতায় ক্ষুব্ধ আন্দোলনকারীরা এবার আন্দোলনের ঝাঁজ আরও বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। CJP-র পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, শেষ পর্যন্ত যদি সরকারের ঘুম না ভাঙে এবং তারা আলোচনার প্রস্তাব না দেয়, তবে আগামী বাদল অধিবেশনে (Monsoon Session) সংসদ ভবন পর্যন্ত একটি বিশাল কিন্তু শান্তিপূর্ণ মিছিল বা পদযাত্রা করা হবে।
এক নজরে নিট দুর্নীতি বিরোধী আন্দোলন ও সোনমের অনশন:
| আন্দোলনের ক্ষেত্র | সর্বশেষ পরিস্থিতি ও দাবিসমূহ |
| আন্দোলনের স্থান | যন্তর মন্তর, নয়া দিল্লি। |
| অনশনের সময়সীমা | টানা ১৪ দিন (শনিবার পর্যন্ত)। |
| প্রধান টার্গেট | কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা। |
| মানবিক দাবি | আত্মঘাতী ২১ জন পরীক্ষার্থীর পরিবারকে ১ কোটি টাকা সাহায্য। |
| আগামী রূপরেখা | আলোচনা না হলে আসন্ন বাদল অধিবেশনে সংসদ ভবন চত্বরে শান্তিপূর্ণ মিছিল। |
পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ছিনিমিনি খেলার প্রতিবাদে সোনম ওয়াংচুকের এই নিঃস্বার্থ লড়াই বুঝিয়ে দিচ্ছে যে, দেশের নাগরিক সমাজ আজও কতটা জাগ্রত। শারীরিক অসুস্থতাকে তুচ্ছ করে তিনি যেভাবে অনড় রয়েছেন, তা দেশের যুবসমাজকে উদ্বুদ্ধ করছে। তবে গণতান্ত্রিক দেশে দুই সপ্তাহ ধরে চলা একটি অনশন আন্দোলনকে সরকারের পক্ষ থেকে এভাবে এড়িয়ে যাওয়া কতটা যুক্তিযুক্ত, তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। এখন দেখার, আসন্ন বাদল অধিবেশনের আগে সরকার সোনম ওয়াংচুকের মুখোমুখি বসে কোনো রফাসূত্রে পৌঁছায়, নাকি ককরোচ জনতা পার্টির সংসদ ভবন অভিযানের জেরে দিল্লির রাজপথ আবারও উত্তাল হয়ে ওঠে।






