Manipur Violence Updates: ফের রণক্ষেত্র মণিপুর! পশ্চিম ইম্ফলে মেতেই সম্প্রদায়ের গ্রামে ৬০০ জনের তাণ্ডব, একের পর এক বাড়িতে অগ্নিসংযোগ, পুলিশের সাথে খণ্ডযুদ্ধ

source : সংবাদ প্রতিদিন
শান্তির কোনো লক্ষণই নেই উত্তর-পূর্বের সীমান্ত রাজ্য মণিপুরে (Manipur)। দীর্ঘ দিন ধরে চলা জাতিগত দাঙ্গার আগুন নিভেও যেন নিভছে না। শনিবার আরও একবার ফের রণক্ষেত্র মণিপুর। এবার ঘটনার কেন্দ্রস্থল পশ্চিম ইম্ফল জেলার কান্তো সাবাল এলাকা। প্রায় ৬০০ জনের এক বিশাল ক্ষুব্ধ জনতা আচমকাই হামলা চালায় মেতেই সম্প্রদায়ের একটি গ্রামে। একের পর এক বাড়ি পুড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি পুলিশের সাথেও ব্যাপক খণ্ডযুদ্ধে জড়ায় হামলাকারীরা। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোটা উত্তর-পূর্বাঞ্চলে নতুন করে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
মেতেই গ্রামে ৬০০ জনের তাণ্ডব ও অগ্নিসংযোগ
মণিপুর পুলিশ সূত্রের খবর, শনিবার সকাল ১১টা নাগাদ আচমকাই প্রায় ৬০০ জনের একটি সশস্ত্র ও ক্ষুব্ধ জনতার দল পশ্চিম ইম্ফলের কান্তো সাবাল (Kanto Sabal) এলাকার দিকে অগ্রসর হতে শুরু করে। উল্লেখ্য, এই অঞ্চলটি মূলত নাগা ও মেতেই সম্প্রদায়ের মানুষ অধ্যুষিত।
একটি বড়সড় জাতিগত হিংসার আশঙ্কা করে সেখানে আগে থেকেই মোতায়েন থাকা নিরাপত্তাবাহিনী ও পুলিশ জনতাকে আটকানোর চেষ্টা করে। কিন্তু ব্যারিকেড ভেঙে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে ক্ষুব্ধ জনতা। পুলিশ বাধা দিতেই শুরু হয় দু’পক্ষের খণ্ডযুদ্ধ। পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটবৃষ্টি শুরু হলে পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যায়। এই ডামাডোলের মাঝেই হামলাকারীরা গ্রামের ভেতরে ঢুকে পড়ে এবং অন্তত ৬টি মেতেই পরিবার লক্ষ্য করে অগ্নিসংযোগ করে। চোখের পলকে দাউদাউ করে জ্বলতে থাকে একের পর এক বাড়ি।
কাঁদানে গ্যাস ও স্মোক বোমায় রণক্ষেত্র কান্তো সাবাল
উন্মত্ত জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে এবং গ্রামের বাকি অংশকে রক্ষা করতে মণিপুর পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করে। পুলিশ লাঠিচার্জ করার পাশাপাশি একের পর এক কাঁদানে গ্যাসের সেল (Tear Gas Shell) এবং স্মোক বোমা নিক্ষেপ করে।
পুলিশের এই পাল্টা অভিযানে ভিড়ের মধ্যে থাকা বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারী আহত হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। স্থানীয় এক বাসিন্দা সংবাদমাধ্যমকে জানান, “দুপুর দেড়টার দিকে আমরা আকাশ কালো করে ধোঁয়া দেখতে পাই। প্রথমে ভেবেছিলাম বিক্ষোভকারীরা হয়তো রাস্তায় টায়ার পোড়াচ্ছে। কিন্তু পরে বুঝতে পারি যে আমাদের ভাইদের বাড়িগুলোতে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। কুকি সম্প্রদায়ের লোকেরা এই হামলার ছক কষে আসছিল বলে আমাদের কাছে আগেই খবর ছিল।”
[কান্তো সাবাল হিংসার খতিয়ান]
* হামলার সময়: সকাল ১১টা (শনিবার)।
* হামলাকারীদের সংখ্যা: আনুমানিক ৬০০ জন।
* ক্ষয়ক্ষতি: মেতেই সম্প্রদায়ের ৬টি বাড়ি ভস্মীভূত।
* পুলিশের প্রতিরোধ: কাঁদানে গ্যাসের সেল ও স্মোক বোমা নিক্ষেপ।
রক্তক্ষয়ী ২০২৩-এর রেশ, উখরুলে তল্লাশি অভিযান
মণিপুরের এই কান্তো সাবাল এলাকায় ঠিক এক সপ্তাহ আগেও প্রায় একই ধরনের হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছিল। ফলে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। ২০২৩ সালের মে মাস থেকে শুরু হওয়া কুকি ও মেতেই সম্প্রদায়ের এই জাতিগত সংঘর্ষে এখনও পর্যন্ত কয়েকশো সাধারণ নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে এবং হাজার হাজার মানুষ ত্রাণ শিবিরে আশ্রয় নিয়েছেন।
হিংসার আঁচ এসে পড়েছে দেশের রক্ষকদের ওপরেও। চলতি সপ্তাহেই উখরুল (Ukhrul) জেলায় উগ্রপন্থীদের অতর্কিত হামলায় অসম রাইফেলসের (Assam Rifles) দুই বীর জওয়ানের মৃত্যু হয়েছে। সেই ঘটনার পর থেকেই উখরুলের জঙ্গল ও আবাসিক এলাকায় হামলাকারীদের খোঁজে চিরুনি তল্লাশি (Combing Operation) চালাচ্ছে সেনা। তার মাঝেই পশ্চিম ইম্ফলের এই নতুন হিংসা প্রশাসনের কপালে চিন্তার ভাঁজ আরও চওড়া করল।
এক নজরে মণিপুরের সাম্প্রতিকতম হিংসার খতিয়ান:
| বিষয়ের ক্ষেত্র | মণিপুর পশ্চিম ইম্ফলের বর্তমান পরিস্থিতি |
| ঘটনাস্থল | কান্তো সাবাল, পশ্চিম ইম্ফল জেলা, মণিপুর। |
| আক্রান্ত সম্প্রদায় | মেতেই (Meitei) গ্রামবাসী। |
| আইনি পদক্ষেপ | পুলিশের তরফ থেকে অজ্ঞাতপরিচয় হামলাকারীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের। |
| হতাহতের সংখ্যা | বাড়ি পুড়লেও কোনো গ্রামীণ মানুষের মৃত্যুর খবর নেই; কয়েকজন বিক্ষোভকারী জখম। |
| বর্তমান স্থিতি | এলাকায় শান্তি ফেরাতে বিশাল পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েন। |
মণিপুরের এই কান্তো সাবাল এলাকার নতুন হিংসা প্রমাণ করছে যে, উপত্যকা ও পাহাড়ের মধ্যকার জাতিগত বিভেদ মেটাতে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য প্রশাসনের শান্তি প্রক্রিয়া এখনও পুরোপুরি সফল হয়নি। একের পর এক গ্রামে অগ্নিসংযোগ এবং অসম রাইফেলসের জওয়ানদের ওপর হামলার ঘটনা রাজ্যের আইনশৃঙ্খলার কঙ্কালসার রূপটিকেই বারবার সামনে আনছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ বর্তমানে রুট মার্চ করছে এবং একটি নির্দিষ্ট মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে। তবে কান্তো সাবালের সাধারণ মানুষের মনে যে আতঙ্কের কালো মেঘ তৈরি হলো, তা কাটাতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আরও দীর্ঘমেয়াদী ও কঠোর পদক্ষেপের প্রয়োজন।






