Tirthankar Ghosh Arrested: পানিহাটির প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়কের ছেলে তীর্থঙ্কর গ্রেপ্তার! আদালতে যাওয়ার পথে চলল ‘ডিম-হামলা’, বাড়ির সামনে ব্যান্ড বাজিয়ে নাচ

source : sangbad pratidin
মাথার ওপর অভিযোগের পাহাড়। তোলাবাজি সিন্ডিকেট থেকে শুরু করে জমি দখল—এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করার অভিযোগে শেষরক্ষা হলো না পানিহাটির ‘দাপুটে’ নেতা তথা প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক নির্মল ঘোষের ছেলে তীর্থঙ্কর ঘোষের। গ্রেপ্তারির এড়াতে বেশ কিছুদিন ধরেই গা ঢাকা দিয়ে ছিলেন তিনি। তবে সোমবার ভোরে খড়দহ থানার পুলিশের জালে ধরা পড়েন তীর্থঙ্কর। আর তাঁর এই গ্রেপ্তারিকে কেন্দ্র করে খড়দহ থানা থেকে শুরু করে গোটা পানিহাটি চত্বর পরিণত হলো এক নজিরবিহীন থিয়েটারে।
‘মার ডিম… ছেলে ডিম খেয়েছে, বাবা গোবর খাবে!’ খড়দহ থানায় ধুন্ধুমার
সোমবার দুপুরে খড়দহ থানার পুলিশ লক-আপ থেকে যখন তীর্থঙ্কর ঘোষকে বের করে প্রিজন ভ্যানে তোলার তোড়জোড় করছিল, ঠিক তখনই ঘটে সেই নাটকীয় ঘটনা। লক-আপের বাইরে আগে থেকেই ওত পেতে ছিল ক্ষুব্ধ জনতা। তীর্থঙ্কর বাইরে আসতেই চারপাশ থেকে ধেয়ে আসে একের পর এক ডিম।
উত্তেজিত জনতা একে অপরকে ‘মার ডিম’ বলে চিৎকার করতে থাকে। পুলিশ কোনোমতে তীর্থঙ্করকে প্রিজন ভ্যানে তুলতে সক্ষম হলেও জনতার ক্ষোভ থামেনি। প্রিজন ভ্যানকে লক্ষ্য করে ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন—
“ছেলের থেকে বড় খুনি নির্মল ঘোষ। ছেলে আজ ডিম খেয়েছে, বাবা এবার গোবর-কাদা খাবে। আমরা ওসব নিয়েও তৈরি আছি। পানিহাটিকে শান্ত করতে হলে বাপ-ব্যাটা দুজনকেই জেলের ভেতর ঢোকাতে হবে।”
পানিহাটিতে ব্যান্ড পার্টি, আবির খেলা ও উৎসবের মেজাজ
সাধারণত কোনো রাজনৈতিক নেতার গ্রেপ্তারে তাঁর অনুগামীরা বিক্ষোভ দেখান, কিন্তু তীর্থঙ্করের ক্ষেত্রে ছবিটা দেখা গেল সম্পূর্ণ উল্টো। তীর্থঙ্করের গ্রেপ্তারের খবর পানিহাটিতে পৌঁছানো মাত্রই গোটা এলাকায় যেন উৎসবের মেজাজ তৈরি হয়। তীর্থঙ্করের বাড়ির সামনেই জড়ো হয়ে যান শয়ে শয়ে মানুষ। রীতিমতো ব্যান্ড বাজিয়ে, হিন্দি ও বাংলা গানের তালে নাচগান শুরু করে দেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
অনেকের হাতেই এ সময় ডিম ও আবির দেখা যায়। যদিও তৃণমূলের একাংশের দাবি, যারা এই ডিম-হামলা বা নাচগান করছে তারা সকলেই বিজেপির কর্ম-সমর্থক, সাধারণ মানুষ এর মধ্যে নেই। তবে এলাকার স্বতঃস্ফূর্ত জনজোয়ার এবং সাধারণ মানুষের চোখে-মুখে স্বস্তির আভাস অন্য কথাই বলছে। পানিহাটিবাসীর স্পষ্ট বক্তব্য, এই বাবা ও ছেলের দাপটে দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের জীবন নাজেহাল হয়ে উঠেছিল।

[পানিহাটি তীর্থঙ্কর ঘোষ গ্রেপ্তার খতিয়ান]
* গ্রেপ্তারের সময়: ১৩ জুলাই, ২০২৬ (সোমবার ভোর)।
* গ্রেপ্তারকারী সংস্থা: খড়দহ থানার পুলিশ, উত্তর ২৪ পরগনা।
* মূল অভিযোগসমূহ: তোলাবাজি, জোরপূর্বক জমিদখল, সিন্ডিকেট রাজ।
* জনতার প্রতিক্রিয়া: প্রিজন ভ্যানে ডিম-হামলা, পানিহাটিতে ব্যান্ড বাজিয়ে উল্লাস।
‘কান টানলে মাথা আসবে’, প্রতিক্রিয়া রত্না-কলতানের
২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে পানিহাটি কেন্দ্রে তৃণমূলের টিকিটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা তীর্থঙ্করের বিরুদ্ধে হাইভোল্টেজ রাজনৈতিক লড়াই লড়েছিলেন বিজেপির রত্না দেবনাথ এবং সিপিএমের কলতান দাশগুপ্ত। তীর্থঙ্করের এই পরিণতিতে স্বাভাবিকভাবেই খুশি বিরোধী শিবির।
বিজেপি নেত্রী রত্না দেবনাথ তীব্র কটাক্ষ করে বলেন, “কান টানলে মাথা আসে। কানের (ছেলে) পর এবার আমরা আসল মাথার (বাবা নির্মল ঘোষ) অপেক্ষায় আছি। পুলিশকে ওকেও গ্রেপ্তার করতে হবে।” অন্যদিকে, সিপিএম নেতা কলতান দাশগুপ্ত আইনি প্রক্রিয়ার ওপর জোর দিয়ে বলেন, “দুর্নীতি করেছেন, গ্রেপ্তার হয়েছেন, ঠিক আছে। আইন আইনের পথে চলবে। কিন্তু আমাদের একটা বিষয়ে কড়া নজর রাখতে হবে, বিজেপির ছাতার তলায় গিয়ে বা সেটিং করে যেন কোনো দোষী আবার আইনের হাত থেকে রেহাই না পেয়ে যায়।”
পানিহাটির রাজনীতিতে নির্মল ঘোষ এবং তাঁর পরিবারের দাপট দীর্ঘদিনের। কিন্তু সরকার বা রাজনৈতিক সমীকরণ বদলাতেই যেভাবে প্রাক্তন বিধায়কের ছেলের ওপর জনরোষ আছড়ে পড়ল, তা একপ্রকার নজিরবিহীন। খড়দহ থানার ডিম-হামলা এবং পানিহাটির ব্যান্ড বাজানোর ছবি প্রমাণ করে দিচ্ছে যে ক্ষমতার অহংকারে সাধারণ মানুষকে দীর্ঘদিন দাবিয়ে রাখলে তার বহিঃপ্রকাশ কতটা ভয়ঙ্কর হতে পারে। এখন দেখার, পুলিশ ‘কান’ টানার পর বিরোধীদের দাবি মেনে ‘মাথা’ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে কি না।






