Anubrata Mondal: বীরভূমে ৩০ লাখের ইটভাটা লুট মামলা! গ্রেফতারি এড়াতে এবার কলকাতা হাই কোর্টের দরজায় অনুব্রত মণ্ডল

source : Sangbad Pratidin
জেলে দীর্ঘ সময় কাটানোর পর বীরভূমে ফিরেও স্বস্তি নেই অনুব্রত মণ্ডলের। গরু পাচার মামলার জট কাটতে না কাটতেই এবার সম্পূর্ণ নতুন এক ফৌজদারি মামলায় নাম জড়িয়েছে বীরভূমের এই দোর্দণ্ডপ্রতাপ নেতার। বীরভূমের এক ইটভাটা থেকে ৩০ লক্ষ টাকা লুটের মামলায় গ্রেফতারি এড়াতে এবার মরিয়া অনুব্রত। সিউড়ি জেলা আদালতের দ্বারস্থ হয়েও খালি হাতে ফিরতে হয়েছিল তাঁকে। সিউড়ি আদালতের সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে আজ, মঙ্গলবার কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হলেন কেষ্ট (Kesto approached Calcutta High Court)।
কী এই ৩০ লক্ষ টাকার ইটভাটা লুট মামলা?
রাজ্যে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকেই বীরভূম জেলার বিভিন্ন থানায় পূর্বতন জমানার একাধিক নেতার বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ দায়ের হচ্ছে। এই আবহেই বীরভূমের একটি ইটভাটা থেকে নগদ ৩০ লক্ষ টাকা জোরপূর্বক লুট করার অভিযোগ ওঠে।
অভিযোগের আঙুল সরাসরি ওঠে বীরভূমের একদা ‘বেতাজ বাদশা’ অনুব্রত মণ্ডলের দিকে। এই মামলায় পুলিশ তাঁকে যেকোনো মুহূর্তে গ্রেফতার করতে পারে— এই আশঙ্কা থেকেই আইনি রক্ষাকবচ বা আগাম জামিন (Anticipatory Bail) পেতে মরিয়া হয়ে ওঠেন তিনি।
সিউড়িতে ধাক্কা, ভরসা এবার বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ
গ্রেফতারির খাঁড়া এড়াতে অনুব্রত প্রথমে বীরভূমের সিউড়ি জেলা জজ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। তবে সেখানে তাঁর ভাগ্য সহায় হয়নি। সিউড়ি জেলা আদালত তাঁর আগাম জামিনের আবেদনটি গ্রহণ করতেই অস্বীকার করে এবং তা খারিজ করে দেয়।
নিম্ন আদালতের এই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েই মঙ্গলবার হাই কোর্টে আপিল পিটিশন দাখিল করেন অনুব্রতর আইনজীবীরা। আদালত সূত্রের খবর, হাই কোর্টের বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের এজলাসে এই মামলাটি শুনানির জন্য তালিকাভুক্ত হতে পারে। তবে ঠিক কোন দিন এই মামলার শুনানি হবে, তা এখনও নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।
[অনুব্রত মণ্ডলের আইনি ও রাজনৈতিক গ্রাফ]
* ২০২২: গরু পাচার মামলায় সিবিআইয়ের হাতে গ্রেফতার ও তিহাড় যাত্রা।
* ২০২৪-২০২৫: দীর্ঘদিন পর জামিনে মুক্তি পেয়ে বীরভূমে প্রত্যাবর্তন।
* ২০২৬ (সাম্প্রতিক): দলনেত্রীর হাত ছেড়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে যোগদান।
* জুলাই ২০২৬: বীরভূমে ৩০ লাখ টাকার ইটভাটা লুট মামলায় নাম জড়ানো।
* ১৪ জুলাই ২০২৬: সিউড়ি আদালতের নির্দেশ চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাই কোর্টে মামলা।
‘দিদি’র কেষ্ট এখন ঋতব্রতর শিবিরের সভাপতি
একদা তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত আস্থাভাজন ও ‘প্রিয় কেষ্ট’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন অনুব্রত। বীরভূমের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক রাশ সম্পূর্ণ তাঁর হাতেই ছেড়ে দিয়েছিলেন দলনেত্রী। কিন্তু গরু পাচার মামলায় গ্রেফতারির পর থেকেই বীরভূমের রাশ তাঁর হাত থেকে আলগা হতে শুরু করে।
জামিনে মুক্ত হয়ে বীরভূমে ফিরলেও দলে আর আগের প্রতিপত্তি ফিরে পাননি তিনি। রাজ্যে পালাবদলের পর কার্যত একপ্রকার নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছিলেন এই হেভিওয়েট নেতা। তবে সম্প্রতি রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে ‘দিদি’র হাত ছেড়ে তিনি যোগ দিয়েছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে। বর্তমানে ঋতব্রতের নেতৃত্বাধীন ‘আসল তৃণমূল’ দলের বীরভূম জেলা সভাপতির দায়িত্ব সামলাচ্ছেন অনুব্রত। আর এই নতুন রাজনৈতিক ইনিংস শুরুর মাঝেই ফের তাঁর ওপর ঝুলছে গ্রেফতারির খাঁড়া।
এক নজরে অনুব্রত মণ্ডলের ইটভাটা লুট মামলা:
বীরভূমের রাজনীতিতে একসময় যাঁর শেষ কথা ছিল আইন, আজ সেই অনুব্রত মণ্ডলকেই গ্রেফতারি এড়াতে আদালতের দরজায় দরজায় ঘুরতে হচ্ছে। রাজ্যে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বদলে যাওয়ার পর অনুব্রতর আইনি রক্ষাকবচ পাওয়ার রাস্তা আগের চেয়ে অনেকটাই কঠিন হয়েছে বলে মনে করছেন আইনজ্ঞদের একাংশ। এখন দেখার, বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের এজলাসে অনুব্রতর এই আগাম জামিনের আবেদন মঞ্জুর হয়, নাকি ‘পরাঠা’ ও ‘নকুলদানা’ খ্যাত এই নেতাকে আবারও শ্রীঘরে যেতে হয়।






