New Firefly Species Found: মেঘালয়ের মৌসিনরামে ভারতের প্রথম বিরল জোনাকির হদিশ! পৃথিবীর মানচিত্রে অনন্য নজির

source : সংবাদ প্রতিদিন
অন্ধকার জঙ্গলজুড়ে জ্বলছে শয়ে শয়ে জোনাকি। জ্বলছে আর নিভছে থেমে থেমে। চারপাশ সদ্য হয়ে যাওয়া বৃষ্টির পর ঠান্ডা, মনোরম। এমন ঝিমধরানো মায়াবী পরিবেশ যে কেবল সিনেমাতেই নয়, বাস্তবেও সম্ভব তা ভাবলেই অবাক হতে হয়। সম্প্রতি মেঘালয়ের মৌসিনরামে (Mawsynram Meghalaya) সত্যিই দেখা গিয়েছে এমনটা। আর তা সাধারণ কোনো জোনাকি নয়, এমন এক জোনাকি যা ভারতে এর আগে দেখা যায়নি কখনও। জীববৈচিত্র্যের মানচিত্রে উত্তর-পূর্ব ভারতকে ফের একবার শ্রেষ্ঠ প্রমাণ করল এই নতুন আবিষ্কার।
ফিল্ড রিসার্চে মিলল বিরল ‘পাইগোলুকিওলা মৌসিনরাম’
২০২৪ সালের মে মাসে মৌসিনরামের বিভিন্ন দুর্গম এলাকায় ১০ দিনব্যাপী একটি ফিল্ড রিসার্চ বা ক্ষেত্র সমীক্ষা চালানো হয়েছিল। আসাম ডন বস্কো বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক এমা ম্যাগডালিন নংলাং, ধীরজ কুমার দাস, সম্রাট সেনগুপ্ত এবং গোলাঘাটের ডেবরাজ রায় কলেজের জেন ওয়ানরি শাংপ্লিয়াং এই দলে ছিলেন।
তাঁরা মৌসিনরামের ঘাসভূমি, ঝোপঝাড় এবং অর্ধ-চিরহরিৎ বনাঞ্চল মিলিয়ে মোট ২৯টি স্থানে নিবিড় সমীক্ষা চালান। যার মধ্যে মাত্র ১০টি অত্যন্ত ঘন বনাঞ্চল ও ডোবা-পুকুর সংলগ্ন স্থানে এই বিশেষ জোনাকিটির দেখা মেলে। বিজ্ঞানীদের অনুমান, এরা সংখ্যায় একেবারেই কম এবং এদের বাসস্থান অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট।

পতঙ্গবিজ্ঞানে বিশ্বব্যাপী নতুন রেকর্ড
বিজ্ঞানীদের মতে, ‘পাইগোলুকিওলা’ গণের জোনাকির উপস্থিতি পৃথিবীজুড়েই অত্যন্ত সীমিত ও বিরল। মৌসিনরামের এই নতুন আবিষ্কারের ফলে বিশ্বে এই গণের স্বীকৃত প্রজাতির সংখ্যা ২৮ থেকে বেড়ে ২৯-এ পৌঁছেছে। একই সঙ্গে এটি ভারতে নথিভুক্ত পাইগোলুকিওলা গণের মাত্র পঞ্চম প্রজাতি। এই আবিষ্কারের ফলে বিশ্ব দরবারে ভারতের পতঙ্গবিজ্ঞান ও পরিবেশ গবেষণার মান বহুগুণ বেড়ে গেল।
[পাইগোলুকিওলা গণের পরিসংখ্যান]
* বিশ্বে মোট প্রজাতি সংখ্যা (পূর্বে): ২৮
* মৌসিনরামে আবিষ্কারের পর মোট সংখ্যা: ২৯
* ভারতে এই গণের মোট প্রজাতি সংখ্যা: ৫
* পছন্দসই বাসস্থান: ঘন চিরহরিৎ অরণ্য এবং জলাশয়ের আশপাশ।
উত্তর-পূর্ব ভারত: অনাবিষ্কৃত রহস্যের ভাণ্ডার
এই গবেষক দলের মতে, উত্তর-পূর্ব ভারতের বিস্তীর্ণ বনাঞ্চলে কেবল পতঙ্গ নয়, রয়েছে এমন অনেক অজানা প্রাণী ও উদ্ভিদ, যার অস্তিত্ব সম্পর্কে আধুনিক মানুষ এখনও অবগত নয়। বন্য ও গভীর প্রকৃতির কোলে লুকিয়ে থাকা এই জীবরা মানুষের সঙ্গে ঠিক কেমন আচরণ করবে, তা নিয়েও বিজ্ঞানীদের মনে ধোঁয়াশা রয়েছে। আর তাই মেঘালয়-সহ গোটা উত্তর-পূর্বাঞ্চলকেই জীববৈচিত্র্যের এক অনাবিষ্কৃত ও মায়াবী ভাণ্ডার বলা চলে। আগামী দিনে এই অঞ্চলে নিয়মতান্ত্রিক গবেষণা চালালে আরও অনেক নতুন প্রজাতির খোঁজ মিলবে বলে আশাবাদী বিজ্ঞানীমহল।
এক নজরে পাইগোলুকিওলা মৌসিনরাম জোনাকি:
| বিষয়ের ক্ষেত্র | বিবরণ ও বৈশিষ্ট্য |
| আবিষ্কারের স্থান | মৌসিনরাম, মেঘালয় (বিশ্বের সর্বাধিক বৃষ্টিপ্রবণ অঞ্চল)। |
| আবিষ্কৃত প্রজাতি | পাইগোলুকিওলা মৌসিনরাম (Pygoluciola mawsynram)। |
| আবিষ্কারের সময়কাল | মে ২০২৪ (গবেষণাপত্র ও আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি সাম্প্রতিক)। |
| প্রধান বৈশিষ্ট্য | জৈবদ্যুতি বা আলো উৎপাদন ক্ষমতা, যা অন্ধকারে থেমে থেমে জ্বলে। |
| সংরক্ষণ স্থিতি | অত্যন্ত সীমিত অঞ্চলে প্রাপ্ত, সুরক্ষার প্রয়োজন। |
মেঘালয়ের মৌসিনরামের এই নতুন আলো ছড়ানো জোনাকি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, প্রকৃতির রহস্য উন্মোচন করা এখনও কতটা বাকি। পরিবেশ দূষণ এবং বনাঞ্চল ধ্বংসের এই জমানায় পাইগোলুকিওলা মৌসিনরামের মতো বিরল প্রজাতির জোনাকিদের টিকিয়ে রাখা এখন পরিবেশবিদদের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। মৌসিনরামের পর্যটন ও প্রাকৃতিক ভারসাম্যকে অক্ষুণ্ণ রেখে এই প্রজাতিকে বাঁচিয়ে রাখার আহ্বান জানিয়েছেন গবেষকেরা।






