Crime News: হাতে মেহন্দি দিয়ে লেখা সুইসাইড নোট! শ্বশুরবাড়ির নৃশংস অত্যাচারের অভিযোগে আত্মঘাতী তরুণী

source : আনন্দবাজার
মধ্যপ্রদেশের ছিন্দওয়াড়ায় এক তরুণীর মৃত্যুকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ঘরের বিছানায় তাঁর নিথর দেহ উদ্ধারের পর পুলিশ দেখতে পায়, বাঁ হাতের উপর মেহন্দি দিয়ে লেখা রয়েছে একাধিক অভিযোগ। ওই লেখাকেই প্রাথমিকভাবে ‘সুইসাইড নোট’ হিসেবে বিবেচনা করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
মৃতার নাম প্রীতি বর্মা। পুলিশ ও পরিবারের দাবি, প্রায় ১৩ বছর আগে তাঁর বিয়ে হয়েছিল। অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই স্বামী, শ্বশুর, শাশুড়ি, দেওর-সহ শ্বশুরবাড়ির একাধিক সদস্যের কাছ থেকে তিনি দীর্ঘদিন ধরে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হন।
সোমবার পরিবারের মধ্যে তীব্র অশান্তির পর কিছুক্ষণ পরেই প্রীতির দেহ উদ্ধার হয়। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, তিনি বিষাক্ত কিছু খেয়ে আত্মহত্যা করেছেন। ময়নাতদন্তের রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছেন তদন্তকারীরা।
সবচেয়ে বেশি চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে তাঁর বাঁ হাতে লেখা বার্তাকে ঘিরে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সেখানে লেখা ছিল—
“ওরা যেন কখনও জেলের বাইরে না বেরোতে পারে। আমার মা-বোন তুলে গালাগালি করত। ফোনে সব রেকর্ড করে রেখেছি। শ্বশুরবাড়িতে পাঁচ জন রয়েছে। ওদের কাউকে আমার দেহ ছুঁতে দিয়ো না। ভাসুর, জা এবং শাশুড়ি-সহ পরিবারের লোকেরা আমার উপর অত্যাচার চালাত।”
পরিবারের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই প্রীতির উপর অত্যাচার চলছিল। একসময় তিনি বাপের বাড়িতে ফিরে এলেও পরে আবার শ্বশুরবাড়িতে যান। সোমবার ফের অশান্তি চরমে ওঠে এবং তাঁকে মারধর করা হয় বলেও অভিযোগ।
এই ঘটনার পর প্রীতির বাবা-মা শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনা এবং গার্হস্থ্য হিংসার অভিযোগ দায়ের করেছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা বর্তমানে পলাতক। তাঁদের খোঁজে তল্লাশি শুরু হয়েছে। পাশাপাশি, প্রীতির উল্লেখ করা মোবাইল ফোনের রেকর্ডিং এবং অন্যান্য ডিজিটাল প্রমাণও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।






