Erling Haaland: বিশ্বকাপ মাতিয়ে হাতে এ কী নিয়ে দেশে ফিরলেন হালান্ড! ম্যান সিটির তারকার ‘হুইস্কি রেকুন’ রহস্যটা কী?

source : সংবাদ প্রতিদিন
‘হালান্ড, হালান্ড, হি ইজ ব্লু, জাস্ট লাইক হিজ ড্যাড।’ গ্যালারিতে এই গান যখনই ওড়ে, তখনই বিপক্ষ ডিফেন্সের বুকে কাঁপুনি ধরে। এবারের ফুটবল বিশ্বকাপে নরওয়েকে প্রথমবার নকআউটে পৌঁছে দিয়ে নিজের জাত চিনিয়েছেন ম্যান সিটির গোলমেশিন আর্লিং হালান্ড। তবে এবার মাঠের বাইরের এক অদ্ভুত কাণ্ডে খবরের শিরোনামে চলে এলেন তিনি। বিশ্বকাপ শেষে মার্কিন মুলুক থেকে ওসলো বিমানবন্দরে পা রাখতেই দেখা গেল, তাঁর কাঁধে ট্রাভেল ব্যাগ, চোখে রোদচশমা আর হাতে ঝুলছে একটি মমি করা ‘হুইস্কি রেকুন’!
কেন হালান্ডের হাতে মৃত রেকুন?
ওসলো বিমানবন্দরে হালান্ডকে এই অবস্থায় দেখে স্বাভাবিকভাবেই চমকে উঠেছিলেন ভক্তরা। পরে হালান্ড নিজেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ছবি শেয়ার করে ক্যাপশনে লেখেন, ‘এ আমার সঙ্গে বাড়ি পর্যন্ত চলে এসেছে।’
আসলে এটি কোনো জীবিত রেকুন নয়। এটি হলো ট্যাক্সিডার্মি (Taxidermy) করা একটি সংরক্ষণযোগ্য স্মারক। অর্থাৎ, আসল মৃত রেকুনের শরীরের ভেতরের সমস্ত অংশ বের করে দিয়ে, কৃত্রিম ফোম বা তারের কাঠামোর ওপর চামড়া বসিয়ে তৈরি করা হয়েছে একটি মমি। আরও মজার বিষয় হলো, এই রেকুনের মমিটির হাতে কায়দা করে ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে একটি হুইস্কির বোতল!
ডালাসের কাউবয় স্টোর ও ‘হালান্ড এফেক্ট’
বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের ম্যাচের মাঝে নরওয়ে দল যখন ফুরফুরে মেজাজে ছিল, তখন আচমকা একদিনের ছুটি পেয়ে হালান্ড পাড়ি দিয়েছিলেন আমেরিকার ডালাসের বিখ্যাত ‘ওয়াইল্ড বিলের ওয়েস্টার্ন স্টোর’-এ (Wild Bill’s Western Store)।
সেখান থেকে নিজের জন্য কাউবয় হ্যাট, খাঁটি চামড়ার ওয়েস্টার্ন বুট এবং টি-শার্ট কেনার পাশাপাশি এই অদ্ভুত ‘হুইস্কি রেকুন’টি তাঁর পছন্দ হয়ে যায়। স্টোরের মালিক বিশ্বসেরা এই স্ট্রাইকারকে ক্রেতা হিসেবে পেয়ে এতটাই উচ্ছ্বসিত ছিলেন যে পরে সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে জানান— ‘হালান্ড এফেক্টে’ তাঁদের অনলাইন স্টোরে থাকা এই ধরণের সমস্ত ‘হুইস্কি রেকুন’ নিমেষের মধ্যে নিঃশেষিত হয়ে গিয়েছে।
[হালান্ডের বিশ্বকাপ ও আমেরিকার শপিং ডায়েরি]
* বিশ্বকাপে মোট গোল: ৭টি (নরওয়ের হয়ে সর্বোচ্চ)।
* শপিং ডেস্টিনেশন: ওয়াইল্ড বিলের ওয়েস্টার্ন স্টোর, ডালাস (USA)।
* কেনাকাটার তালিকা: কাউবয় হ্যাট, লেদার বুট এবং ট্যাক্সিডার্মি হুইস্কি রেকুন।
* ভাইরাল ক্যাপশন: "এ আমার সঙ্গে বাড়ি পর্যন্ত চলে এসেছে।"
এবার কি রেকুনের গন্তব্য ইতিহাদ স্টেডিয়াম?
বিশ্বকাপের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার শুরু হতে চলেছে প্রিমিয়ার লিগের (Premier League) মরশুম। ম্যান সিটির প্রি-সিজন ক্যাম্প শুরু হতে আর বেশিদিন বাকি নেই। এখন অনুরাগীদের মনে একটাই প্রশ্ন উঁকি দিচ্ছে— প্রিমিয়ার লিগ খেলতে ম্যাঞ্চেস্টারে যাওয়ার সময়ও কি এই হুইস্কি রেকুন হালান্ডের সফরসঙ্গী হবে? ম্যান সিটির ড্রেসিংরুমেও কি দেখা মিলবে এই মমি রেকুনের? সেই উত্তর হয়তো সময়ই দেবে, তবে আপাতত এই ‘হুইস্কি রেকুন’ যে ফুটবল বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা অফ-বিট স্মারক হয়ে উঠেছে, তা বলাই বাহুল্য।
এক নজরে আর্লিং হালান্ড ও তাঁর ‘হুইস্কি রেকুন’ কাহিনী:
| ফিচারের ক্ষেত্র | বিবরণ ও খুঁটিনাটি |
| তারকা ফুটবলার | আর্লিং ব্রট হালান্ড (নরওয়ে ও ম্যান সিটি স্ট্রাইকার)। |
| বিশ্বকাপ অবদান | ৭ গোল করে নরওয়েকে প্রথমবার নকআউটে তোলা। |
| অদ্ভুত স্মারক | ট্যাক্সিডার্মি করা হুইস্কি বোতল হাতে রেকুন। |
| কেনার স্থান | ওয়াইল্ড বিলের ওয়েস্টার্ন স্টোর, ডালাস, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। |
| বাজারের প্রভাব | হালান্ডের কারণে রাতারাতি অনলাইনের সমস্ত স্টক শেষ। |
মাঠে গোল করার ক্ষেত্রে হালান্ডের নিখুঁত পারফরম্যান্সের যেমন কোনো তুলনা হয় না, ঠিক তেমনই মাঠের বাইরে তাঁর এই অদ্ভুত শখ ও রসবোধও ভক্তদের দারুণ বিনোদন জোগায়। বিশ্বকাপের ট্রফি অধরা থাকলেও, এই অদ্ভুত ‘হুইস্কি রেকুন’ ট্রফি দিয়েই আপাতত ফুটবলবিশ্ব মাত করে রেখেছেন নরওয়েজিয়ান রাজপুত্র।






