Ink Attack at Jantar Mantar: সোনম ওয়াংচুকের পর এবার নিশানায় অভিজিৎ দীপকে! অনশন মঞ্চে সিজেপি প্রধানের মুখে কালি ছেটালেন মহিলা, দিলেন ‘জয় ভীম’ স্লোগান

source : সংবাদ প্রতিদিন
দিল্লির যন্তর মন্তরে নিট (NEET) প্রশ্ন ফাঁসের বিরুদ্ধে আন্দোলন দমাতে সকাল থেকেই মরিয়া ছিল প্রশাসন। পর্দা খাটিয়ে প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুককে জোর করে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর ক্ষোভে ফুঁসছিল ছাত্র সমাজ। আন্দোলনের রাশ ধরে যন্তর মন্তরেই অনশনে বসেন ককরোচ জনতা পার্টির প্রধান অভিজিৎ দীপকে। কিন্তু শনিবার দুপুরে সেই অনশন মঞ্চেই ঘটল এক নজিরবিহীন ও লজ্জাজনক ঘটনা। মঞ্চে ভাষণ দেওয়ার সময় আচমকাই সিজেপি প্রধানের মুখ লক্ষ্য করে কালো কালি ছুড়ে মারলেন এক মহিলা।
চাদর ঢাকা অপসারণের পর প্রকাশ্য মঞ্চে কালি-হামলা
শনিবার সকালে দিল্লি পুলিশ ও চিকিৎসকদের একটি দল হাইকোর্টের নির্দেশের দোহাই দিয়ে সোনম ওয়াংচুককে অনশনস্থল থেকে তুলে সফদরজং হাসপাতালে ভর্তি করে। সরকারের এই দমনপীড়নের বিরুদ্ধে যখন গোটা দেশ সোচ্চার, ঠিক তখনই যন্তর মন্তরে উপস্থিত বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশ্যে ঝাঁঝালো ভাষণ দিচ্ছিলেন সিজেপি (CJP) প্রধান অভিজিৎ দীপকে।
ঠিক সেই সময় ভিড়ের মধ্য থেকে এক অজ্ঞাতপরিচয় মহিলা আচমকাই তাঁর দিকে এগিয়ে আসেন এবং কিছু বুঝে ওঠার আগেই দীপকের মুখ লক্ষ্য করে কালি ছুড়ে মারেন। মুহূর্তের মধ্যে সিজেপি প্রধানের পুরো মুখ কালিতে মাখামাখি হয়ে যায়। এই ঘটনায় যন্তর মন্তর চত্বরে তীব্র চাঞ্চল্য ও হট্টগোল শুরু হয়ে যায়।
“নীল রং আমার ভীষণ প্রিয়”— গান্ধীবাদী বার্তা দীপকের
কালি হামলার সাথে সাথেই অনশন মঞ্চে উপস্থিত অন্যান্য আন্দোলনকারীরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন এবং ওই মহিলাকে চারদিক থেকে ঘিরে ধরে ফেলেন। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে ক্ষুব্ধ জনতা ওই মহিলার ওপর চড়াও হতে যায় এবং জুতো ছুড়তে শুরু করে।
তবে এই চরম উত্তেজনার মাঝেও অনন্য নজির গড়েন খোদ আক্রান্ত নেতা অভিজিৎ দীপকে। মুখ কালিতে মাখামাখি থাকা অবস্থাতেই তিনি ময়দানে নেমে আন্দোলনকারীদের শান্ত করেন এবং ওই মহিলাকে গণপিটুনির হাত থেকে রক্ষা করেন।
পরবর্তীতে এই ঘটনার ভিডিও নিজেই সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করে সম্পূর্ণ অহিংস ও রাজনৈতিক পরিপক্কতার পরিচয় দিয়ে তিনি লেখেন—
“নীল রং তাঁর ভীষণ প্রিয়, জয় ভীম।”
[যন্তর মন্তর কালি হামলা: ফ্যাক্ট শিট]
* আক্রান্ত ব্যক্তিত্ব: অভিজিৎ দীপকে (প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান, ককরোচ জনতা পার্টি)।
* হামলার ধরণ: মুখ লক্ষ্য করে কালো/নীল কালি নিক্ষেপ।
* ঘটনার সময়: শনিবার দুপুরে (সোনম ওয়াংচুকের অপসারণের ঠিক পরে)।
* নেতার পাল্টা স্লোগান: 'জয় ভীম' (দলিত ও শোষিত শ্রেণীর ঐক্যের প্রতীক)।
* বর্তমান স্থিতি: মহিলাকে পুলিশ আটক করেছে; দীপকের অনশন জারি রয়েছে।
২০ জুলাইয়ের সংসদ অভিযান বানচালের চেষ্টা?
প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত আটক হওয়া ওই মহিলার আসল পরিচয় বা তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের সাথে যুক্ত কি না, তা জানা যায়নি। দিল্লি পুলিশ তাঁকে হেফাজতে নিয়ে লাগাতার জিজ্ঞাসাবাদ চালাচ্ছে। সিজেপি নেতৃত্বের অভিযোগ, ২০ জুলাই সংসদের বাদল অধিবেশনের দিনে যে ‘সংসদ ভবন অভিযান’-এর ডাক দেওয়া হয়েছে, তা বানচাল করতে এবং আন্দোলনকে কালিমালিপ্ত করতেই সরকারের মদতে এই হামলা চালানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ-সহ পাঁচ দাবিতে গত ২০ দিন ধরে যন্তর-মন্তরে অনশন করছিলেন সোনম ওয়াংচুক। শুক্রবারই তিনি দেশবাসীকে আহ্বান জানিয়েছিলেন, “শরীর দুর্বল হলেও মরে যাওয়ার মতো অবস্থা হয়নি। ২০ জুলাইয়ের সংসদ অভিযান সফল হলেই অনশন ভাঙব।” কিন্তু শনিবার সকালেই তাঁকে সরিয়ে দেওয়ার পর এবার মাঠের লড়াইয়ে ফ্রন্টফুটে এলেন অভিজিৎ দীপকে, যাঁকে কোনো কালি বা হামলা দিয়ে দমানো যাবে না বলেই স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে সিজেপি শিবির।
এক নজরে যন্তর মন্তরের ঘটনাপঞ্জি:
| ঘটনার সময়রেখা | প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক আপডেট |
| শনিবার সকাল | সোনম ওয়াংচুককে পর্দা দিয়ে ঢেকে জোর করে হাসপাতালে পাঠাল পুলিশ। |
| শনিবার দুপুর | হাল ধরে অনশনে বসলেন ককরোচ জনতা পার্টির প্রধান অভিজিৎ দীপকে। |
| দুপুর ২ টো (আনুমানিক) | ভাষণ চলাকালীন মঞ্চে এক মহিলার দ্বারা দীপকের মুখে কালি ছিটানো। |
| হামলার পর প্রতিক্রিয়া | রাগ না দেখিয়ে ‘জয় ভীম’ স্লোগান ও নীল রঙের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ। |
| পরবর্তী লক্ষ্য | ২০ জুলাই সংসদের বাদল অধিবেশনের দিনে মেগা প্রোটেস্ট মার্চ। |
মুখে কালি লেপে দিয়ে বা পুলিশি বলপ্রয়োগ করে যে যন্তর মন্তরের এই ছাত্র ও নাগরিক আন্দোলনকে স্তব্ধ করা যাচ্ছে না, তা অভিজিৎ দীপকের ‘জয় ভীম’ স্লোগান ও অনশনে ফেরার অনড় মনোভাব থেকেই পরিষ্কার। একদিকে সোনম ওয়াংচুক হাসপাতালের বেডে চিকিৎসাধীন, অন্যদিকে রাজপথে মুখে কালির দাগ নিয়েই অনশনে বসা সিজেপি প্রধান— এই দুইয়ের মেলবন্ধনে আগামী ২০ জুলাই সংসদের বাদল অধিবেশনের প্রথম দিনটি দিল্লির বুকে এক বিশাল রাজনৈতিক ঝড়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে।






