Sonam Wangchuk Refuses Medical Help: “স্যালাইন নেব না, খাব না ওষুধ!” সফদরজং হাসপাতালে চিকিৎসকদের ফেরালেন অনশনরত সোনম ওয়াংচুক, কিটোনের মাত্রা বাড়ায় তীব্র উদ্বেগ

source : আনন্দবাজার
শিক্ষা ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা আনা এবং নিট (NEET) কেলেঙ্কারির দায় নিয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে আমরণ অনশনে বসা সোনম ওয়াংচুকের লড়াই এবার হাসপাতালের চার দেওয়ালের অন্দরে প্রবেশ করল। শনিবার সকালে দিল্লি পুলিশ যন্তর মন্তরের অনশন মঞ্চ থেকে সাদা কাপড়ে ঢেকে তাঁকে সফদরজং হাসপাতালে নিয়ে যায়। কিন্তু শরীর ভাঙলেও আদর্শে যে ফাটল ধরেনি, তা হাসপাতালের বেডে শুয়েই প্রমাণ করলেন ৫৯ বছর বয়সী এই শিক্ষাবিদ। চিকিৎসকদের সমস্ত অনুরোধ উপেক্ষা করে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কোনো চিকিৎসা তিনি গ্রহণ করবেন না।
“স্যালাইন বা ওষুধ কিছুই ছোঁব না”, অনড় ওয়াংচুক
শনিবার সকালে যন্তর মন্তর থেকে দিল্লি পুলিশ তুলে নিয়ে যাওয়ার পর সকাল ৭টা ৪০ মিনিট নাগাদ সফদরজং হাসপাতালে ভর্তি করা হয় সোনম ওয়াংচুককে। হাসপাতালের দেওয়া আনুষ্ঠানিক বিবৃতি অনুযায়ী, টানা ২০ দিন (শনিবার ২১ দিন) অনশন চালানোর ফলে ওয়াংচুকের শরীর চরম মাত্রায় দুর্বল হয়ে পড়েছে।
সবচেয়ে বড় সমস্যা দেখা দিয়েছে তাঁর শরীরের ডিহাইড্রেশন বা জলের ঘাটতি নিয়ে। হাসপাতালের চিকিৎসকেরা তাঁকে দ্রুত স্যালাইন চালুর পরামর্শ দিলেও চিকিৎসকদের সব ধরনের পরামর্শ মানতে চাইছেন না ওয়াংচুক।
সফদরজং হাসপাতাল তাদের বুলেটিনে উল্লেখ করেছে—
“ওয়াংচুকের শরীরে তরলের পরিমাণ আশঙ্কাজনকভাবে কমেছে। সেই কারণে স্যালাইন বা ওই জাতীয় তরল দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। কিন্তু ওয়াংচুক কোনও ধরনের চিকিৎসা নিতে চাইছেন না। ওষুধও খেতে চাইছেন না তিনি।”
কিটোনের মাত্রা ৩ পার, বাড়ছে শারীরিক ঝুঁকি
চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, ভর্তির সময় ওয়াংচুকের জ্ঞান সম্পূর্ণ অক্ষুণ্ন ছিল। তাঁর রক্তচাপ এবং শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা (SpO2) স্থিতিশীল থাকলেও, দীর্ঘ অনশনের ক্ষতিকর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে তাঁর অভ্যন্তরীণ অঙ্গে।
ভর্তির সময় তাঁর শরীরে শর্করার মাত্রা ছিল প্রতিলিটারে ৭৮ মিলিগ্রাম। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, প্রস্রাবে কিটোনের (Ketone) মাত্রা সকালের দিকে ১-এর আশেপাশে থাকলেও, দুপুর ১টার পর তা লাফিয়ে বেড়ে ৩-এর গণ্ডি ছাড়িয়ে যায়। চিকিৎসা বিজ্ঞান অনুযায়ী, শরীরে কিটোনের মাত্রা এতটা বেড়ে যাওয়া লিভার ও কিডনির জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। তা সত্ত্বেও চিকিৎসকদের প্রতিনিয়ত পর্যবেক্ষণে থাকা ওয়াংচুক চিকিৎসা নিতে নারাজ।
[সোনম ওয়াংচুকের সফদরজং হাসপাতালের মেডিক্যাল রিপোর্ট]
* হাসপাতালে ভর্তির সময়: শনিবার সকাল ৭টা ৪০ মিনিট।
* রক্তে শর্করার (Sugar) মাত্রা: ৭৮ মিলিগ্রাম/লিটার।
* প্রস্রাবে কিটোনের মাত্রা: ৩-এর বেশি (উদ্বেগজনক বৃদ্ধি)।
* প্রধান শারীরিক সমস্যা: তীব্র ডিহাইড্রেশন (জলের অভাব)।
* বর্তমান চিকিৎসাগত স্থিতি: সমস্ত প্রকার স্যালাইন ও ওষুধ প্রত্যাখ্যান।
“আদালতের নির্দেশ মানেনি পুলিশ”, ক্ষুব্ধ পরিবার
সফদরজং হাসপাতালের বাইরে দাঁড়িয়ে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন সোনম ওয়াংচুকের স্ত্রী গীতাঞ্জলি জে আংমো। তিনি দাবি করেন, দিল্লি হাইকোর্ট সরকারকে কেবল ওয়াংচুকের স্বাস্থ্যের দিকে নজর রাখার নির্দেশ দিয়েছিল, কিন্তু পুলিশ সম্পূর্ণ ক্ষমতার অপব্যবহার করে জোরপূর্বক তাঁকে হাসপাতালে এনে খাঁচাবন্দি করেছে।
সফদরজং হাসপাতালের চিকিৎসার স্বচ্ছতা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে গীতাঞ্জলি দেবী জানান, পরিবারের তরফে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, ওয়াংচুকের লিখিত অনুমতি ছাড়া যেন তাঁর শরীরে জোর করে কোনো সুচ বা স্যালাইন পুশ না করা হয়। একই সাথে, সফদরজং-এর ওপর ভরসা না রেখে লাদাখের এই মহান সমাজসেবীকে অন্য কোনো নির্ভরযোগ্য হাসপাতালে স্থানান্তরিত করার তোড়জোড় শুরু করেছে তাঁর পরিবার ও ককরোচ জনতা পার্টির নেতৃত্ব।
এক নজরে ওয়াংচুকের বর্তমান স্বাস্থ্য ও আইনি লড়াই:
| বিষয়ের ক্ষেত্র | বর্তমান পরিস্থিতি ও বুলেটিন আপডেট |
| অনশনের দিনকাল | গত ২৮ জুন থেকে শুরু হয়ে আজ ২১তম দিনে পদার্পণ। |
| হাইকোর্টের ভূমিকা | সরকারের প্রতি ওয়াংচুকের স্বাস্থ্যের খেয়াল রাখার মৌখিক নির্দেশ। |
| হাসপাতালের বক্তব্য | ডিহাইড্রেশন কাটাতে স্যালাইন ও পটাশিয়াম থেরাপি অত্যন্ত জরুরি। |
| পরিবারের অবস্থান | জোরপূর্বক অনশন ভাঙানোর চেষ্টার বিরুদ্ধে অন্য হাসপাতালে স্থানান্তরের দাবি। |
| আন্দোলনের স্থিতি | হাসপাতালে বসেই চিকিৎসা না নিয়ে অনশন জারি রেখেছেন ওয়াংচুক। |
দিল্লি পুলিশ সোনম ওয়াংচুককে রাজপথ থেকে সরিয়ে হাসপাতালের বেডে পাঠাতে পারলেও, তাঁর সত্যাগ্রহকে যে দমানো যায়নি, তা এই প্রবীণ শিক্ষাবিদের স্যালাইন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তই বলে দিচ্ছে। একদিকে শরীরে কিটোনের মাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় যেকোনো মুহূর্তে বড়সড় শারীরিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে, অন্যদিকে ২০ জুলাইয়ের সংসদ অভিযানকে সামনে রেখে যন্তর মন্তরে আন্দোলন আরও তীব্র হচ্ছে। এখন দেখার, প্রশাসন জোর করে তাঁর অনশন ভাঙানোর পথে হাঁটে নাকি তাঁর পরিবারের দাবি মেনে হাসপাতাল স্থানান্তরের অনুমতি দেয়।






