নিট কাণ্ডে কেজরিওয়ালদের ধাক্কায় ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ! এবার নীতীন গড়কড়ির বিরুদ্ধে সোচ্চার ‘ই-২০ জনতা পার্টি’, ১ আগস্ট থেকে আপ-এর আন্দোলনের বার্তা

source : সংবাদ প্রতিদিন
নিট কেলেঙ্কারির উত্তাপ কাটতে না কাটতেই কেন্দ্র সরকারের অপর একটি বিতর্কিত সিদ্ধান্ত ঘিরে বিদ্রোহের আগুন জ্বলতে শুরু করেছে দেশের রাজনৈতিক ও নাগরিক বৃত্তে। ককরোচ জনতা পার্টির হাত ধরে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর, এবার জনরোষের নিশানায় কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণ মন্ত্রী নীতীন গড়কড়ি। ২০ শতাংশ ইথানল মিশ্রিত পেট্রল বা ‘E-20 Petrol’-এর কারণে সাধারণ মানুষের গাড়ি-বাইক বিকল হওয়া এবং মাইলেজ কমে যাওয়ার অভিযোগকে অস্ত্র করে ময়দানে নেমেছে নতুন দল ‘ই-২০ জনতা পার্টি’।
ধর্মেন্দ্র প্রধানের বিদায় ও ‘ই-২০ জনতা পার্টি’র উত্থান
নিট প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে দেশজুড়ে বিক্ষোভের মুখে পড়ে অবশেষে ইস্তফা দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। ককরোচ জনতা পার্টির সেই আন্দোলন সফল হওয়ার পর, ঠিক একই আদলে এবার দেশের পরিবহণ খাতের ওপর ক্ষোভ আছড়ে পড়ছে।
পেট্রোলিয়াম ও সড়ক পরিবহণ মন্ত্রকের ইথানল নীতির প্রতিবাদে সোশাল মিডিয়ায় আত্মপ্রকাশ করেছে ‘ই-২০ জনতা পার্টি’। কে বা কারা এই দল গঠন করেছে তা স্পষ্ট না হলেও, নেটপাড়ায় হু হু করে বাড়ছে তাদের জনপ্রিয়তা। ইতিমধ্যেই এক্স (টুইটার) হ্যান্ডেলে ফলোয়ার সংখ্যা ৪২,৫০০ ছাড়িয়েছে এবং ইনস্টাগ্রামে অনুগামীর সংখ্যা ১.২৫ লক্ষের বেশি হয়ে গিয়েছে।
[সোশাল মিডিয়ায় 'ই-২০ জনতা পার্টি'র প্রভাব]
* এক্স (টুইটার) অনুগামী: ৪২,৫০০+
* ইনস্টাগ্রাম অনুগামী: ১,২৫,০০০+
* মূল দাবি: পেট্রলে ২০% ইথানল মেশানোর জাতীয় নীতি অবিলম্বে বাতিল করা।
* বিরোধের কারণ: গাড়ির ইঞ্জিন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া ও জ্বালানি কার্যক্ষমতা হ্রাস পাওয়া।
নীতীন গড়কড়িকে ঘিরে কেন পুঞ্জীভূত বিতর্ক?
ইথানল মিশ্রিত পেট্রল ব্যবহারে গাড়ির বিভিন্ন যন্ত্রাংশের ক্ষ ক্ষয় এবং মাইলেজ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ার অভিযোগ তুলেছেন সারা দেশের গাড়ি চালক ও মালিকরা।
এর মাঝেই রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নীতীন গড়কড়ি ও তাঁর পরিবারের ব্যবসায়িক যোগ নিয়ে। গড়কড়ির দুই পুত্র এবং তাঁদের সংস্থা ‘সায়ান অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ’-এর সম্পত্তি সাম্প্রতিক সময়ে অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পাওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে বিরোধী ও নাগরিক সমাজ।
অরবিন্দ কেজরিওয়ালের হুঁশিয়ারি ও ১ আগস্টের টাউনহল আন্দোলন
এই ইস্যুতে সরকারের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন আম আদমি পার্টির প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়াল। সোমবার একটি জরুরি সাংবাদিক বৈঠক ডেকে তিনি বলেন—
“আমি কেন্দ্রের মোদি সরকারের কাছে বিনীত অনুরোধ করছি, এই সংকট বড় আকার নেওয়ার আগেই এর সমাধান করুন। সারা দেশের মানুষ হয়রান হচ্ছেন, সাধারণের যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং মাইলেজ কমে পকেটে টান পড়ছে। প্রধানমন্ত্রীজি নিজে এতে হস্তক্ষেপ করুন।”
ইথানল নীতির প্রতিবাদে আগামী ১ আগস্ট (শনিবার) দিল্লির টাউনহলে এক সুবিশাল নাগরিক সমাবেশের ডাক দিয়েছে আপ। কেজরিওয়াল আশা প্রকাশ করেছেন যে দেশের হাজার হাজার মানুষ এই প্রতিবাদে শামিল হবেন এবং যারা সশরীরে উপস্থিত হতে পারবেন না, তাঁদের অনলাইনে যুক্ত হওয়ার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে।
এক নজরে চলমান আন্দোলনের চিত্র:
| বিষয়ের ক্ষেত্র | বিবরণ ও সাম্প্রতিক আপডেট |
| শিক্ষামন্ত্রকের আপডেট | গণরোষ ও সিজেপি (CJP) আন্দোলনের চাপে ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা। |
| ই-২০ আন্দোলনের লক্ষ্য | পেট্রলে ২০% ইথানল নীতি বাতিল ও নীতীন গড়কড়ির থেকে জবাবদিহি। |
| আপ-এর মূল কর্মসূচি | ১ আগস্ট ২০২৬: দিল্লির টাউনহলে বিক্ষোভ ও অনলাইন ক্যাম্পেইন। |
নিট কাণ্ডে ব্যাকফুটে থাকা কেন্দ্র সরকারের জন্য ইথানল পেট্রল বিতর্ক নতুন এক বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অরবিন্দ কেজরিওয়ালের নেতৃত্বে ১ আগস্টের প্রস্তাবিত আন্দোলন এবং ই-২০ জনতা পার্টির সোশাল মিডিয়া প্রভাব আগামী দিনে কেন্দ্রকে নীতি পুনর্বিবেচনায় বাধ্য করে কিনা, সেটাই এখন দেখার।






