দাবি মেনে শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফার পরও নাছোড় ‘ককরোচ জনতা পার্টি’! আইনি লড়াইয়ে ১ কোটি টাকা দিলেন কপিল সিব্বল, ‘বহিরাগত’ হিংসাকে সমর্থনের অভিযোগে তীব্র বিতরক

source : সংবাদ প্রতিদিন
নিট কেলেঙ্কারির জল গড়িয়েছে অনেক দূর। ছাত্র আন্দোলনের চাপে অবশেষে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান নিজের পদ থেকে ইস্তফা দিতে বাধ্য হয়েছেন। কিন্তু তা সত্ত্বেও থামার নাম নেই আন্দোলনকারীদের। এবার রাজ্য জুড়ে গ্রেফতার হওয়া পড়ুয়াদের আইনি সুরক্ষায় লড়াই চালানোর নাম করে নতুন তহবিল গঠন করল ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP), আর সেখানেই পাশে এসে দাঁড়ালেন কংগ্রেস নেতা তথা শীর্ষ আদালতের প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিব্বল।
সিব্বলকে পাশে নিয়ে সিজেপি-র সাংবাাদিক বৈঠক, ১ কোটির অনুদান
সোমবার বিকেলে প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিব্বলকে পাশে বসিয়ে এক যৌথ সাংবাদিক সম্মেলন করেন সিজেপি মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা। তাঁদের দাবি, কেন্দ্র সরকার তাঁদের সাথে হওয়া চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন করছে। আন্দোলনরত শত শত ছাত্রছাত্রীকে বাংলা, বিহার, দিল্লি ও মহারাষ্ট্রে গ্রেপ্তার ও হয়রানি করা হচ্ছে।
পড়ুয়াদের পাশে দাঁড়িয়ে আইনজীবী কপিল সিব্বল ঘোষণা করেন—
“যেখানে যেখানে ছাত্রছাত্রীরা গ্রেফতার হয়েছে বা মামলার মুখে পড়েছে, সেখানে সিজেপি-র আইনজীবীরা সম্পূর্ণ নিখরচায় লড়াই করবেন। এই আইনি লড়াইয়ের পরিকাঠামো চালাতে সিজেপি একটি বিশেষ তহবিল গঠন করছে এবং সেই তহবিলে আমি নিজে ১ কোটি টাকা দান করছি।”
[সিজেপি-র নতুন পদক্ষেপ ও আইনি তহবিল]
* কারণ: ধৃত ছাত্র-যুব আন্দোলনকারীদের আইনি সহায়তা প্রদান।
* আর্থিক সহায়তা: ১ কোটি টাকা দান করলেন সিনিয়র আইনজীবী কপিল সিব্বল।
* সিজেপি-র অভিযোগ: আন্দোলনকারীদের ওপর মামলা না করার চুক্তি লঙ্ঘন করেছে সরকার।
ধর্মতলার ‘জঙ্গিপনা’য় দুষ্কৃতীদের সাফাই?
তবে সিজেপি-র এই অবস্থান নিয়ে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে সচেতন মহলে। গত শুক্রবার কলকাতার ধর্মতলায় (ডোরিনা ক্রসিং) সিজেপি-র আন্দোলনের নামে পুলিশকে লক্ষ্য করে জুতো ও বোতল ছোড়া হয় এবং কর্মরত সাংবাদিকদের নিগ্রহ করা হয়। পরবর্তীতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিচার্জ করে।
অভিযোগ উঠেছে, সেদিনের সেই বিশৃঙ্খলা ও ‘জঙ্গিপনা’র নেপথ্যে ‘বহিরাগত দুষ্কৃতীরা’ যুক্ত থাকলেও, সোমবারের সাংবাদিক সম্মেলনে তাদের প্রকাশ্যে সমর্থন জুগিয়েছে সিজেপি। পুলিশ ও সাংবাদিকদের নিগ্রহের ঘটনায় কোনো দুঃখপ্রকাশ না করে সব দুষ্কৃতীকেই “নিরপরাধ শিক্ষার্থী” বলে দাবি করেছেন সংগঠনের নেতারা।
কংগ্রেসের রাজনৈতিক স্বার্থ ও বিদেশি তহবিলের ছায়া?
সিজেপি প্রথম থেকেই নিজেদের ‘অরাজনৈতিক’ সংগঠন বলে দাবি করে আসলেও, একের পর এক কংগ্রেস নেতার প্রত্যক্ষ উপস্থিতি এই আন্দোলনকে অন্য মোড় দিচ্ছে। ওয়াকিবহাল মহলের একাংশের মতে, অরাজনৈতিক ‘আরশোলা’ আন্দোলনকে তলে তলে হাইজ্যাক করে নিজেদের রাজনৈতিক হাতিয়ার করতে চাইছে কংগ্রেস।
পাশাপাশি, সিজেপি-র এই নতুন তহবিলে ‘ফরেন কন্ট্রিবিউশন অ্যান্ড রেগুলেশন অ্যাক্ট’ (FCRA) লঙ্ঘন করে কোনো ভারত-বিরোধী বিদেশি অনুদান ঢুকে পড়ছে কি না, তা নিয়েও গোয়েন্দা ও রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে।
এক নজরে চলমান পরিস্থিতি:
| বিষয়বস্তু | বর্তমান স্থিতি ও প্রতিক্রিয়া |
| সরকারের পদক্ষেপ | শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ ও দাবি পূরণ। |
| সিজেপি-র দাবি | পুলিশি হয়রানি বন্ধ করা ও গ্রেফতার ছাত্রীদের নিঃশর্ত মুক্তি। |
| কপিল সিব্বলের ভূমিকা | সিজেপি-র আইনি তহবিলে ১ কোটি টাকার আর্থিক অনুদান। |
| প্রধান বিতর্ক | অরাজনৈতিক আন্দোলনে রাজনৈতিক অনুপ্রবেশ ও এফসিআরএ (FCRA) সংক্রান্ত জল্পনা। |
শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফার পরও আন্দোলনের জল যেভাবে আইনি লড়াই ও রাজনৈতিক চাপানউতোরের দিকে মোড় নিচ্ছে, তাতে নিট কেলেঙ্কারির আঁচ যে সহসাই প্রশমিত হচ্ছে না, তা স্পষ্ট। সিজেপি-র অরাজনৈতিক মুখোশের আড়ালে রাজনৈতিক ও আর্থিক চালচিত্র কী, তা সময়ই বলবে।






