‘এনার্জি ড্রিঙ্ক’ বলা যাবে না রেড বুল, স্টিং বা মনস্টারকে! বিভ্রান্তিকর দাবির বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ FSSAI-এর, বিপাকে পানীয় প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলি

source : সংবাদ প্রতিদিন
ভারতের দ্রুত বর্ধনশীল কোমল পানীয় ও উচ্চ ক্যাফেইনযুক্ত বাজারে বড়সড় ধাক্কা দিল দেশের খাদ্য সুরক্ষা ও নিয়ন্ত্রক সংস্থা FSSAI (Food Safety and Standards Authority of India)। দীর্ঘদিন ধরে বাজারজাত করা জনপ্রিয় পানীয়গুলিকে ‘এনার্জি ড্রিঙ্ক’ (Energy Drink) বলে প্রচার করার যে চল ছিল, তাকে সম্পূর্ণ বেআইনি ও বিভ্রান্তিকর বলে আখ্যা দিল সংস্থাটি।
কেন তুলে নেওয়া হচ্ছে ‘এনার্জি ড্রিঙ্ক’ তকমা?
FSSAI-এর তরফে পরিষ্কার জানানো হয়েছে যে, ২০০৬ সালের খাদ্য সুরক্ষা ও মানদণ্ড আইনের অধীনে ‘এনার্জি ড্রিঙ্ক’ বলে আলাদা কোনো অনুমোদিত ফুড ক্যাটাগরি বা মানদণ্ড নেই।
সংস্থাটির মতে, সংস্থাগুলি তাদের বিজ্ঞাপনে ও মোড়কে—
- “শরীর ও মনে শক্তি জোগায়” (Vitalizes body and mind)
- “মনোযোগ ও কার্যক্ষমতা বাড়ায়” (Enhances focus)
- “শারীরিক দুর্বলতায় উপকারী” (Aid in general weakness)
—এর মতো যেসব থেরাপিউটিক বা হেলথ ক্লেইম (স্বাস্থ্যভিত্তিক দাবি) করছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উপভোক্তাদের বিভ্রান্ত করার শামিল। তাই অবিলম্বে এই ধরনের দাবি এবং ‘এনার্জি ড্রিঙ্ক’ পরিচয়সূচক শব্দ ব্যবহার বন্ধ করতে হবে।
[প্রভাবিত শীর্ষ পানীয় ব্র্যান্ড তালিকা]
* পেপসিকো: স্টিং (Sting) ও অ্যাড্রেনালিন রাশ (Adrenaline Rush)
* রেড বুল (Red Bull)
* রিলায়েন্স কনজিউমার: ক্যাম্পা এনার্জি – গোল্ড বুস্ট
* মনস্টার এনার্জি (Monster Energy)
* হেল এনার্জি (Hell Energy)
বাজার মার খাওয়ার আশঙ্কায় সংস্থাগুলি, দেওয়া হলো ৯০ দিনের সময়
FSSAI-এর এই হঠাৎ নির্দেশে বেশ বিপাকে পড়েছে পানীয় প্রস্তুতকারক বহুজাতিক সংস্থাগুলি। ভারতে ২০২৮ সালের মধ্যে প্রায় ১.৬ বিলিয়ন ডলারের এই এনার্জি ড্রিঙ্কের বাজার তৈরি হওয়ার কথা ছিল। ব্র্যান্ডগুলি আশঙ্কা করছে, ‘এনার্জি ড্রিঙ্ক’ পরিচয় বা লোভনীয় ট্যাগলাইন সরিয়ে নিলে তাদের চেনা ভাবমূর্তি নষ্ট হবে এবং রাতারাতি বিক্রি হু-হু করে কমে যেতে পারে।
তবে FSSAI নির্দেশ মেনে পুরনো প্যাকেজিং ও মোড়ক পরিবর্তন করে নতুন লেবেল লাগানোর জন্য সংস্থাগুলিকে ৯০ দিনের সময়সীমা (90-day compliance window) মঞ্জুর করেছে।
ইন্ডিয়ান বেভারেজ অ্যাসোসিয়েশনের (IBA) গোপন চিঠি ও জটলা
দেশের শীর্ষ স্থানীয় সংস্থাগুলির প্রতিনিধি সংগঠন ইন্ডিয়ান বেভারেজ অ্যাসোসিয়েশন (IBA) জানিয়েছে, তারা নিয়মকানুন মেনে চলতে বাধ্য এবং বৈজ্ঞানিক নীতিমালার বিষয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে গঠনমূলক আলোচনা চালিয়ে যাবে।
তবে গত ৬ জুলাই FSSAI-এর কাছে পাঠানো এক গোপনীয় চিঠিতে সংগঠনের তরফে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলা হয়—
“এই ধরনের নোটিস বা সিদ্ধান্ত হঠাৎ জনসমক্ষে প্রকাশ করা হলে তা দীর্ঘদিনের প্রতিষ্ঠিত ব্র্যান্ডগুলির সুনাম মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ করতে পারে। একইসাথে উপভোক্তাদের মনে অনাবশ্যক বিভ্রান্তির সৃষ্টি হবে।”
সংস্থাগুলির দাবি ছিল, বড় কোনো নির্দেশিকা কার্যকরের আগে শিল্পপতিদের সঙ্গে আলোচনা করা উচিত ছিল। যদিও FSSAI-এর শীর্ষ কর্তারা এই যুক্তিতে কর্ণপাত না করে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, নিয়ম ভঙ্গ হলে সংস্থাগুলি আদালতে যেতে পারে, কিন্তু আইন পরিবর্তন করা হবে না।
এক নজরে FSSAI-এর নতুন নিয়মের নির্দেশিকা:
| বিষয়ের ক্ষেত্র | FSSAI-এর বর্তমান অবস্থান |
| নতুন নিয়ম | ‘এনার্জি ড্রিঙ্ক’ নাম ও বিভ্রান্তিকর স্বাস্থ্য-সংক্রান্ত দাবি ব্যবহার নিষিদ্ধ। |
| উপযুক্ত কারণ | অতিরিক্ত ক্যাফেইন ও চিনিযুক্ত পানীয়ের কোনো পৃথক আইনি মানদণ্ড নেই। |
| লেবেল বদলের ডেডলাইন | ৯০ দিন (৯০ Days Compliance Window)। |
| শিল্পের প্রতিক্রিয়া | আইনি পথ অবলম্বন কিংবা লেবেল পরিবর্তনের প্রস্তুতি। |
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অতিরিক্ত ক্যাফেইন ও সুগারযুক্ত এই পানীয়গুলির প্রভাব নিয়ে স্বাস্থ্যবিদদের উদ্বেগ রয়েছে। ভারতের খাদ্য নিয়ামক সংস্থার এই কঠোর পদক্ষেপের ফলে এখন পানীয় সংস্থাগুলিকে নিজেদের বিজ্ঞাপনী কৌশলে বড় বদল আনতে হবে। আগামী ৯০ দিনের মধ্যে কীভাবে বোতলের মোড়ক ও নাম বদলায় এই মেগা ব্র্যান্ডগুলি, সেটাই এখন দেখার।






