বিহারের পথেই হাঁটল অসম! ‘ককরোচ’ বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে সব মামলা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত হিমন্ত বিশ্বশর্মার, বড় আশ্বাস কেন্দ্রের

দেশজুড়ে চলতে থাকা নিট (NEET) বিক্ষোভ দমনে কিছুটা হলেও ব্যাকফুটে কেন্দ্রীয় শাসক জোট। সোমবার বিকেলে সিজেপি-র তোপ দাগার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সিদ্ধান্ত বদলের পথ বাছল একাধিক রাজ্য। বিহারের পর এবার অসমের বিজেপি চালিত হিমন্ত বিশ্বশর্মা সরকারও আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা যাবতীয় আইনি মামলা ও পুলিশি পদক্ষেপ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করল।
সিজেপি-র তোপ ও মধ্যরাতের রুদ্ধদ্বার বৈঠক
সোমবার বিকেলে সিজেপি-র অন্যতম মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা কড়া সুরে অভিযোগ তুলেছিলেন যে, কেন্দ্র আন্দোলনকারীদের ওপর কোনো কড়া পদক্ষেপ না করার চুক্তি লঙ্ঘন করেছে। বিহার, বাংলা ও দিল্লিতে শত শত ছাত্রকে হেনস্থা ও গ্রেপ্তার করা হচ্ছে বলে সরব হন তাঁরা।
এই সাংবাদিক বৈঠকের পরেই ড্যামেজ কন্ট্রোলে নামে প্রশাসন। গভীর রাতে সরকারি প্রতিনিধিদের সাথে আলোচনায় বসে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র প্রতিনিধি দল। রাত ১টার সময় বৈঠক শেষে সিজেপি মুখপাত্র সৌরভ দাস জানান, প্রায় ৩ ঘণ্টা ধরে চলা সেই বৈঠক ইতিবাচক হয়েছে।
[সিজেপি-কেন্দ্র বৈঠকের মূল নিদান]
* মধ্যরাতের বৈঠক: সরকারি প্রতিনিধি ও CJP নেতৃত্বের মধ্যে ৩ ঘণ্টার বৈঠক।
* বিহার ও অসমের বিজ্ঞপ্তি: প্রতিবাদীদের সব মামলা প্রত্যাহারের অফিসিয়াল অর্ডার হ্যান্ডওভার।
* কেন্দ্র সরকারের আশ্বাস: এনডিএ শাসিত সমস্ত রাজ্যে ছাত্রদের সমস্ত আইনি মামলা দ্রুত মকুব হবে।
* আটক শিক্ষার্থীদের গতিবিধি: ধৃতদের দ্রুত নিঃশর্ত মুক্তি দেওয়া হবে।
এনডিএ শাসিত রাজ্যে কার্যকর হচ্ছে ‘জিরো কেস’ নীতি
বৈঠক শেষে সিজেপি-র হাতে বিহার ও অসম সরকারের প্রাতিষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি তুলে দেওয়া হয়। সৌরভ দাস জানান, কেন্দ্রের প্রতিনিধিরা কথা দিয়েছেন যে মঙ্গলবার বিকেলের মধ্যেই বিজেপি এবং এনডিএ (NDA) শাসিত রাজ্যগুলিতে আন্দোলনকারীদের ওপর হওয়া সমস্ত মামলা প্রত্যাহারের নোটিস জারি করে দেওয়া হবে।
মোদি সরকারের এই আশ্বাসের পর সাময়িকভাবে সিজেপি-র আন্দোলন শান্ত হওয়ার সঙ্কেত মিলছে, যেখানে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে— শিক্ষার্থীদের ওপর ভবিষ্যতেও এই আন্দোলনের জেরে কোনো শাস্তিমূলক পদক্ষেপ করা চলবে না।
কলকাতার ধৃত ১৬ জনের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন!
বিহার এবং অসমে সিজেপি শিক্ষার্থীদের মুক্তি মিললেও, বিরোধী শাসিত রাজ্য পশ্চিমবঙ্গে কিন্তু তৈরি হয়েছে আইনি জট। গত শুক্রবার কলকাতার ধর্মতলা সংলগ্ন ডোরিনা ক্রসিংয়ে ‘ককরোচ’দের মিছিল চলাকালীন চরম বিশৃঙ্খলা ও রণক্ষেত্রের রূপ নেয়।
পুলিশের ওপর জুতো ও জলের বোতল ছোড়ার অভিযোগে কলকাতা পুলিশ সেদিন ১৬ জন আন্দোলনকারীকে গ্রেপ্তার করেছিল। অসম ও বিহারের রাজ্য সরকার নিজেদের মামলা প্রত্যাহার করে নিলেও, অ-বিজেপি শাসিত পশ্চিমবঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুলিশ ধৃত ওই ১৬ জনকে মুক্তি দেবে কি না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে তীব্র কৌতূহল।
এক নজরে চলমান আপডেট:
| রাজ্য / কেন্দ্র | বর্তমান পরিস্থিতি |
| বিহার | আন্দোলনকারীদের ওপর হওয়া সব আইনি মামলা প্রত্যাহার ও ধৃতদের মুক্তির নির্দেশ। |
| অসম | গভীর রাতে হিমন্ত বিশ্বশর্মা সরকারের মামলা প্রত্যাহারের বিজ্ঞপ্তি জারি। |
| কেন্দ্র (NDA) | মোদি সরকারের আশ্বাস— এনডিএ শাসিত সমস্ত রাজ্যেই কার্যকর হবে জিরো কেস নীতি। |
| পশ্চিমবঙ্গ | ডোরিনা ক্রসিং হিংসায় ধৃত ১৬ জনের ব্যাপারে কোনো সরকারি সিদ্ধান্ত মেলেনি। |
কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার পর বিহার ও অসমে মামলা প্রত্যাহারের এই নোটিস সিজেপি-র ছাত্র আন্দোলনের একটি বড় রাজনৈতিক ও নৈতিক জয় হিসেবেই দেখা হচ্ছে। তবে অহিংস উপায়ে আন্দোলনকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া এবং কলকাতার মতো রাজ্যের সঙ্গে তৈরি হওয়া প্রশাসনিক আইনি জটিলতা কীভাবে সিজেপি কাটায়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।






