মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর গতিবিধিতে নজর থেকে ‘হানিট্র্যাপ’ ছক, জইশ জঙ্গি হামিমের পাক-যোগ নিশ্চিত করল STF!

রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা ও হেভিওয়েট প্রশাসনিক ব্যক্তিত্বদের নিরাপত্তা নিয়ে তৈরি হলো বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন। বর্ধমান থেকে সম্প্রতি গ্রেপ্তার হওয়া জইশ-ই-মহম্মদ জঙ্গি হামিম মণ্ডলের সরাসরি সীমান্ত পারের পাকিস্তান-যোগ নিশ্চিত করল রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (STF)। শনিবার ভবানীভবনে সাংবাদিক বৈঠক করে এসটিএফের আইজি গৌরব শর্মা একের পর এক বিস্ফোরক তথ্য প্রকাশ্যে আনেন।
কীভাবে কাজ করত জইশ জঙ্গি হামিম?
গোয়েন্দা সূত্রে জানা গিয়েছে, বেশ কিছুদিন ধরেই কিছু সন্দেহভাজন সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল ট্র্যাক করছিল এসটিএফ। সেখান থেকেই হামিম মণ্ডলের নাম সামনে আসে।
- মগজধোলাই ও যোগদান: সোশাল মিডিয়ায় কট্টরপন্থী চিন্তাধারার মাধ্যমে হামিমের মগজধোলাই করে পাক হ্যান্ডলাররা। পরবর্তীতে সে পাকিস্তানের ‘শেহজাদ ভাট্টি’ গ্রুপের সক্রিয় সদস্য হয়ে ওঠে।
- এনক্রিপটেড চ্যাট: ইনস্টাগ্রামে ‘রানা’, ‘উজায়ের’-সহ একাধিক পাক হ্যান্ডলারদের ফলো করত হামিম। বার্তা আদান-প্রদানের জন্য এনক্রিপটেড কোড, টেলিগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করা হতো।
[জঙ্গি হামিমের মূল অ্যাসাইনমেন্ট]
* টার্গেট ১: মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রতিদিনের গতিবিধি রেইকি করা।
* নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ: মুখ্যমন্ত্রীর সিকিউরিটির 'আনগার্ডেড লোকেশন' চিহ্নিত করা।
* টার্গেট ২: মন্ত্রী উমেশ রাইয়ের ছেলেকে 'হানিট্র্যাপ' করে অপহণ করা।
* অর্থ লেনদেন: পাকিস্তানের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও ডিজিটাল ওয়ালেট স্ক্যান করা হচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তা ও ‘আনগার্ডেড লোকেশন’ রেইকি
এসটিএফ আইজি গৌরব শর্মা জানান, হামিমকে নির্দিষ্টভাবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ওপর দিনভর নজরদারি চালানোর।
“মুখ্যমন্ত্রী কোথায় যাচ্ছেন, সারাদিন কী কর্মসূচী থাকছে এবং ঠিক কোন জায়গায় তাঁর নিরাপত্তা কিছুটা শিথিল বা ঢিলে থাকে— সেই ‘আনগার্ডেড লোকেশন’ চিহ্নিত করাই ছিল হামিমের কাজ। যাতে সেই সুযোগ নিয়ে বড় কোনো নাশকতার ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করা যায়।”
মন্ত্রীপুত্রকে হানিট্র্যাপ ও সহযোগী অর্পিতা
তদন্তে উঠে এসেছে, শুধু মুখ্যমন্ত্রী নন, হাওড়া উত্তরের বিধায়ক তথা পুর প্রতিমন্ত্রী উমেশ রাই এবং তাঁর পরিবারও ছিল এই জঙ্গি মডিউলের নিশানায়।
হামিমের বান্ধবী, ঝাড়খণ্ড থেকে ধৃত অর্পিতা সরকারকে ব্যবহার করে মন্ত্রীপুত্রকে প্রেমের জালে অর্থাৎ ‘হানিট্র্যাপে’ ফেলে অপহরণের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। অর্পিতার সঙ্গেও পাক হ্যান্ডলারদের সরাসরি যোগাযোগ ছিল বলে এসটিএফ নিশ্চিত করেছে।
তদন্তের বর্তমান স্থিতি:
| বিষয় | এসটিএফের পদক্ষেপ ও পর্যবেক্ষণ |
| আর্থিক উৎস | পাকিস্তান থেকে হামিমের অ্যাকাউন্টে টাকা আসত কিনা, তা জানতে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খতিয়ে দেখা হচ্ছে। |
| সহযোগীদের খোঁজ | বাংলাজুড়ে আর কে কে এই জইশ নেটওয়ার্কে যুক্ত, তা জানতে ম্যারাথন জেরা চলছে। |
| হেফাজত | অর্পিতা সরকার ও হামিম মণ্ডলকে মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করছে এসটিএফ। |
সীমান্ত পেরিয়ে অনলাইনে যুবকদের মগজধোলাই করে রাজ্য সরকারের শীর্ষ নেতৃত্বকে নিশানায় নেওয়ার এই ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তবে এসটিএফের সঠিক সময়ের পদক্ষেপে বড় বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়েছে। এই জঙ্গি মডিউলের মূল শেকড় কতদূর ছড়িয়ে রয়েছে, তা জানতে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার সাথেও সমন্বয় রেখে তদন্ত এগোচ্ছে।






