শুধু মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নন, দিল্লির যন্তর মন্তরেও নাশকতার নীল-নকশা! ধৃত জইশ জঙ্গি হামিমকে নিয়ে বিস্ফোরক এসটিএফ আইজি

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি ও ভিআইপি সুরক্ষায় বড়সড় নাশকতার পাশাপাশি এবার জাতীয় স্তরেও আলোড়ন সৃষ্টি করল ধৃত জইশ-ই-মহম্মদ জঙ্গি হামিম মণ্ডল। হাওড়ার এক মন্ত্রীর ছেলেকে অপহরণের হুমকির সূত্র ধরে তদন্তে নেমে চার বছর ধরে বাংলায় ঘাঁটি বানিয়ে থাকা এই জঙ্গির হদিশ পায় এসটিএফ। শনিবার ভবানীভবনে বিশেষ সাংবাদিক বৈঠকে এসটিএফের আইজি গৌরব শর্মা জানান, দেশে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারকে একযোগে নাজেহাল করতেই অত্যন্ত বিপজ্জনক আন্তর্জাতিক ব্লু-প্রিন্ট সাজানো হয়েছিল।
পুলিশ সেজে দিল্লির যন্তর মন্তরে আক্রমণের ছক!
এসটিএফের দাবি অনুযায়ী, হামিমদের পরিকল্পনা ছিল শুধুই আঞ্চলিক নয়, বরং তা ছিল সুদূরপ্রসারী।
- ছদ্মবেশে ভিড়ে মিশে যাওয়া: কেন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে চলা ‘ককরোচ আন্দোলনে’র ভিড়ে মিশে নাশকতার পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছিল। এর জন্য পুলিশের নকল পোশাকও তৈরি করেছিল হামিম।
- লক্ষ্য কেন্দ্র সরকার: উদ্দেশ্য ছিল যন্তর মন্তরের মতো স্পর্শকাতর স্থানে হামলা চালিয়ে কেন্দ্রীয় মোদি সরকারকে আন্তর্জাতিক দরবারে কালিমালিপ্ত ও চরম বিপদে ফেলা।
- তদন্তের বিস্তার: হামিম নিজে দিল্লিতে গিয়েছিল, নাকি তার সহযোগী অন্য কোনো মডিউল সেখানে পাঠানো হয়েছিল— তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
[আন্তর্জাতিক জঙ্গি মডিউলের কৌশল]
* ভুয়া সিম প্রযুক্তি: আমেরিকা, মেক্সিকো সহ একাধিক দেশের বিদেশি সিম ব্যবহার।
* অ্যাপস ও যোগাযোগ: এনক্রিপ্টেড চ্যাটের জন্য ইনস্টাগ্রাম ও টেলিগ্রামের বহুল ব্যবহার।
* ফান্ডিং চ্যানেল: সরাসরি পাকিস্তান থেকে ব্যাংকিং চ্যানেলে ফান্ড ট্রান্সফার।
* ছদ্মবেশ: পুলিশের ইউনিফর্ম বানিয়ে ভিআইপি এলাকায় অ্যাক্সেস নেওয়া।
আমেরিকান ও মেক্সিকান সিমে যোগাযোগের জাদুকরি
ভারতীয় গোয়েন্দাদের নজর এড়াতে আন্তর্জাতিক প্রযুক্তির ব্যবহার করত হামিম ও তার চক্র। এসটিএফ আইজি গৌরব শর্মা জানান:
“হামিম এবং তার সঙ্গীরা আমেরিকা ও মেক্সিকোর মতো দেশের সিম কার্ড ব্যবহার করত। ইনস্টাগ্রাম ও টেলিগ্রামের মাধ্যমে এনক্রিপ্টেড কোডে সীমান্ত পারের হ্যান্ডলারদের সঙ্গে কথা বলত। সেই চ্যাট উদ্ধার করতেই গোয়েন্দাদের হাতে আসে সরাসরি পাকিস্তান থেকে ফান্ড ট্রান্সফার এবং যন্তর মন্তরে হামলার চাঞ্চল্যকর নীল-নকশা।”
আন্দোলন ও জইশ-যোগের খতিয়ে দেখা তদন্ত
ককরোচ আন্দোলনের নেপথ্যে এতদিন ধরে যে ‘ডিপ স্টেট’ (Deep State) চক্রান্তের গুঞ্জন উঠছিল, হামিমের আন্তর্জাতিক ছক সামনে আসায় তা আরও তীব্র রূপ নিল। শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের এই আন্দোলনের আড়ালে জইশ বা অন্যান্য পাক-মদতপুষ্ট চরমপন্থী সংগঠনের কোনো সক্রিয় ইন্ধন ছিল কি না, তা এখন কেন্দ্রীয় ও রাজ্য গোয়েন্দা সংস্থাগুলির যৌথ স্ক্যানারে।
এক নজরে বিস্ফোরক তথ্যসমূহ:
| বিষয় | বিবরণ / এসটিএফ তথ্য |
| ধৃত প্রধান অভিযুক্ত | হামিম মণ্ডল (জইশ-ই-মহম্মদ সদস্য) |
| ধৃত সহযোগী | অর্পিতা সরকার (ঝাড়খণ্ড থেকে ধৃত) |
| টার্গেট ১ (রাজ্য) | মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও মন্ত্রীপুত্র |
| টার্গেট ২ (জাতীয়) | দিল্লির যন্তর মন্তরে আন্দোলনস্থলে নাশকতার ছক |
| ব্যবহৃত আন্তর্জাতিক সিম | আমেরিকা ও মেক্সিকোর সিম কার্ড |
বাংলা থেকে রাজধানী দিল্লি পর্যন্ত নেটওয়ার্ক বিস্তার করা জইশ-ই-মহম্মদের এই আন্তর্জাতিক মডিউল দেশের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এক বিরাট সতর্কবার্তা। এসটিএফ ও কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলি এখন হামিম ও অর্পিতাকে মুখোমুখি বসিয়ে তাদের অর্থনৈতিক উৎস এবং দেশের আর কোন কোন রাজ্যে এই নাশকতার জাল বিস্তৃত রয়েছে, তার উত্তর খুঁজতে ম্যারাথন জেরা চালিয়ে যাচ্ছে।






