নিট আন্দোলনের নেতা ‘ককরোচ’ প্রতিষ্ঠাতা অভিজিতের আমেরিকায় পড়ার খরচ জোগাল কে? RTI-এর মুখে সপাট জবাব তরুণ নেতার

আমেরিকায় উচ্চশিক্ষা, সেখানে থাকাকালীন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP) প্রতিষ্ঠা, আর দেশে ফিরে হাজার হাজার পড়ুয়াকে সংগঠিত করে নিট (NEET) কেলেঙ্কারি নিয়ে টানা আন্দোলন। আর এই পুরো কর্মকাণ্ডের নেপথ্যে থাকা মুখটি হলেন অভিজিৎ দীপকে।
তবে সাফল্যের পাশাপাশি তাঁর দিকে উঠে এসেছিল একাধিক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ— বিদেশি মদত, অন্দরের রাজনৈতিক উসকানি এবং সর্বোপরি পারিবারিক আর্থিক অস্বচ্ছতা। এবার তথ্য জানার অধিকার আইনের (RTI) মোড়কে আসা সেইসব প্রশ্নবাণের মুখোমুখি হয়ে প্রামাণ্য নথিসহ সপাট জবাব দিলেন ‘ককরোচ’ প্রতিষ্ঠাতা।
সাধারণ পরিবারের ছেলে কীভাবে বস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ে?
মহারাষ্ট্রের এক অত্যন্ত সাধারণ পরিবারের সন্তান অভিজিৎ দীপকে। তাঁর বাবা ভগবানরাও দীপকে মহারাষ্ট্র ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশনের (MIDC) একজন জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার ছিলেন, যাঁর মাসিক বেতন আনুমানিক ৬০ থেকে ৬৫ হাজার টাকা।
একজন সাধারণ সরকারি কর্মচারীর ছেলে কীভাবে কোটি টাকা খরচের আমেরিকার বস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করতে গেলেন? এই প্রশ্ন তুলে দীপকে পরিবারের আর্থিক উৎসের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চেয়ে আরটিআই (RTI) দায়ের করেছিলেন সমাজকর্মী অমিত তিওয়ারি।
[অভিজিৎ দীপকের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ ও তার জবাব]
* অভিযোগ: বাবার সামান্য বেতনে বিদেশে পড়ার খরচ ও আন্দোলন পরিচালনায় বিদেশি ফান্ডের ব্যবহার।
* RTI দায়েরকারী: সমাজকর্মী অমিত তিওয়ারি।
* অভিজিতের যুক্তি: বস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুল স্কলারশিপ ও এডুকেশন লোন।
* সংগৃহীত আইনি তহবিল: প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিব্বলের দেওয়া ১ কোটি টাকার আর্থিক সহায়তা।
“বাবার টাকায় নয়, মেধার জোরে!”— নথি প্রকাশ অভিজিতের
আরটিআই দায়েরের পরেই নীরবতা ভেঙে সংবাদমাধ্যমের সামনে মুখ খোলেন অভিজিৎ দীপকে। ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি সাফ জানান—
“আমার পড়াশোনার খরচ জুগিয়েছে বস্টন বিশ্ববিদ্যালয়। সেখানকার স্কলারশিপে আমি উচ্চশিক্ষা করেছি। এছাড়া এডুকেশন লোন নিয়েছিলাম। এবার সেটা ফেরত দেওয়ার সময় এসে গিয়েছে। কেউ চাইলে আমি আমার সার্টিফিকেট ও নথিপত্র দেখাতে প্রস্তুত।”
নিজের দাবির সত্যতা প্রমাণ করতে ২০২৪ থেকে ২০২৫ শিক্ষাবর্ষ পর্যন্ত ধাপে ধাপে বস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে তাঁকে স্কলারশিপ বাবদ দেওয়া সমস্ত অর্থের অফিশিয়াল নথি প্রকাশ করেছেন তিনি।
‘ককরোচ জনতা পার্টি’ ও অনুদান বিতর্ক
বিতর্কের রেশ শুধু উচ্চশিক্ষার খরচে আটকে থাকেনি। নিট (NEET) আন্দোলন ব্যাপক সাফল্য পাওয়ার পর, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আইনি জটিলতায় জড়িয়ে পড়া আন্দোলনকারী পড়ুয়া ও কর্মীদের পাশে দাঁড়াতে একটি আইনি সহায়তা তহবিল গঠনের ঘোষণা করেছিলেন অভিজিৎ দীপকে এবং সৌরভ দাসরা।
সেই তহবিলে বর্ষীয়ান আইনজীবী ও রাজ্যসভার সংসদ কপিল সিব্বল ১ কোটি টাকা দেওয়ার কথা ঘোষণা করেন। এছাড়া আন্দোলনের সময় ককরোচ জনতা পার্টি বিদেশি অনুদান পাচ্ছিল বলেও গুরুতর অভিযোগ ওঠে, যা খতিয়ে দেখতে দাবি তুলেছেন বিরোধীরা।
এক নজরে অভিজিৎ দীপকে ও সিজেপি বিতর্ক:
| বিষয় | বিবরণ / তথ্য |
| বিতর্কিত ব্যক্তি | অভিজিৎ দীপকে (ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা) |
| মূল অভিযোগ | বেআইনি আর্থিক উৎস, বিদেশে পড়াশোনার খরচ ও বিদেশি ফান্ডিং |
| আরটিআই কর্মী | অমিত তিওয়ারি |
| অভিজিতের পেশ করা নথি | বস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের স্কলারশিপ সার্টিফিকেট |
| সহায়তাকারী প্রতিষ্ঠান | বস্টন বিশ্ববিদ্যালয় (স্কলারশিপ) ও ব্যাংক এডুকেশন লোন |
পড়ুয়াদের অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে নাম লেখানো তরুণ নেতা অভিজিৎ দীপকে ও তাঁর সংগঠন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’কে ঘিরে আইনি ও আর্থিক টানাপোড়েন এখন চরমে। তবে আরটিআই-এর জবাবে সোজা বস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কলারশিপের অফিসিয়াল ফাইল সামনে এনে অভিজিৎ আপাতত সমালোচকদের মুখ বন্ধ করতে পেরেছেন বলেই মনে করছে রাজনৈতিক ও ছাত্র মহলের একাংশ।





