গোটা কাশ্মীরে বেঁচে মাত্র ১ জন স্থানীয় জঙ্গি! পরিযায়ী শ্রমিক ও সিআরপিএফ হত্যায় অভিযুক্ত লতিফ ভাটের খোঁজে চিরুনি তল্লাশি

সেনা ও নিরাপত্তা বাহিনীর লাগাতার যৌথ অভিযানে কাশ্মীর উপত্যকা থেকে স্থানীয় জেহাদিদের সংখ্যা প্রায় শূন্যে এসে ঠেকেছে। তবে উপত্যকাকে পুরোপুরি স্থানীয় জঙ্গিমুক্ত করার পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে মাত্র একজন— মহম্মদ লতিফ ভাট। গত ১০ দিনে কুলগামে পরিযায়ী শ্রমিক হত্যা এবং অমরনাথ যাত্রায় পুলিশকর্মীকে গুলি করে মারার ঘটনায় এই লতিফের নাম জড়াতেই তাকে ধরে বা নিকেশ করতে কোমর বেঁধে নেমেছে কাশ্মীর পুলিশ ও সিআরপিএফ (CRPF)।
কুলগামের নৃশংসতা ও ধর্ম দেখে হত্যার অভিযোগ
গত শুক্রবার রাতে কুলগামের কেল্লাম গ্রামে দুই পরিযায়ী শ্রমিককে লক্ষ্য করে নির্বিচারে গুলি চালায় সন্ত্রাসবাদীরা। এতে গুরুতর আহত হন ছত্তিশগড়ের বাসিন্দা দীপক এবং তাঁর এক সঙ্গী। চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসপাতালে মৃত্যু হয় তাঁদের।
নিহত দীপকের ভাই মনোজের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ, “জঙ্গিরা এসে ওর ধর্ম ও নাম জানতে চায়। দীপক নিজেকে হিন্দু পরিচয় দেওয়া মাত্রই তাকে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি করা হয়।” এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে স্থানীয় জঙ্গি লতিফ ভাটের সরাসরি হাত রয়েছে বলে নিশ্চিত তদন্তকারীরা।

( কাশ্মীরে একমাত্র জীবিত স্থানীয় জঙ্গি মহম্মদ লতিফ ভাটের খোঁজে পুলিশ )
[কাশ্মীরে স্থানীয় জঙ্গিদের পরিসংখ্যানের রূপরেখা]
* ৫ বছর আগে: ৫০ থেকে ৬০ জন স্থানীয় জঙ্গি সক্রিয় ছিল।
* গত বছরের মে মাস: সংখ্যা কমে দাঁড়ায় ১৭ জন (১৪ জন কাশ্মীর ও ৩ জন জম্মু)।
* বর্তমান পরিস্থিতি: মাত্র ১ জন স্থানীয় জঙ্গি জীবিত (লতিফ ভাট)।
* পাকিস্তানি জঙ্গি: প্রায় ৪০ থেকে ৫০ জন বিদেশি/পাক জঙ্গি এখনও উপত্যকায় সক্রিয়।
এনআইএ-র কড়াকড়ি ও পাকিস্তান থেকে নিয়োগ বন্ধ
গোয়েন্দা সূত্রের খবর, গত কয়েক বছরে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (NIA) ও স্থানীয় পুলিশ বাহিনীর যৌথ তৎপরতায় চেইন-অফ-কমান্ড ভেঙে পড়েছে জঙ্গি সংগঠনগুলোর। এর ফলে উপত্যকার স্থানীয় তরুণদের মগজধোলাই করে নতুন করে দলে টানার পথ রুদ্ধ হয়ে গিয়েছে।
গত ৮ জুলাই অনন্তনাগে সেনা-জঙ্গি গুলির লড়াইয়ে লস্কর জঙ্গি জাকির আহমেদের মৃত্যু হলেও, চতুরতার সাথে সেবার পালিয়ে বাঁচতে সক্ষম হয়েছিল লতিফ। তবে উপত্যকায় আর কোনো স্থানীয় সঙ্গীর সমর্থন না পাওয়ায় লতিফ এখন সীমান্ত পারের ৪০-৫০ জন পাকিস্তানি জঙ্গির মদতে আত্মগোপন করে রয়েছে।
হিটলিস্টে এক নম্বর নাম
২২ জুলাই অমরনাথ যাত্রার নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এক হেড কনস্টেবলকে গুলি করে হত্যা করা থেকে শুরু করে কুলগামের জোড়া খুন— লতিফের প্রতিটি পদক্ষেপই উপত্যকায় নতুন করে আতঙ্ক ছড়ানোর চক্রান্ত। বর্তমানে কাশ্মীর পুলিশ ও সিআরপিএফের যৌথ হিটলিস্টের শীর্ষেই রয়েছে লতিফ ভাট। তাকে খুঁজে বের করতে সম্ভাব্য সমস্ত ডেরায় শুরু হয়েছে চিরুনি তল্লাশি।
এক নজরে মোস্ট ওয়ান্টেড লতিফ ভাট:
| বিষয় | বিবরণ / তথ্য |
| সন্ত্রাসবাদীর নাম | মহম্মদ লতিফ ভাট (Latif Bhat) |
| বর্তমান স্থিতি | কাশ্মীরের একমাত্র জীবিত স্থানীয় জঙ্গি |
| সাম্প্রতিক অপরাধ | কুলগামে ২ পরিযায়ী শ্রমিক ও অমরনাথ যাত্রায় পুলিশকর্মী হত্যা |
| অভিযান এলাকা | কুলগাম, অনন্তনাগ ও দক্ষিণ কাশ্মীর |
| নিরাপত্তা বাহিনীর লক্ষ্য | হিটলিস্টে রেখে চিরুনি তল্লাশি ও নিকেশ অভিযান |
কাশ্মীর থেকে স্থানীয় সন্ত্রাসবাদকে গোড়া থেকে উপড়ে ফেলার শেষ ধাপ এখন লতিফ ভাটের নিকেশ। সীমান্তে নজরদারি বৃদ্ধির পাশাপাশি উপত্যকার শেষ স্থানীয় জঙ্গিকে গ্রেপ্তার বা নিকেশ করতে পারলে জম্মু ও কাশ্মীরের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় এক নতুন মাইলফলক অর্জিত হবে বলে মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা।





