অনলাইন গেমিং থেকে সন্ত্রাসবাদে মগজধোলাই! হাওড়ার বি কম পড়ুয়া আদিত্য গ্রেফতার, মন্ত্রীর ওপর নজরদারির চাঞ্চল্যকর অভিযোগ

কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় ছড়িয়ে পড়া সন্ত্রাসবাদী নেটওয়ার্কের শিকড় উপড়ে ফেলতে ফের বড় সাফল্য পেল বেঙ্গল এসটিএফ (Bengal STF)। বর্ধমান ও ঝাড়খণ্ড থেকে ধৃত জঙ্গি হামিম মণ্ডল ও তার বান্ধবী অর্পিতাকে জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে উঠে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। সেই সূত্র ধরেই হাওড়ার বেলিলিয়াস রোড থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে কলকাতার এক কলেজের বি কমের ছাত্র আদিত্য সিংকে।
গভীর রাতে অভিযান, বাজেয়াপ্ত ল্যাপটপ-মোবাইল
শনিবার গভীর রাত ১২টা নাগাদ হাওড়ার বেলিলিয়াস রোডের একটি পাঁচতলা বাড়ির তিনতলায় হানা দেয় ১৫ থেকে ২০ জন এসটিএফ আধিকারিকদের একটি দল। বাড়ি ঘিরে ফেলে তল্লাশি চালিয়ে গ্রেফতার করা হয় ২৫ বছর বয়সী আদিত্য সিংকে। ঘরের ভেতর থেকে তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল ফোন এবং ল্যাপটপ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে, যার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলতে পারে বলে প্রাথমিক অনুমান।
সোমবার সকালে ঘটনা তদন্তে হাওড়া থানার পুলিশও আদিত্যের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করে। সোমবারই আদিত্যকে বর্ধমান আদালতে পেশ করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
[ঘটনা ও তদন্ত সংক্রান্ত মূল তথ্য]
* ধৃতের নাম: আদিত্য সিং (বি কম পড়ুয়া, হাওড়া)।
* মূল অভিযুক্ত: ধৃত জঙ্গি হামিম মণ্ডল ও বান্ধবী অর্পিতা।
* যোগাযোগের মাধ্যম: অনলাইন গেমিং অ্যাপ।
* দায়িত্ব/অ্যাসাইনমেন্ট: পুর প্রতিমন্ত্রী উমেশ রাই ও তাঁর পরিবারের ওপর নজরদারি ও তথ্য পাচার।
* বাজেয়াপ্ত করা জিনিস: মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপ।
ভার্চুয়াল গেমের আড়ালে ভয়াবহ মগজধোলাই
তদন্তকারীদের সূত্রে জানা গেছে, আদিত্যের সঙ্গে জঙ্গি হামিম মণ্ডলের প্রথম আলাপ হয়েছিল একটি অনলাইন গেমিং অ্যাপের সূত্রে। গেম খেলার ফাঁকেই দু’জনের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা বাড়ে। অল্প সময়ের মধ্যে আদিত্যকে সম্পূর্ণ প্রভাবিত করে তাঁর চরমপন্থী মগজধোলাই (Brainwashing) করে হামিম।
এর পর আদিত্যকে বিশেষ কিছু ‘অ্যাসাইনমেন্ট’ দেওয়া হয়। অভিযোগ, পশ্চিমবঙ্গের পুর প্রতিমন্ত্রী উমেশ রাই এবং তাঁর ছেলের যাবতীয় গতিবিধি, তাঁদের অবস্থান সংক্রান্ত স্পর্শকাতর তথ্য সংগ্রহ করে হামিম ও ঝাড়খণ্ড থেকে ধৃত অর্পিতার কাছে পাচার করত আদিত্য।
“নাতি এমন করতে পারে না”, কান্নায় ভেঙে পড়ল পরিবার
হাওড়ার এই বহুতলে আদিত্যদের পরিবার গত ৩৫-৪০ বছর ধরে বাস করছে। নিজের হাতে আদিত্যকে ছোট থেকে মানুষ করেছেন তাঁর দিদিমা মীরা সিং। নাতির গ্রেফতারির খবরে বিশ্বাসই করতে পারছেন না তিনি। মীরা দেবী কান্না ভেজা গলায় বলেন, “আমার নাতি এমন কোনো খারাপ কাজ করতেই পারে না। কেন তাকে পুলিশ জঙ্গি বলে নিয়ে গেল বুঝতে পারছি না।”
অন্যদিকে, প্রতিবেশী বিনোদ জয়সওয়াল জানান, পরিবারটিকে তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে অত্যন্ত ভদ্র হিসেবেই চেনেন। আদিত্য পাড়ার কারও সঙ্গে খুব একটা মিশত না এবং নিজের মধ্যেই থাকত। তার ভেতরে যে এমন ঘটনা চলছিল, তা স্বপ্নেও ভাবতে পারেননি প্রতিবেশীরা।
এক নজরে মামলার ঘটনাক্রম:
| সময়/তারিখ | ঘটনা |
| গত বৃহস্পতিবার | বর্ধমানের জিম থেকে মূল জঙ্গি অভিযুক্ত হামিম মণ্ডল গ্রেফতার |
| পরবর্তী পদক্ষেপ | ঝাড়খণ্ডের সাহেবগঞ্জ থেকে পাকড়াও হামিমের বান্ধবী অর্পিতা |
| শনিবার গভীর রাত | হাওড়ার বেলিলিয়াস রোড থেকে গ্রেফতার সহযোগী আদিত্য সিং |
| সোমবার | হাওড়া থানা পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদ ও বর্ধমান আদালতে পেশ |
অনলাইন গেমিং প্ল্যাটফর্মগুলোকে কীভাবে দেশবিরোধী ও জঙ্গি গোষ্ঠীগুলো তরুণদের মগজধোলাই করার অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে, আদিত্য সিংয়ের গ্রেফতারি সেই কঙ্কালসার চেহারাটি আবারও প্রকাশ করল। এসটিএফ এখন খতিয়ে দেখছে— হাওড়া বা কলকাতার আর কোনো তরুণ এই গেমিং ফাঁদে পা দিয়েছিল কি না।






