পাকিস্তানে ‘অজ্ঞাতপরিচয়’ বন্দুকবাজের আতঙ্ক! বেছে বেছে খতম ৩০ জন লস্কর জঙ্গি, ভারত বিরোধী ফাঁদ ফাঁস করে ভিডিও প্রকাশ শীর্ষ জঙ্গির

পাকিস্তান ও পাক অধিকৃত কাশ্মীরের (PoK) সুরক্ষিত ডেরায় নিশ্চিন্তে থাকা ভারত-বিরোধী ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ লস্কর-এ-তইবা (Lashkar-e-Taiba) জঙ্গিদের মনে এখন চরম মৃত্যুভয়। কারণ একটাই— রহস্যময় ‘অজ্ঞাতপরিচয়’ বন্দুকবাজ! খোদ নিষিদ্ধ সন্ত্রাসবাদী সংগঠন লস্করের সদস্যরাই স্বীকার করে নিয়েছে যে, গত ৩-৪ বছরে তাদের ৩০ জনেরও বেশি সদস্য অচেনা আততায়ীর হাতে নিহত হয়েছে। সম্প্রতি ভাইরাল হওয়া এক চাঞ্চল্যকর ভিডিও বার্তায় এই রহস্যের কথা ফাঁস করেছে লস্করের অন্যতম সঙ্গী তথা ভারত-খোজা জঙ্গি রিজওয়ান হানিফ।
কোথায় এবং কীভাবে খতম হচ্ছে ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ জঙ্গিরা?
২০০৮ সালের ভয়াবহ মুম্বই ২৬/১১ হামলার মাস্টারমাইন্ড ও সহযোগীদের কেন্দ্রস্থল ছিল এই লস্কর-এ-তইবা। বিগত তিন-চার বছর ধরে পাকিস্তানের মাটিতে একের পর এক সুরক্ষিত আস্তানায় ঢুকে ঢুকে খতম করা হচ্ছে এই ভারত-বিরোধী কুখ্যাত জঙ্গিদের।
লস্কর ঘনিষ্ঠ রিজওয়ান হানিফ যে ভিডিও প্রকাশ করেছে, তাতে জানানো হয়েছে যে—
- পেশোয়ার
- করাচি
- রাওয়ালপিন্ডি
- রাওয়ালকোট এবং
- মুজাফফরাবাদ (PoK)
—এই সমস্ত এলাকায় অতর্কিতে ঢুকে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি চালিয়ে অন্তত ৩০ জন শীর্ষ লস্কর ক্যাডারকে খতম করেছে ওই ‘রহস্যময়’ আততায়ীরা।
[পাকিস্তানে লস্কর জঙ্গি নিধন: সংক্ষেপ]
* মোট নিহত জঙ্গি: ৩০ জনেরও বেশি।
* চিহ্নিত এলাকা: পেশোয়ার, করাচি, রাওয়ালপিন্ডি, রাওয়ালকোট, মুজাফফরাবাদ।
* স্বীকারোক্তি প্রদানকারী: লস্কর সঙ্গী ও শীর্ষ জঙ্গি রিজওয়ান হানিফ (ভিডিও মারফত)।
* জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা: ২০০৫ সাল থেকে (আল-কায়েদা ও তালিবান যোগসূত্রের কারণে)।
প্রথমবার প্রকাশ্যে হাহাকার লস্করের, ভিডিও যাচাই ভারতীয় সংস্থায়
উল্লেখ্য, ২০০৫ সালে রাষ্ট্রসংঘ কর্তৃক আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে নিষিদ্ধ হওয়া লস্কর-এ-তইবা এই প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের ক্যাডারদের এই ধরনের পরিকল্পিত গুপ্তহত্যার কথা জনসমক্ষে স্বীকার করল।
সোশাল মিডিয়ায় রিজওয়ান হানিফের এই ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পরপরই ভারতের নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলি সেটির সত্যতা যাচাই করেছে। নিশ্চিত করা হয়েছে যে, ভিডিওতে বক্তব্য রাখা ব্যক্তি রিজওয়ান হানিফ নিজেই এক শীর্ষস্থানীয় লস্কর সন্ত্রাসী, যাকে বহু দিন ধরে খুঁজছে ভারত।
ভারতের দিকে আঙুল তুলে বিষোদ্গার
ভিডিও বার্তায় নিজের দলের নিহতের তালিকা তুলে ধরার পাশাপাশি লস্কর নেতা রিজওয়ান হানিফ সরাসরি ভারতের প্রতি তোপ দেগেছে। তার দাবি, ভারতীয় গুপ্তচর সংস্থাই পাকিস্তানের অন্দরে জাল বিছিয়ে এই হত্যাকাণ্ডগুলি পরিচালনা করছে।
যদিও ভারত সরকার ও আন্তর্জাতিক কূটনীতি আগেই পরিষ্কার জানিয়েছে যে, প্রতিবেশী রাষ্ট্রে কোনো ধরণের গুপ্তহত্যার পেছনে ভারতের হাত নেই; বরং পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ গ্যাংওয়ার, উগ্রপন্থী গোষ্ঠীর নিজেদের কোন্দল কিংবা ‘অজ্ঞাতপরিচয়’ রহস্যময় কোনো শক্তির শিকার হচ্ছে এরা। উল্লেখ্য, ওই ভিডিওতে হানিফকে হিন্দু ধর্মের বিরুদ্ধে চরম আপত্তিকর ও বিদ্বেষমূলক মন্তব্য করতেও শোনা গিয়েছে।
এক নজরে পাকিস্তানে লস্কর জঙ্গি হত্যা মামলা:
| বিষয় | বিবরণ / তথ্য |
| সংগঠন | লস্কর-এ-তইবা (Lashkar-e-Taiba) |
| নিহত জঙ্গির সংখ্যা | অন্তত ৩০ জন |
| ভিডিও প্রকাশকারী | রিজওয়ান হানিফ (লস্কর ঘনিষ্ট শীর্ষ সন্ত্রাসী) |
| মূল প্রভাবিত এলাকা | করাচি, পেশোয়ার, রাওয়ালপিন্ডি, PoK (মুজাফফরাবাদ) |
| ভারতের বক্তব্য | মনগড়া অভিযোগ প্রত্যাখ্যান, নিজেদের অপরাধ লুকাতে মিথ্যা রটনা |
পাক অধিকৃত কাশ্মীর ও পাকিস্তানের মূল ভূখণ্ডে একে একে ভারতের ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ তালিকার জঙ্গিদের নিকেশ হওয়ার ঘটনা পাক সেনাবাহিনী ও আইএসআই (ISI)-এর সুরক্ষাবলয়কে পুরোপুরি চুরমার করে দিয়েছে। এই ‘হামজা রহস্য’ বা অজ্ঞাতপরিচয় বন্দুকবাজদের ভয়ে এখন নিজেদের গোপন আস্তানাতেও কাঁপছে পাকিস্তান আশ্রিত লস্কর জঙ্গিরা।






