আইএসএল থেকে জামশেদপুর এফসি তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত অত্যন্ত হৃদয়বিদারক! টাটাদের সিদ্ধান্ত বদলের আকুল আবেদন সুনীল ছেত্রীর

ইন্ডিয়ান সুপার লিগে (ISL) কি আর দেখা যাবে না ‘রেড মাইনার্স’ বা জামশেদপুর এফসি-কে? ডুরান্ড কাপ চলাকালীন ফুটবল প্রেমীদের মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়েছে। আর্থিক অনটন নয়, বরং এফএসডিএল (FSDL) চলে যাওয়ার পর সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের লিগ পরিচালনার অদূরদর্শিতা ও ‘নমো নমো’ করে শেষ করার পরিকল্পনার প্রতিবাদেই আইএসএল থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে টাটা গ্রুপ। তবে এই সিদ্ধান্ত কেবল একটি ক্লাবের বন্ধ হওয়া নয়, গোটা ভারতীয় ফুটবলের পরিকাঠামোর ওপর মারাত্মক আঘাত— এমনটাই মনে করছেন ভারত অধিনায়ক সুনীল ছেত্রী (Sunil Chhetri)।
কেন আইএসএল থেকে সরছে টাটা?
টাটা গ্রুপের জন্য ফুটবল টিম পরিচালনা করার বাজেট কোনো বড় সমস্যা নয়। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে অ্যাকাডেমি চালিয়ে দেশের তরুণ ফুটবলার গড়ে তোলার কাজ নিখুঁতভাবে করে আসছে তারা।
কিন্তু মূল কারণ হলো, এফএসডিএল সরে যাওয়ার পর ভারতীয় ফুটবলের এক নম্বর লিগ যেভাবে কোনোমতে খাপছাড়াভাবে আয়োজন করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে, তা কোনো প্রফেশনাল কর্পোরেট সংস্কৃতির সঙ্গে মিলছে না। তাই টাটা বোর্ডের নতুন সদস্যরা সিদ্ধান্ত নেন, এই ঢিলেঢালা লিগে মূল টিম খেলিয়ে কোনো লাভ নেই। তবে তারা জানিয়েছে, অ্যাকাডেমি পর্যায়ে জুনিয়র ফুটবল ডেভলপমেন্টে খরচ আগের মতোই চালিয়ে যাবে।
[জামশেদপুর এফসি সংকটের চিত্র]
* কারণ: এফএসডিএল পরবর্তী আইএসএলের লিগ পরিচালনায় অবহেলা ও অনিশ্চয়তা।
* ক্ষতিগ্রস্ত: দলের প্লেয়ার, কোচিং স্টাফ ও গোটা ভারতীয় ফুটবলের ইকোসিস্টেম।
* জুনিয়র ফুটবল: বন্ধ হচ্ছে না, টাটা অ্যাকাডেমির কাজ অব্যাহত থাকবে।
* প্রতিরোধ: প্লেয়ারদের আবেগঘন ভিডিও প্রকাশ ও সুনীল ছেত্রীর প্রকাশ্য আপিল।
ড্রেসিংরুম থেকে প্রণয় হালদারদের করুণ আবেদন
আগামী অক্টোবর মাসে মাঠে গড়ানোর কথা ছিল নতুন আইএসএল মরশুমের। কিন্তু তার ঠিক আগেই অফিশিয়ালি জামশেদপুর সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়ায় মাথায় হাত পড়েছে ফুটবলার ও সাপোর্ট স্টাফদের। শেষ মুহূর্তে কোথায় সই করবেন তাঁরা?
অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে প্রণয় হালদার, প্রতীক চৌধুরি, সার্থক গোলুই সহ দলের ফুটবলাররা ড্রেসিংরুম থেকে একটি মর্মস্পর্শী ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেন। যেখানে তাঁরা টাটা কর্তৃপক্ষের কাছে হাতজোর করে আবেদন জানান, যেন খেলোয়াড়দের রুজিরুটির দিকে তাকিয়ে এই কঠিন সিদ্ধান্ত থেকে ফিরে আসা হয়।
“মস্তিষ্ক নয়, সিদ্ধান্ত নিন হৃদয় দিয়ে”— সুনীলের আবেগময় বার্তা
জুনিয়র সতীর্থদের আকুল কান্না ও ভিডিও দেখে নিজেকে স্থির রাখতে পারেননি ভারতীয় ফুটবলের লেজেন্ড সুনীল ছেত্রী। নিজের ‘এক্স’ (পূর্বতন টুইটার) হ্যান্ডেলে একটি দীর্ঘ আবেগঘন বার্তা শেয়ার করে তিনি সরাসরি টাটা কর্তৃপক্ষের কাছে পুনর্বিবেচনার আবেদন জানিয়েছেন।
সুনীল লিখেছেন, “ভারতীয় ফুটবলের বর্তমান যা অবস্থা, তাতে পরিকাঠামো টিকিয়ে রাখাই দায়। সেখানে বহু বছর ধরে টাটা আমাদের ফুটবলের মেরুদণ্ড হয়ে কাজ করছে। ভারতে ফুটবলে বিনিয়োগ করে ব্যবসা বা লাভের মুখ দেখা যায় না, সেটা আমরা সবাই জানি। কিন্তু ফুটবলের মতো আবেগের খেলায় সবসময় শুধু মস্তিষ্ক দিয়ে লাভ-ক্ষতির হিসাব না কষে, কিছুটা হৃদয় দিয়েও সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।”
সুনীল আরও যোগ করেন, “জামশেদপুর সরে গেলে হয়তো একটা দল কম নিয়ে বা অন্য কাউকে এনে লিগ চালানো সম্ভব হবে। কিন্তু টাটাদের মতো সংস্থা ভারতীয় ফুটবলের মূল স্রোত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়াটা পুরো দেশের ফুটবলের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি হবে।”
এক নজরে জামশেদপুর এফসি ও সুনীলের আবেদন:
| বিষয় | তথ্য / বিবরণ |
| দল | জামশেদপুর এফসি (Jamshedpur FC) |
| মালিকানা | টাটা গ্রুপ (Tata Group) |
| সমস্যা | এফএসডিএল পরবর্তী আইএসএল লিগ পরিচালনার অনিয়ম |
| প্রভাবিত ব্যক্তি | দলের ফুটবলার, কোচ, সাপোর্ট স্টাফ ও ভারতীয় ফুটবলপ্রেমীরা |
| প্রতিবাদের মুখ | প্রণয় হালদার, প্রতীক চৌধুরি ও ভারতীয় অধিনায়ক সুনীল ছেত্রী |
ভারতীয় ফুটবলের ক্রান্তিলগ্নে যেখানে কর্পোরেট সংস্থাগুলির বিনিয়োগ অত্যন্ত জরুরি, সেখানে টাটার মতো শতাব্দীপ্রাচীন বিশ্বস্ত ব্র্যান্ডের মুখ ফিরিয়ে নেওয়া সত্যি এক অশনি সংকেত। ফুটবলারদের কান্না আর ভারতীয় ফুটবলের জীবন্ত কিংবদন্তি সুনীল ছেত্রীর এই খোলা চিঠির পর কি বরফ গলবে টাটা বোর্ডের বন্ধ ঘরের আলোচনায়? উত্তর লুকিয়ে সময়ের গর্ভে।






