“১০০% বিশুদ্ধ” দাবি নিয়ে কড়া শাস্তি! ডাবরের ঘি, মধু, নারকেল তেল-সহ বিপুল পণ্য বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করল FSSAI

ভারতের অন্যতম জনপ্রিয় এফএমসিজি (FMCG) ও আয়ুর্বেদ প্রস্তুতকারী সংস্থা ‘ডাবর ইন্ডিয়া’ (Dabur India)-র ওপর আছড়ে পড়ল এফএসএসএআই (FSSAI)-এর শাস্তির খাঁড়া। নিজেদের তৈরি খাদ্যপণ্যকে “১০০ শতাংশ বিশুদ্ধ” বা “১০০% পিওর” হিসেবে বছরের পর বছর প্রচার চালানোর অভিযোগে ডাবরের একাধিক ফ্ল্যাগশিপ পণ্যের বিক্রি ও বিজ্ঞাপনের ওপর পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে দেশের খাদ্য সুরক্ষা ও মান নির্ধারণকারী সংস্থা।
কেন শাস্তির মুখে পড়ল ডাবর?
ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (FSSAI)-এর ২০১৮ সালের খাদ্য বিজ্ঞাপন ও দাবি-সংক্রান্ত নির্দেশিকা অনুযায়ী, কোনো প্রক্রিয়াজাত খাদ্য বা কম্পাউন্ড ফুডের ক্ষেত্রে “১০০ শতাংশ বিশুদ্ধ” বলে দাবি করা সম্পূর্ণ বিভ্রান্তিকর ও আইনবহির্ভূত। কারণ ব্যবহারিক ও বৈজ্ঞানিক দিক থেকে একাধিক উপাদানের মিশ্রণে তৈরি খাবারে শতভাগ বিশুদ্ধতা বজায় রাখা প্রায় অসম্ভব।
এফএসএসএআই সূত্রে জানানো হয়েছে, আগে নোটিস দেওয়া সত্ত্বেও ডাবর কর্তৃপক্ষ এই ধরনের বিভ্রান্তিকর গ্যারান্টিযুক্ত বিজ্ঞাপন বন্ধ করেনি। সেই কারণেই সোমবার কড়া নির্দেশিকা প্রকাশ করে এই বিপুল পণ্যসামগ্রী নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
[নিষিদ্ধ পণ্যের তালিকা ও আইনি পদক্ষেপ]
* নিষিদ্ধ পণ্য: মধু, ঘি, অ্যাপেল সাইডার ভিনিগার, তিল তেল, ভার্জিন কোকোনাট অয়েল, নারকেল জল ও নারকেল দুধ।
* বিজ্ঞাপনী কারণ: "১০০% বিশুদ্ধ" হিসেবে বিভ্রান্তিকর প্রচার চালানো।
* সময়সীমা: মঙ্গলবার (আগস্ট ৫) থেকে তাৎক্ষণিক বিক্রি বন্ধের নির্দেশ।
* জবাবদিহি: আগামী ১৫ দিনের মধ্যে রিপোর্ট পেশ করার নির্দেশ।
কী কী পণ্য নিষিদ্ধ করল FSSAI?
সোমবার কেন্দ্রীয় নিয়ামক সংস্থা এফএসএসএআই যে নির্দেশিকা জারি করেছে, তাতে ডাবরের একাধিক নিত্যপ্রয়োজনীয় রান্না ও স্বাস্থ্যকর খাদ্যপণ্যের বিক্রি অবিলম্বে বন্ধ করতে বলা হয়েছে। নিষিদ্ধ তালিকায় থাকা প্রধান পণ্যগুলি হলো:
- ডাবর মধু (Dabur Honey)
- ডাবর ঘি (Dabur Ghee)
- অ্যাপেল সাইডার ভিনিগার (Apple Cider Vinegar)
- ভার্জিন কোকোনাট অয়েল ও তিল তেল
- ডাবর নারকেল জল এবং নারকেল দুধ
সোমবার এই নোটিস পাঠানোর ফলে মঙ্গলবার থেকেই বাজার ও ই-কমার্স সাইটগুলো থেকে এই পণ্যগুলোর বিক্রি বন্ধের বাধ্যবাধকতা তৈরি হয়েছে।
১৫ দিনের মধ্যে রিপোর্ট তলব, ডাবরের প্রতিক্রিয়া
এফএসএসএআই কেবল পণ্য বিক্রিতেই নিষেধাজ্ঞা দেয়নি, পাশাপাশি এই নিয়ম লঙ্ঘনের কারণ দর্শিয়ে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে ডাবর কর্তৃপক্ষকে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
অন্যদিকে, নিয়ামক সংস্থার নির্দেশ পাওয়ার পরই নিজেদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট এবং বিভিন্ন ই-কমার্স ও বিপণন প্ল্যাটফর্মে পণ্যের তথ্য ও বিজ্ঞাপনে প্রয়োজনীয় পর্যবেক্ষণ ও পরিবর্তনের কাজ শুরু করা হয়েছে বলে ডাবর সূত্রের খবর।
এক নজরে ডাবর ও FSSAI বিতর্ক:
| বিষয় | বিবরণ / তথ্য |
| অভিযুক্ত সংস্থা | ডাবর ইন্ডিয়া (Dabur India) |
| পদক্ষেপ গ্রহণকারী সংস্থা | FSSAI (ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস অথরিটি অফ ইন্ডিয়া) |
| মূল অভিযোগ | “১০০% বিশুদ্ধ” দাবির বিভ্রান্তিকর বিজ্ঞাপন দেওয়া |
| প্রভাবিত পণ্যসমূহ | মধু, ঘি, ভিনিগার, কোকোনাট অয়েল, তিল তেল, নারকেল জল |
| আইনি নির্দেশ | অবিলম্ব বিক্রি বন্ধ ও ১৫ দিনের মধ্যে রিপোর্ট পেশ |
ক্রেতাদের কাছে বিভ্রান্তিকর তথ্য ও অতিরিক্ত বিশুদ্ধতার বার্তা দিয়ে পণ্য বিক্রি ঠেকাতে FSSAI-এর এই পদক্ষেপ ভারতীয় খাদ্য বাজারে বেশ বড় বার্তা দিয়েছে। ডাবরের মতো নামী ব্র্যান্ডের এই শাস্তির ফলে অন্যান্য খাদ্য প্রস্তুতকারী সংস্থাও যে এখন থেকে পণ্যের গায়ে বা বিজ্ঞাপনে “১০০% বিশুদ্ধ” জাতীয় দাবি করার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সতর্ক হতে বাধ্য হবে, তা বলাই বাহুল্য।






