যন্তর মন্তরের অনশনে মেলেনি রাহুল গান্ধীর সাড়া, ছবি ফাঁসেও চরম ক্ষুব্ধ সোনম ওয়াংচুক! বড প্রশ্ন তুলে রাজনৈতিক নেতাদের ওপর হারালেন আস্থা

দেশজুড়ে নিট (NEET) প্রশ্নফাঁস ও শিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তনের দাবিতে দিল্লির যন্তর মন্তরে টানা ২৬ দিন অনশন করেছিলেন বিখ্যাত পরিবেশকর্মী ও শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুক। তবে সেই ঐতিহাসিক আন্দোলনের সমাপ্তি এবং রাজনৈতিক নেতাদের ভূমিকা নিয়ে সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন তিনি। লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর নীরবতা এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠকের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের ঘটনা তুলে ধরে সোনম ওয়াংচুক সাফ জানিয়ে দিলেন, দেশের রাজনৈতিক নেতাদের ওপর থেকে তাঁর সমস্ত আস্থা উঠে গিয়েছে।
Main Story
১. রাহুল গান্ধীর কাছে পৌঁছায়নি সাড়া!
সাক্ষাৎকারে যন্তর মন্তরের পুরনো অভিজ্ঞতা স্মরণে এনে সোনম ওয়াংচুক জানান, তাঁর আন্দোলন চলাকালীন স্ত্রী গীতাঞ্জলী চেয়েছিলেন দেশের প্রধান বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর উপস্থিতিতে অনশন ভঙ্গ করতে।
গীতাঞ্জলী বারবার রাহুলের টিমের সঙ্গে যোগাযোগের আপ্রাণ চেষ্টা করলেও বিরোধী দলনেতার তরফে কোনো ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া আসেনি। তিনি বলেন, “গীতাঞ্জলী কখনই রাহুলের বিরুদ্ধে ছিলেন না। তিনি শুধু চেয়েছিলেন রাহুল এসে অনশন ভাঙাক, কিন্তু যন্তর মন্তরের মঞ্চে রাহুলের কোনো দেখা পাওয়া যায়নি।”
[যন্তর মন্তর অনশন ও বিতর্কিত ঘটনাবলী]
* আন্দোলনের কারণ: নিট (NEET) প্রশ্নফাঁস প্রতিরোধ ও শিক্ষা সংস্কারের দাবি।
* অনশনের সময়কাল: টানা ২৬ দিন (দিল্লির যন্তর মন্তরে)।
* উপস্থিত কেন্দ্রীয় মন্ত্রী: জেপি নাড্ডা এবং জিতেন্দ্র সিং (মধ্যরাতের বৈঠক)।
* মূল অভিযোগ: রাহুল গান্ধীর অনুপস্থিতি ও অনশন শেষের ছবি অকালেই ফাঁস করা।
২. মধ্যরাতের বৈঠক এবং চুক্তিভঙ্গের অভিযোগ
শুধু বিরোধী শিবিরই নয়, অনশন শেষের প্রশাসনিক প্রক্রিয়া নিয়ে শাসক শিবিরের ওপরও সমান ক্ষুব্ধ সোনম। তিনি চাননি অনশন ভঙ্গের মুহূর্তটিকে কেবল সরকারের বিজয় হিসেবে দেখা হোক; বরং চেয়েছিলেন শাসক-বিরোধী উভয় পক্ষের নেতা এবং শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত থাকুন।
তিনি জানান, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা এবং জিতেন্দ্র সিং মধ্যরাতে তাঁর সঙ্গে দেখা করতে এলে এই প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। স্থির হয়েছিল, অনশন শেষের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার পরই ছবি প্রকাশ করা হবে। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি না রেখে আগেভাগেই মধ্যরাতের বৈঠকের ছবি বাইরে ফাঁস করে দেওয়া হয়, যা অত্যন্ত হতাশাজনক।

৩. ‘গোপন সমঝোতা’র অভিযোগ উড়িয়ে সোনমের বার্তা
মধ্যরাতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের সাথে সাক্ষাতের ঘটনার পর নেটপাড়ায় বা একাংশে সোনমের বিরুদ্ধে ‘গোপন রাজনৈতিক সমঝোতা’র জল্পনা শুরু হয়। সেই অভিযোগের কড়া জবাব দিয়ে শিক্ষাবিদ বলেন, “যদি রাজনৈতিক সমঝোতাই উদ্দেশ্য হতো, তবে ২৬ দিন ধরে অনশন করার দরকার ছিল না। চাইলে বড় কোনো রাজনৈতিক সুবিধার দরকষাকষি করতে পারতাম। কিন্তু আমার আন্দোলন ছিল শান্তিপূর্ণ এবং শিক্ষার স্বার্থে, কোনো ব্যক্তিগত লাভের জন্য নয়।”
রাজনীতিবিদদের এই দ্বিচারিতা ও প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি চরম হতাশা প্রকাশ করেন এবং বলেন— “আমি সব রাজনৈতিক নেতার ওপর থেকেই আস্থা হারিয়েছি।”
এক নজরে সোনম ওয়াংচুকের আন্দোলন ও মন্তব্য:
| বিষয় | বিবরণ / তথ্য |
| আন্দোলনকারী | সোনম ওয়াংচুক (পরিবেশকর্মী ও শিক্ষাবিদ) |
| আন্দোলনের স্থান | যন্তর মন্তর, নতুন দিল্লি |
| অভিযোগের তির | রাহুল গান্ধী (বিরোধী) ও শাসকদলের শীর্ষ মন্ত্রীরা |
| চূড়ান্ত মন্তব্য | সমস্ত রাজনৈতিক নেতৃত্বের ওপর থেকে সম্পূর্ণ আস্থা হারানো |
Conclusion
শিক্ষাব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের দাবিতে অনশনে বসা সোনম ওয়াংচুকের এই সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকার ভারতের রাজনীতিতে শাসক ও বিরোধী উভয়ের ভূমিকা নিয়েই এক বড় প্রশ্ন তুলে দিল। রাজনৈতিক স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে শিক্ষার্থীদের দাবি কতখানি প্রাধান্য পাচ্ছে, এই বিতর্ক আবার উসকে গেল।






