দুই নাবালিকাকে শ্লীলতাহানির গুরুতর অভিযোগ! পাথরপ্রতিমায় বিজেপি নেতা গ্রেপ্তার, তৎক্ষণাৎ বহিষ্কার করল দল

দক্ষিণ ২৪ পরগনার পাথরপ্রতিমা ব্লকে এক আঁকা শিক্ষকের বিরুদ্ধে দুই নাবালিকা ছাত্রীকে শ্লীলতাহানি করার অভিযোগে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্ত দীপক মাইতি স্থানীয় বিজেপির গ্রামীণ সাধারণ সম্পাদক পদে আসীন ছিলেন। ঘটনাটি জানাজানি হতেই স্থানীয় বাসিন্দাদের ক্ষোভের মুখে পড়তে হয় তাকে। পুলিশ কড়া আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের পাশাপাশি দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে সঙ্গে সঙ্গেই ওই অভিযুক্তকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে বিজেপি নেতৃত্ব।
আঁকার ক্লাসে অশালীন আচরণ ও গণরোষ
ঘটনাটি ঘটেছে পাথরপ্রতিমা ব্লকের লক্ষ্মী জনার্দনপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায়। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত দীপক মাইতি আঁকা শেখানোর কাজ করতেন। বৃহস্পতিবার আঁকার ক্লাসে দুই নাবালিকা ছাত্রী এলে সুযোগ বুঝে তাদের সঙ্গে অশালীন আচরণ ও শ্লীলতাহানি করা হয় বলে অভিযোগ।
ছাত্রীরা বাড়িতে ফিরে পুরো বিষয়টি জানালে ক্ষুব্ধ পরিবার ও প্রতিবেশীরা দীপক মাইতিকে পাকড়াও করে। উত্তেজিত জনতা তাকে একটি চেয়ারে বেঁধে মারধর করে এবং খবর দেওয়া হয় পুলিশে। পাথরপ্রতিমা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
[ঘটনা সংক্রান্ত সংক্ষিপ্ত বিবরণী]
* ঘটনাস্থল: লক্ষ্মী জনার্দনপুর গ্রাম পঞ্চায়েত, পাথরপ্রতিমা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা।
* অভিযুক্ত: দীপক মাইতি (বিজেপি গ্রামীণ সাধারণ সম্পাদক ও আঁকা শিক্ষক)।
* ভুক্তভোগী: দুই নাবালিকা ছাত্রী।
* আইনি পদক্ষেপ: পকসো (POCSO) আইনে মামলা ও গ্রেপ্তার।
* বিচার বিভাগীয় আপডেট: কাকদ্বীপ মহকুমা আদালতে পেশ।
পকসো ধারায় মামলা ও আদালতে পেশ
দুই নাবালিকা ছাত্রীর পরিবারের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে পাথরপ্রতিমা থানার পুলিশ মামলা রুজু করেছে। ধৃতের বিরুদ্ধে পকসো (POCSO) আইনের একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। শুক্রবার সকালে পুলিশ তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার করার পর কাকদ্বীপ মহকুমা আদালতে পেশ করে। তবে আদালতে নিয়ে যাওয়ার সময় নিজেকে নির্দোষ দাবি করে দীপক মাইতি জানান, তাঁকে রাজনৈতিকভাবে চক্রান্ত করে ফাঁসানো হয়েছে।
‘জিরো টলারেন্স’ নীতি, বিজেপি থেকে বহিষ্কার
অভিযোগ প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক মহলে চরম তোলপাড় শুরু হয়। দল যে যেকোনো ধরণের নারী নির্যাতন ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর, তা প্রমাণ করে কালবিলম্ব না করে অভিযুক্তকে বহিষ্কারের কথা ঘোষণা করে বিজেপি।
পাথরপ্রতিমা বিধানসভা কেন্দ্রের সাংগঠনিক আহ্বায়ক নন্দলাল বারুই স্পষ্ট জানান, “অন্যায় বা অপরাধ করলে কাউকেই রেয়াত করা হবে না, তা তিনি যে পদেরই হন না কেন। আইনের উর্দ্ধে কেউ নয়। দোষ প্রমাণিত হলে যাতে তাঁর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হয়, সেই দাবিই আমরা জানাই।”
এক নজরে পাথরপ্রতিমার ঘটনা:
| বিষয় | বিবরণ / তথ্য |
| ঘটনাস্থল | পাথরপ্রতিমা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা |
| অভিযোগের ধরণ | দুই নাবালিকার শ্লীলতাহানি |
| ধৃতের পরিচয় | দীপক মাইতি (বিজেপি নেতা ও আঁকা শিক্ষক) |
| রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত | দল থেকে স্থায়ী বহিষ্কার |
| বর্তমান স্থিতি | পকসো মামলায় কাকদ্বীপ আদালতে পেশ |
শিশু সুরক্ষা ও নারীদের প্রতি অপরাধ নিয়ে সমাজ ও আইন অত্যন্ত কড়া। এই ঘটনায় দ্রুত পুলিশি ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি রাজনৈতিক দলটির কড়া সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন সমাজ।






