ভারত-পাকিস্তান ফের মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়ালে পাশে থাকবে সৌদি ও তুরস্ক! জেদ্দায় যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির সম্ভাবনা

“অপারেশন সিঁদুর এখনও শেষ হয়নি!” —কয়েক মাস আগেই ভারতকে লক্ষ্য করে সীমান্তপার সন্ত্রাস চালানোর বিরুদ্ধে পাকিস্তানকে কড়া বার্তা দিয়েছিলেন তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী। ইঙ্গিত দিয়েছিলেন ‘অপারেশন সিঁদুর ২.০’-র। কিন্তু ভবিষ্যতে যদি ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে ফের প্রত্যক্ষ সামরিক সংঘর্ষ বেঁধে যায়, তবে ইসলামাবাদের পাশে প্রকাশ্যে এসে দাঁড়াতে পারে দুই শক্তিশালী দেশ— সৌদি আরব এবং তুরস্ক। ফরাসি সংবাদ সংস্থা এএফপি (AFP)-র চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট অনুযায়ী, সৌদির জেদ্দা শহরে এই তিন দেশের মধ্যে একটি ঐতিহাসিক ত্রিপাক্ষিক প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে চলেছে।
জেদ্দায় ট্রিপাক্ষিক বৈঠক ও প্রতিরক্ষা চুক্তি
আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে চলতে থাকা তীব্র উত্তেজনার আবহেই মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার কৌশলগত সমীকরণ দ্রুত বদলাচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক উচ্চপদস্থ সূত্রের বরাতে এএফপি জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে পাকিস্তান, তুরস্ক ও সৌদির মধ্যে একটি যৌথ সামরিক আন্ডারস্ট্যান্ডিং বা প্রতিরক্ষা সমঝোতা নিয়ে আলোচনা চলছিল।
সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক পরিস্থিতির টানাপোড়েনে সেই চুক্তি স্বাক্ষরের প্রক্রিয়া বহুগুণ দ্রুত রূপ নিয়েছে। সৌদির জেদ্দা শহরে এই চুক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে বাস্তবায়িত হলে তা দক্ষিণ এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক ভারসাম্যকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করবে।
[অপারেশন সিঁদুর ও নতুন ভূ-রাজনৈতিক জোটের বিবরণী]
* ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: ২২ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ে ২৬ জন নিহতের জবাবে ৭ মে ভারতের 'অপারেশন সিঁদুর'।
* ৮৮ ঘণ্টার ক্ষয়ক্ষতি: ৯টি জঙ্গিঘাঁটি ধ্বংস, ১১টি পাক বিমানঘাঁটি তছনছ, ১০০+ জঙ্গি ও ৩৫-৪০ পাক সেনা নিহত।
* সেনাপ্রধানের হুঙ্কার: সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদীর ‘অপারেশন সিঁদুর ২.০’-র সতর্কবার্তা।
* নতুন জোট: পাকিস্তান + সৌদি আরব + তুরস্ক (যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি, জেদ্দা)।
স্মরণীয় ‘অপারেশন সিঁদুর’ এবং পরবর্তী পদক্ষেপ
উল্লেখ্য, ২২ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ে লস্কর-ই-তৈবার ছায়াসংগঠন টিআরএফ (TRF)-এর হামলায় ২৬ জন নিরস্ত্র সাধারণ নাগরিক নিহত হওয়ার পর ৭ মে গভীর রাতে ভারতীয় সেনা শুরু করেছিল ‘অপারেশন সিঁদুর’। মাত্র ৮৮ ঘণ্টার সেই বিধ্বংসী সামরিক অভিযানে পাকিস্তান ও পাক-অধিকৃত কাশ্মীরের ৯টি বড় জঙ্গিঘাঁটি মাটির সাথে মিশিয়ে দেওয়া হয়।
পাকিস্তানের পাল্টা হানার জবাবে ভারতীয় বায়ুসেনা ও স্থলবাহিনীর যৌথ প্রত্যাঘাতে তছনছ হয়ে যায় পাকিস্তানের অন্তত ১১টি বিমানঘাঁটি। নিহত হয় ১০০-র বেশি জঙ্গি এবং ৩৫ থেকে ৪০ জন পাক সেনা। নতিস্বীকার করে ইসলামাবাদের যুদ্ধবিরতির আরজিতেই সেবার ইতি ঘটেছিল সেই অপারেশনের।
ভারতের জন্য কী বার্তা বহন করছে এই তিন দেশীয় জোট?
ভবিষ্যতে পাকিস্তান যদি ফের কোনো সীমান্তপার হামলা চালায় এবং ভারত যদি ‘অপারেশন সিঁদুর ২.০’ বা অনুরূপ কোনো সামরিক পদক্ষেপ নেয়, তবে এই নতুন প্রতিরক্ষা চুক্তি ভারতের জন্য কূটনৈতিক চাপ তৈরি করতে পারে।
তুরস্ক ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক মঞ্চে বিভিন্ন সময়ে পাকিস্তানের কাশ্মীর নীতিকে সমর্থন জুগিয়েছে। এর সাথে যদি অর্থনৈতিক ও সামরিকভাবে শক্তিশালী সৌদি আরব যুক্ত হয়, তবে ভারত-পাক লড়াইয়ের ক্ষেত্রে নয়াদিল্লিকে অত্যন্ত সতর্ক ও সুপরিকল্পিত কূটনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

এক নজরে উদীয়মান অক্ষ ও ভারত-পাক প্রেক্ষাপট:
| বিষয় | বিবরণ / তথ্য |
| সম্ভাব্য চুক্তি স্বাক্ষরকারী দেশ | পাকিস্তান, সৌদি আরব এবং তুরস্ক |
| চুক্তি স্বাক্ষরের স্থান | জেদ্দা, সৌদি আরব |
| ঘটনার মূল অনুঘটক | মার্কিন-ইরান সংঘাত ও মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা |
| ভারতীয় সেনার অবস্থান | ভারত বিরোধী কার্যকলাপ রুখতে ‘অপারেশন সিঁদুর ২.০’-র প্রস্তুতি |
ভৌগোলিক রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক সামরিক সম্পর্কের এই নতুন সমীকরণ ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের পারদকে আরও বাড়িয়ে দিল। ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর ঐতিহাসিক সাফল্যের পর ভারতের পরবর্তী পদক্ষেপে নজর রাখছে আন্তর্জাতিক মহল।






