ডিপফেক ও এআই কনটেন্ট রুখতে কঠোর কেন্দ্র! ৩ ঘণ্টার মধ্যে না সরালে সোশাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মের বিরুদ্ধে মামলার হুঁশিয়ারি

সাইবার দুনিয়ায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং ডিপফেক (Deepfake) ভিডিওর মারাত্মক অপব্যবহার রুখতে সোশাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলির ওপর নজরদারি বহুগুণ বাড়িয়ে দিল কেন্দ্র সরকার। এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভুয়ো তথ্য, ভিডিও ও ছবি ছড়ানোর প্রবণতা বৃদ্ধি পাওয়ায় ইতিপূর্বে জারি করা নির্দেশিকাকে আরও কঠোর ও সময়সীমাবদ্ধ করা হলো। মেটা, এক্স (টুইটার), গুগল ও ইউটিউবের মতো বড় প্রযুক্তি সংস্থাগুলিকে এখন থেকে ভারত সরকারের এই কঠোর নিয়ম মেনেই দেশে পরিষেবা চালু রাখতে হবে।
২ থেকে ৩ ঘণ্টার ডেডলাইন ও কড়া শর্তাবলী
কেন্দ্রের নতুন গাইডলাইন অনুযায়ী, সাধারণ ব্যবহারকারীদের সুরক্ষার স্বার্থে প্রযুক্তি সংস্থাগুলিকে অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে পদক্ষেপ করতে হবে:
- স্পস্ট লেবেলিং: এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি যেকোনো কনটেন্টে ব্যবহারকারীকে সতর্ক করার জন্য ‘AI-generated’ লেবেল দেওয়া বাধ্যতামূলক।
- ৩ ঘণ্টার মধ্যে কনটেন্ট অপসারণ: কোনো ডিপফেক পোস্ট নিয়ম বা দেশের আইন লঙ্ঘন করলে, অভিযোগ পাওয়ার বা শনাক্ত হওয়ার ৩ ঘণ্টার মধ্যে তা সম্পূর্ণ মুছে ফেলতে হবে।
- ২ ঘণ্টার ইমার্জেন্সি ডেডলাইন: কারও অনুমতি ছাড়া ডিপফেক ছদ্মবেশ ধারণ, নগ্নতা বা বিকৃত ছবি-ভিডিও পোস্ট হলে তা মাত্র ২ ঘণ্টার মধ্যে সরানোর চরম বার্তা দেওয়া হয়েছে।
[ডিপফেক ও এআই সংক্রান্ত কেন্দ্রের মূল নির্দেশিকা]
* এআই ভিডিও সরাতে সময়সীমা: সর্বোচ্চ ৩ ঘণ্টা।
* ছদ্মবেশ/নগ্ন ছবি সরাতে সময়সীমা: সর্বোচ্চ ২ ঘণ্টা।
* বাধ্যতামূলক শর্ত: এআই লেবেলিং ও স্বয়ংক্রিয় ডিপফেক ডিটেকশন প্রযুক্তি।
* নিয়ম না মানার পরিণতি: IT Act-এর অধীনে প্রাপ্ত আইনি সুরক্ষা প্রত্যাহার।
আইনি সুরক্ষা বা ‘Safe Harbour’ হারাবে সোশাল মিডিয়া সংস্থাগুলি
এতদিন পর্যন্ত সোশাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলি ব্যবহারকারীদের পোস্ট করা কনটেন্টের দায় থেকে তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ‘সেফ হারবার’ (Safe Harbour) বিধির অধীনে আইনি ছাড় পেত।
তবে কেন্দ্র স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, যদি কোনো প্রযুক্তি সংস্থা এই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিতর্কিত এআই কনটেন্ট সরাতে ব্যর্থ হয় বা গড়িমিশি করে, তবে তাদের এই আইনি কভার তুলে নেওয়া হবে। এর ফলে যেকোনো ভুক্তভোগী নাগরিক বা সরকার সরাসরি ওই সোশাল মিডিয়া সংস্থার বিরুদ্ধে আদালতে অপরাধমূলক মামলা দায়ের করতে পারবেন।
আন্তর্জাতিক স্তরেও ডিপফেক বিরোধী কড়া অবস্থান
শুধু ভারতই নয়, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডিপফেক ডিটেকশন নিয়ে আন্তর্জাতিক স্তরেও ডিজিটাল নজরদারি কঠোর হচ্ছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন (EU) ইতিমধ্যেই সোশাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলির জন্য স্বচ্ছতা, ব্যবহারকারীর গোপনীয়তা রক্ষা এবং ফিল্টারিং ব্যবস্থা জোরদার করার সুনির্দিষ্ট আইন প্রণয়ন করেছে। ভারত সরকারের এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নাগরিক নিরাপত্তাকে নিশ্চিত করতে বড় ভূমিকা নেবে বলে মনে করছেন সাইবার বিশেষজ্ঞরা।
এক নজরে নতুন ডিপফেক নির্দেশিকা:
| বিষয় | বিবরণ / তথ্য |
| নিয়ন্ত্রক সংস্থা | কেন্দ্রীয় ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক, ভারত সরকার |
| সাধারণ ডিপফেক ভিডিও সরাতে সময় | সর্বোচ্চ ৩ ঘণ্টা |
| নগ্নতা/ছদ্মবেশ এআই সরাতে সময় | সর্বোচ্চ ২ ঘণ্টা |
| মূল পরিবর্তন | স্বয়ংক্রিয়ভাবে ডিপফেক চেনার সিস্টেম চালু ও এআই লেবেল লাগানো বাধ্যতামূলক |
বর্তমানে প্রযুক্তির সুবিধায় সাধারণ মানুষের পক্ষে খালি চোখে এআই বা ডিপফেক কনটেন্ট চেনা প্রায় অসম্ভব। তাই কেন্দ্রের এই কঠোর পদক্ষেপে যেমন ডিপফেক ভাইরাল হওয়া আটকানো সম্ভব হবে, তেমনই প্রযুক্তি সংস্থাগুলিকেও দায়িত্বশীল আচরণে বাধ্য করবে।






