আলিপুরদুয়ারগামী মহানন্দা এক্সপ্রেসে দুঃসাহসিক তাণ্ডব! ফাঁকা কামরায় অন্তঃসত্ত্বা আদিবাসী বধূকে ধর্ষণের অভিযোগ, গ্রেফতার অসমের যুবক

চলন্ত ট্রেনে নারীদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে ফের বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন খাড়া হলো। আলিপুরদুয়ারগামী সিকিম-মহানন্দা এক্সপ্রেসে মাঝরাতে ফাঁকা কামরার সুযোগ নিয়ে এক অন্তঃসত্ত্বা আদিবাসী বধূকে শৌচালয়ে টেনে নিয়ে গিয়ে চরম নির্যাতন ও ধর্ষণের অভিযোগ উঠল এক যুবকের বিরুদ্ধে। আলিপুরদুয়ার জংশন স্টেশনে ট্রেন থামতেই জিআরপি ও রেল পুলিশের তৎপরতায় হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়েছে অভিযুক্তকে। এই নজিরবিহীন ঘটনায় চরম ক্ষোভ ও চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে উত্তরবঙ্গ জুড়ে।
কীভাবে ঘটেছিল এই হাড়হিম করা ঘটনা?
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে খবর, আলিপুরদুয়ারের শামুকতলা হাতিপোতা এলাকার বাসিন্দা ওই আদিবাসী তরুণী গৃহবধূ দিল্লিতে তাঁর বোনের বাড়ি থেকে একা বাড়ি ফিরছিলেন। তিনি সিকিম-মহানন্দা এক্সপ্রেসের প্রতিবন্ধী বা দিব্যাঙ্গদের জন্য সংরক্ষিত কামরায় উঠেছিলেন।
বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ট্রেনটি হাসিমারা স্টেশনে পৌঁছলে ওই কামরায় থাকা সমস্ত যাত্রী একে একে নেমে যান। কামরাটি পুরোপুরি ফাঁকা হয়ে যাওয়ার সুযোগ নেয় সঙ্গে থাকা অসমের যুবক গৌতম মণ্ডল। একা পেয়ে প্রথমে ওই বধূকে উত্ত্যক্ত করা শুরু করে সে এবং পরবর্তীতে জোর করে ট্রেনের শৌচালয়ে টেনে নিয়ে গিয়ে তাঁকে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ।
[ঘটনা সংক্রান্ত সংক্ষিপ্ত বিবরণী]
* আক্রান্ত ব্যক্তি: আলিপুরদুয়ারের শামুকতলা হাতিপোতার অন্তঃসত্ত্বা আদিবাসী বধূ।
* অকুস্থল: সিকিম-মহানন্দা এক্সপ্রেস (হাসিমারা থেকে আলিপুরদুয়ার জংশনের মাঝে)।
* মূল অভিযুক্ত: গৌতম মণ্ডল (বাসস্থান: রঙ্গিয়া, অসম)।
* আইনি পদক্ষেপ: নির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু, আদালতে পেশ করে ৫ দিনের পুলিশি হেফাজত।
জংশন স্টেশনে চিৎকার শুনে উদ্ধার ও হাসপাতালে ভর্তি
হাসিমারা পার হওয়ার পর পরের স্টেশন আলিপুরদুয়ার জংশনে ট্রেনটি এসে থামলে কামরা থেকে কান্নাকাটি ও চিৎকার-চেঁচামেচির শব্দ পান প্ল্যাটফর্মে কর্মরত রেল পুলিশ ও জিআরপির জওয়ানরা। তাঁরা দ্রুত ওই কামরায় উঠে রক্তাক্ত ও আতঙ্কগ্রস্ত অবস্থায় গৃহবধূকে উদ্ধার করেন এবং অভিযুক্ত গৌতম মণ্ডলকে তৎক্ষণাৎ পাকড়াও করেন।
নিগৃহীতাকে চিকিৎসার জন্য তড়িঘড়ি আলিপুরদুয়ার জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে কান্নাভেজা চোখে তিনি বলেন, “হাসিমারাতে সব যাত্রী নেমে যাওয়ায় আমাকে একা পেয়ে শৌচালয়ের দিকে টেনে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করেছে ছেলেটি। আমি ওর কঠোরতম শাস্তি চাই।”
পুলিশি তদন্ত ও আদালতের কড়া পদক্ষেপ
শনিবার ধৃত গৌতম মণ্ডলকে আলিপুরদুয়ার আদালতে তোলা হলে বিচারক তাকে ৫ দিনের জন্য পুলিশি হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। রেল পুলিশের সুপার (এসআরপি) ইন্দ্রবদন ঝা জানান, “ঘটনার গুরুত্ব বিচার করে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট কঠোর ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। দ্রুত তদন্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।”
এক নজরে চলন্ত ট্রেনের ঘটনা:
| বিষয় | বিবরণ / তথ্য |
| ট্রেন ও কামরা | সিকিম-মহানন্দা এক্সপ্রেস (দিব্যাঙ্গ কামরা) |
| ঘটনাস্থল | হাসিমারা – আলিপুরদুয়ার রেলওয়ে রুট |
| ধৃত অভিযুক্ত | গৌতম মণ্ডল (রঙ্গিয়া, অসম) |
| বর্তমান আইনি অবস্থা | ৫ দিনের পুলিশি হেফাজতে অভিযুক্ত, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বধূ |
Conclusion
দূরপাল্লার ট্রেনের সংরক্ষিত কামরায় রেল পুলিশের নজরদারির অভাব ও রাতকালীন সুরক্ষার এমন কঙ্কালসার চেহারা সামনে আসায় ক্ষোভে ফুটছেন সাধারণ যাত্রীরা। প্রশাসন এই ঘটনায় কতটা কড়া পদক্ষেপ নেয়, সেদিকেই নজর সকলের।






