প্রেমিকাকে ভিডিও কল ধরা পড়ে ভাঙল মোবাইল, স্ত্রীকে বাঁশের খুঁটিতে বেঁধে জ্যান্ত পুড়িয়ে মারল স্বামী! মালদহে ভয়ঙ্কর হত্যাকাণ্ড

স্বামীর পরকীয়ায় বাধা দেওয়া ও প্রতিবাদ হিসেবে মোবাইল ভেঙে দেওয়াই যেন কাল হলো ২০ বছরের তরুণী বধূর জন্য। রাগের মাথায় নিজের স্ত্রীকে বাঁশের খুঁটিতে বেঁধে গায়ে আগুন লাগিয়ে পুড়িয়ে মারার অভিযোগ উঠল স্বামীর বিরুদ্ধে। শিউরে ওঠার মতো এই ভয়াবহ অপরাধের ঘটনাটি ঘটেছে মালদহের মানিকচক থানার নুরপুর পঞ্চায়েত এলাকায়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার মালদহ মেডিক্যাল কলেজে ওই তরুণীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়।
সম্পর্কের টানাপোড়েন ও মোবাইল ভাঙার ঘটনা
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বিহারের কাটিহারের বাসিন্দা চুন্নি খাতুনের (২০) সঙ্গে প্রায় বছরখানেক আগে সম্বন্ধ করে বিয়ে হয় মালদহের মানিকচকের নুরপুরের ব্যবসায়ী সামিউল শেখের। বিয়ের প্রথম কয়েক মাস সব স্বাভাবিক থাকলেও গত তিন মাস ধরে দম্পতির মধ্যে অশান্তি শুরু হয়। চুন্নি জানতে পারেন তাঁর স্বামী স্থানীয় এক তরুণীর সঙ্গে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছেন।
দিন কয়েক আগে বাড়িতে বসে প্রেমিকার সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপ ভিডিও কলে কথা বলছিলেন সামিউল। চুন্নি তা দেখে ফেললে দুজনের মধ্যে তীব্র বচসা শুরু হয়। চরম ক্ষোভে সামিউলের হাত থেকে ফোনটি ছিনিয়ে নিয়ে আছাড় মেরে ভেঙে দেন চুন্নি।
[ঘটনা সংক্রান্ত সংক্ষিপ্ত বিবরণী]
* মৃত বধূ: চুন্নি খাতুন (বয়স ২০ বছর, কাটিহার, বিহার)।
* মূল অভিযুক্ত: সামিউল শেখ (পেশায় ব্যবসায়ী, স্বামী)।
* অকুস্থল: নুরপুর পঞ্চায়েত এলাকা, মানিকচক (মালদহ)।
* প্রধান কারণ: বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক ও মোবাইল ফোন ভেঙে ফেলা।
* বর্তমান অবস্থা: মূল অভিযুক্ত গ্রেফতার; দেওর, ননদ ও শাশুড়ি পলাতক।
হাত-পা বেঁধে গায়ে আগুন ধরিয়ে হত্যা
মোবাইল আছাড় মেরে ভেঙে দেওয়াতেই হিংস্র রূপ নেয় স্বামী সামিউল। অভিযোগ, তিনি জোর করে স্ত্রী চুন্নির হাত-পা একটি বাঁশের খুঁটিতে শক্ত করে বেঁধে ফেলেন এবং গায়ে দাহ্য পদার্থ ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন।
বধূর বিকট চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা ছুটে এসে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন এবং তাঁকে উদ্ধার করেন। কিন্তু ততক্ষণে তাঁর শরীরের সিংহভাগ অংশই মারাত্মকভাবে পুড়ে যায়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে মালদহ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হলেও শনিবার তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
মূল অভিযুক্ত স্বামী গ্রেফতার, পলাতক শ্বশুরবাড়ির লোকজন
চুন্নির বাপের বাড়ির লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে মানিকচক থানার পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে মূল অভিযুক্ত স্বামী সামিউল শেখকে পাকড়াও করেছে। তবে স্ত্রীকে পুড়িয়ে মারার অভিযোগ বিষয়ে পুলিশি প্রশ্নের সামনে কোনো মুখ খোলেনি ধৃত যুবক।
এই ঘটনায় চুন্নির দেওর আনেস শেখ, ননদ চামেলি বিবি এবং শাশুড়ি দিলনুর বিবির বিরুদ্ধেও ষড়যন্ত্র ও নির্যাতনের অভিযোগ দায়ের হয়েছে। তবে ঘটনার পর থেকেই বাকি অভিযুক্তেরা পলাতক। পুলিশ তাঁদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে।
এক নজরে মালদহের বধূ হত্যা মামলা:
| বিষয় | বিবরণ / তথ্য |
| ঘটনাস্থল | নুরপুর, মানিকচক (মালদহ) |
| মৃত বধূ | চুন্নি খাতুন (২০) |
| অভিযুক্ত স্বামী | সামিউল শেখ (ধৃত) |
| তদন্তকারী থানা | মানিকচক থানা পুলিশ |
বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের জেরে এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সমগ্র মানিকচক এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর এবং পলাতক অভিযুক্তদের ধরে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।






