নিট প্রশ্নফাঁস আন্দোলনে বিরাট সাফল্য! শিক্ষা ব্যবস্থার বাণিজ্যিকীকরণের বিরুদ্ধে অভিজিৎ দীপকের নতুন লড়াই ‘কেয়া বোলতি পাবলিক’

চিকিৎসাবিজ্ঞানের প্রবেশিকা পরীক্ষা ‘নিট’ (NEET) প্রশ্নফাঁস ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে আন্দোলনে অভূতপূর্ব সাড়া ফেলে শিরোনামে এসেছিলেন তরুণ সংগঠক অভিজিৎ দীপকে এবং তাঁর পরিচালিত ‘ককরোচ জনতা পার্টি’। সেই আন্দোলনে বড় সাফল্য মেলার পর এবার দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার সামগ্রিক পরিকাঠামো বদলে নজর দিলেন তিনি। বৃহস্পতিবার দেশব্যাপী তাঁদের নতুন জাতীয় উদ্যোগ ‘কেয়া বোলতি পাবলিক’ (কী বলছে জনতা)-এর শুভ সূচনা করলেন দীপকে।
কী এই ‘কেয়া বোলতি পাবলিক’ কর্মসূচি?
অভিজিৎ দীপকে জানিয়েছেন, তাঁদের এই নতুন কর্মসূচির মূল ভিত্তিই হলো তৃণমূল স্তরে গিয়ে আমজনতার দৈনন্দিন সমস্যা ও ক্ষোভের কথা শোনা। ‘ককরোচ জনতা পার্টি’-র তরুণ সদস্যরা সরাসরি সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাবেন এবং সমাজ ও সরকারি ব্যবস্থার নানা ত্রুটি-বিচ্যুতি নিয়ে তথ্য সংগ্রহ করবেন।
তবে পুরো দল এখনই কোনো মূলধারার রাজনৈতিক দল গঠনের পথে হাঁটছে না। বরং সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রেশার গ্রুপ হিসেবে কাজ করাই আপাতত তাঁদের রূপরেখা।
[ককরোচ জনতা পার্টি ও 'কেয়া বোলতি পাবলিক' সংক্রান্ত তথ্য]
* সংগঠনের নাম: ককরোচ জনতা পার্টি (Cockroach Janata Party)।
* প্রধান মুখ: অভিজিৎ দীপকে (Abhijit Dipke)।
* নতুন উদ্যোগ: 'কেয়া বোলতি পাবলিক' (Kya Bolti Public)।
* অগ্রাধিকার ক্ষেত্র: শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার ও অন্যায্য ফি বৃদ্ধি রোধ।
* আদর্শিক ভিত্তি: ড. বিআর আম্বেদকরের 'শিক্ষা একটি মৌলিক অধিকার' দর্শন।
“শিক্ষা এখন ব্যবসা, ফি আকাশছোঁয়া” — সরব দীপকে
সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে অভিজিৎ দীপকে দাবি করেন, বর্তমানে দেশে সরকারি ও বেসরকারি স্তরে শিক্ষার মান রক্ষা করতে গিয়ে সাধারণ পরিবারগুলি নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছে। প্রাথমিক স্তর থেকেই শিক্ষা সাধারণ মানুষের সাধ্যের বাইরে চলে গিয়েছে।
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “প্রথম শ্রেণিতেই বেসরকারি স্কুলগুলির বার্ষিক ফি ১ থেকে ২ লাখ টাকায় গিয়ে ঠেকেছে। এর সঙ্গে অনুদান বা ডোনেশনের নামে মোটা অঙ্কের টাকা নেওয়া হচ্ছে। মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো কীভাবে এত টাকা জোগাড় করবে? কেবল স্কুল নয়, কলেজ ও প্রতিযোগিতামূলক কোচিং সেন্টারগুলির চড়া ফি সাধারণ পরিবারগুলিকে ঋণের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।”
আম্বেদকরের বার্তা স্মরণ ও ভবিষৎ পরিকল্পনা
সংগঠনের এই লড়াইকে আইনি ও সামাজিক ভিত্তি দিতে ড. বিআর আম্বেদকরের নীতি ও বক্তব্যের কথা মনে করিয়ে দেন ককরোচ জনতা পার্টির প্রধান। তিনি বলেন, “ড. বিআর আম্বেদকর স্পষ্ট বলে গিয়েছিলেন যে শিক্ষা প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক অধিকার। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো, গত কয়েক বছরে আমাদের দেশে শিক্ষাকে কেবল মুনাফা অর্জনের একটি অনৈতিক ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে পরিণত করা হয়েছে।”
এই আর্থিক বৈষম্য ও বাণিজ্যিকীকরণের বোঝা লাঘব করতেই ‘কেয়া বোলতি পাবলিক’ কর্মসূচির মাধ্যমে দেশের কোটি কোটি অভিভাবক ও ছাত্রছাত্রীদের সংগঠিত করবে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’।
এক নজরে কর্মসূচির মূল বিষয়সমূহ:
| বিষয় | বিবরণ / তথ্য |
| সংগঠন | ককরোচ জনতা পার্টি (অভিজিৎ দীপকে) |
| আগের বড় সাফল্য | নিট (NEET) প্রশ্নফাঁস বিরোধী জাতীয় আন্দোলন |
| নয়া কর্মসূচি | কেয়া বোলতি পাবলিক (জনসাধারণের সমস্যা সংগ্রহ) |
| মূল ইস্যু | স্কুল-কলেজ-কোচিংয়ের আকাশছোঁয়া ফি ও অনুদান বন্ধ করা |
| রাজনৈতিক অবস্থান | সরাসরি নির্বাচনে অংশগ্রহণ নয়, সামাজিক আন্দোলন জোরদার |
নিট প্রশ্নফাঁস আন্দোলনে তরুণ সমাজকে ঐক্যবদ্ধ করে যে শক্তির বার্তা দিয়েছিল ককরোচ জনতা পার্টি, ‘কেয়া বোলতি পাবলিক’ কর্মসূচির মাধ্যমে সেই শক্তিকে এবার সামগ্রিক শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারে কাজে লাগাতে চান অভিজিৎ দীপকে। উচ্চ শিক্ষার আকাশছোঁয়া খরচে ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষ এই লড়াইকে কীভাবে সমর্থন জানান, সেদিকেই নজর দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক বিশ্লেষকদের।






