Medical Negligence Case: সেবাশ্রয় শিবিরে চিকিৎসার ‘ভুলে’ বাদ গেল বাঁ পা! অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ ১১ জনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ মহিলার

source : আনন্দবাজার
ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত মহেশতলার ‘সেবাশ্রয়’ চিকিৎসা শিবিরকে কেন্দ্র করে তৈরি হলো এক নতুন ও নজিরবিহীন বিতর্ক। সেবাশ্রয় শিবিরে চিকিৎসার ‘ভুলে’ বাদ গিয়েছে পা— এমনটাই অভিযোগ তুলে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা স্থানীয় সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ ১১ জনের বিরুদ্ধে দক্ষিণ ২৪ পরগনার রবীন্দ্রনগর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করলেন এক দম্পতি। ভুল ওষুধ দেওয়ার কারণে এক মহিলার পা চিরকালের মতো খোয়া যাওয়ার এই ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে জেলাজুড়ে।
ব্যথার চিকিৎসা করাতে গিয়ে খোয়া গেল পা!
অভিযোগকারিণী মালতী বিশ্বাসের স্বামী প্রবীরকুমার বিশ্বাস বৃহস্পতিবার রবীন্দ্রনগর থানায় একটি বিস্তারিত লিখিত অভিযোগ জমা দেন। অভিযোগপত্র অনুযায়ী, রবীন্দ্রনগরের বাসিন্দা মালতী বিশ্বাস দীর্ঘদিন ধরে অস্টিওআর্থারাইটিসের (Osteoarthritis) কারণে তীব্র পায়ের ব্যথায় ভুগছিলেন। আরাম পাওয়ার আশায় তিনি মহেশতলায় অবস্থিত ‘সেবাশ্রয়’ চিকিৎসা শিবিরে যান।
পরিবারের দাবি, সেবাশ্রয় শিবির থেকে মালতী দেবীকে কিছু ওষুধ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই ওষুধগুলি খাওয়ার পর ব্যথা কমা তো দূরস্ত, উল্টে তাঁর পায়ের পরিস্থিতি অত্যন্ত আশঙ্কাজনক হয়ে ওঠে। শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হওয়ায় তড়িঘড়ি সেবাশ্রয় কর্তৃপক্ষ তাঁকে এমআর বাঙ্গুর (MR Bangur Hospital) হাসপাতালে রেফার করে দেয়।
চিত্তরঞ্জন হয়ে ন্যাশনাল মেডিক্যাল— শেষ রক্ষা হলো না
এমআর বাঙ্গুর হাসপাতালের চিকিৎসকেরা রোগিণীর পা পরীক্ষা করে জানান যে তাঁর পায়ের অবস্থা অত্যন্ত গুরুতর। সেখান থেকে মালতী দেবীকে পার্ক সার্কাসের চিত্তরঞ্জন হাসপাতালে পাঠানো হয়। কিন্তু সেখানেও অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত কলকাতা ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে (Calcutta National Medical College) স্থানান্তরিত করা হয় তাঁকে।
সেখানেই চিকিৎসকেরা বাধ্য হয়ে মালতী বিশ্বাসের প্রাণ বাঁচাতে তাঁর বাঁ পা অস্ত্রোপচার করে কেটে বাদ দেওয়ার (Leg Amputation) সিদ্ধান্ত নেন। এই ভুল চিকিৎসার খেসারত হিসেবে মালতী বিশ্বাস এখন ৭৫ শতাংশ শারীরিক অক্ষমতা নিয়ে পঙ্গু জীবন কাটাতে বাধ্য হচ্ছেন। এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও দোষীদের শাস্তির দাবিতেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও শিবিরের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে পরিবার।
[মালতী বিশ্বাসের ভুল চিকিৎসার রুট-ম্যাপ]
১. মহেশতলা সেবাশ্রয় শিবির (ভুল ওষুধ দেওয়ার অভিযোগ ও ব্যথা বৃদ্ধি)
⬇
২. এমআর বাঙ্গুর হাসপাতাল (অবস্থার অবনতি ও রেফার)
⬇
৩. চিত্তরঞ্জন হাসপাতাল, পার্ক সার্কাস
⬇
৪. কলকাতা ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ (অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে বাঁ পা বাদ)
‘সেবাশ্রয়’ ঘিরে দানা বাঁধছে বহুমুখী কেলেঙ্কারি
উলেখ্য, ‘সেবাশ্রয়’ চিকিৎসা শিবিরের বিরুদ্ধে এই প্রথম কোনো বেনিয়মের অভিযোগ উঠল এমনটা নয়। গত সোমবার সন্ধ্যায় দক্ষিণ ২৪ পরগনার পারুলিয়া কোস্টাল থানায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর অনুগামীদের বিরুদ্ধে আরও একটি ফৌজদারি এফআইআর দায়ের করেন বিজেপি নেতা তথা আইনজীবী অভিজিৎ দাস (ববি)।
সেই অভিযোগের প্রেক্ষাপট ছিল আরও মারাত্মক। গত ১০ জুন ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলার অন্তর্গত হিঞ্চেবেড়িয়া গ্রামে মাটির তলা থেকে বিপুল পরিমাণ সরকারি ও সেবাশ্রয় শিবিরের অব্যবহৃত ওষুধ উদ্ধার হয়। বিজেপি নেতার অভিযোগ, সাধারণ মানুষের বিনামূল্যে চিকিৎসার জন্য বরাদ্দ লাখ লাখ টাকার ওষুধ কেন এবং কী উদ্দেশ্যে মাটির তলায় লুকিয়ে নষ্ট করা হলো, তার নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। আর সেই রেশ কাটতে না কাটতেই এবার ভুল চিকিৎসায় পা বাদ যাওয়ার ঘটনায় ফের কাঠগড়ায় সাংসদের সাধের প্রকল্প।
এক নজরে সেবাশ্রয় বিতর্ক ও থানার অভিযোগ:
| বিষয়ের ক্ষেত্র | সর্বশেষ তথ্য ও অভিযোগের বিবরণ |
| থানা ও জেলা | রবীন্দ্রনগর থানা, ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলা। |
| মূল অভিযুক্ত | সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ মোট ১১ জন। |
| অভিযোগকারী | মালতী বিশ্বাস ও তাঁর স্বামী প্রবীরকুমার বিশ্বাস। |
| শারীরিক ক্ষতি | ভুল ওষুধের প্রতিক্রিয়ায় বাঁ পা কেটে বাদ, ৭৫% অক্ষমতা। |
| অন্যান্য বিতর্ক | হিঞ্চেবেড়িয়া গ্রামে মাটির তলা থেকে বিপুল ওষুধ উদ্ধার মামলা। |
ভুল চিকিৎসার কারণে পা বাদ যাওয়ার মতো সংবেদনশীল ঘটনায় শাসক দলের শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ জমা পড়ায় স্বাভাবিকভাবেই অস্বস্তিতে প্রশাসন ও স্থানীয় নেতৃত্ব। যদিও তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এখনও এই বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়নি। রবীন্দ্রনগর থানার পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং হাসপাতালের মেডিকেল রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তবে মাটির তলা থেকে ওষুধ উদ্ধার এবং এবার খোদ চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ— এই দুই জোড়া ফলায় ‘সেবাশ্রয়’ শিবিরের ভবিষ্যৎ এবং স্বচ্ছতা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠে গেল।






