Baruipur Lynching Case: “নাম দেখে খুন করা হয়েছে ইন্দ্রজিৎকে, নেপথ্যে অতিবাম ও মৌলবাদীদের উসকানি”! নিহতের পরিবারকে ২৫ লক্ষ টাকা ও চাকরির ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর

source : sangbad pratidin
দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরের সূর্যপুরের ঘটনা নিয়ে এবার তীব্র রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক তৎপরতা দেখালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। গত মঙ্গলবার বারুইপুরে গিয়ে মৃত যুবককে নির্দোষ ঘোষণা করার পর, আজ শনিবারেও নিহতের পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন তিনি। তবে এদিন শুধু আর্থিক সাহায্য বা সান্ত্বনা নয়, ইন্দ্রজিৎ মণ্ডলের মৃত্যুকে ঘিরে এক বিস্ফোরক তত্ত্বে সিলমোহর দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি সাফ জানালেন, ইন্দ্রজিতের মৃত্যু কোনো আকস্মিক গণপিটুনি নয়, বরং এর পেছনে রয়েছে এক গভীর রাজনৈতিক ও উগ্রপন্থী মহলের সুপরিকল্পিত উসকানি।
“নাম দেখে হাত-পা বেঁধে পিটিয়ে খুন”, কাঠগড়ায় অতিবাম-মৌলবাদীরা
আজ সূর্যপুরে মৃত ইন্দ্রজিৎ মণ্ডলের শোকার্ত বাবা-মায়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পরিবারের লোকজনকে সান্ত্বনা দেওয়ার পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেন।
মুখ্যমন্ত্রী কড়া ভাষায় বলেন—
“নাম ও পরিচয় দেখে বেছে বেছে ইন্দ্রজিৎকে খুন করা হয়েছে। ভোটে যারা হেরে গিয়েছে, তাদের প্রত্যক্ষ উসকানিতেই এই নৃশংসতা। এর পেছনে ব়্যাডিকাল, মৌলবাদী ও অতিবামদের গভীর ষড়যোত্র কাজ করতে পারে। একটি ৩৫ বছরের অবিবাহিত যুবককে যেভাবে হাত-পা বেঁধে পিটিয়ে মারা হলো, তা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। খুনিদের সঙ্গে কোনো পেয়ার বা মহব্বত দেখানোর প্রশ্নই ওঠে না।”
মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, ঘটনার পর অভিযুক্তরা দিঘা, বকখালি-সহ বিভিন্ন জায়গায় পালিয়ে গিয়েছিল, কিন্তু পুলিশ অত্যন্ত তৎপরতার সাথে সবাইকে গ্রেফতার করেছে। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত মোট ৩৮ জনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
পরিবারের জন্য ২৫ লক্ষ টাকা ও সিভিক ভলান্টিয়ারের চাকরি
মৃতের পরিবারটি যাতে চরম আর্থিক অনটনে না পড়ে, তার জন্য মুখ্যমন্ত্রী আজ একগুচ্ছ বড়সড় সরকারি সহায়তার কথা ঘোষণা করেন এবং তৎক্ষণাৎ তা কার্যকর করার নির্দেশ দেন।
- আর্থিক সাহায্য: সরকারের পক্ষ থেকে ইন্দ্রজিতের বাবা ও মায়ের হাতে ২৫ লক্ষ টাকার আর্থিক অনুদানের চেক তুলে দেওয়া হয়েছে।
- চাকরি প্রদান: নিহতের দাদা বাপি মণ্ডলকে হোম ডিপার্টমেন্টের অধীনে সিভিক ভলান্টিয়ারের চাকরি দেওয়া হয়েছে। তাঁর পোস্টিং হবে স্থানীয় সূর্যপুর পুলিশ ফাঁড়িতেই।
- সামাজিক সুরক্ষা: নিহতের বাবার জন্য বার্ধক্যভাতা এবং মায়ের জন্য ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ প্রকল্পের সুবিধা চালু করা হয়েছে।
- বাসস্থান সংস্কার: গত কয়েকদিনের অশান্তি ও দাঙ্গাকারীদের ভাঙচুরে ইন্দ্রজিতের বাড়ির যে ক্ষতি হয়েছিল, তা সরকারি খরচে সম্পূর্ণ সংস্কার বা মেরামত করে দেওয়া হয়েছে।
[বারুইপুর কাণ্ডে সরকারি পুনর্বাসন প্যাকেজ]
১. নিহতের পরিবারকে এককালীন আর্থিক সাহায্য: ২৫ লক্ষ টাকা।
২. নিহতের দাদা বাপি মণ্ডলের কর্মসংস্থান: সিভিক ভলান্টিয়ারের চাকরি (সূর্যপুর ফাঁড়ি)।
৩. মা ও বাবার জন্য সামাজিক স্কিম: অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার এবং বার্ধক্যভাতা।
৪. পরিকাঠামো উন্নয়ন: ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ি সম্পূর্ণ সরকারি খরচে পুনর্নির্মাণ।
ফুলতলার নিহত ফুটবলপ্রেমীর পরিবারকেও ১০ লক্ষ টাকা
বারুইপুরের ঘটনার পাশাপাশি, ফুলতলায় ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া সাম্প্রতি অশান্তিতে নিহত প্রসেনজিৎ বিশ্বাসের পরিবারের কথাও এদিন স্মরণ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি ঘোষণা করেন, প্রসেনজিতের পরিবারকেও রাজ্য সরকারের তরফ থেকে ১০ লক্ষ টাকার আর্থিক অনুদান দেওয়া হবে।
প্রসঙ্গ উল্লেখ্য, গত ৪ জুলাই বারুইপুরের এক নাবালিকা নিখোঁজ হওয়ার পর ৫ জুলাই পুকুর থেকে তার ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধার হয়। গণধর্ষণের পর তাকে খুনের অভিযোগে মূল অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডল পুলিশি এনকাউন্টারে নিকেশ হয়। সেই ঘটনার জেরে সূর্যপুরে যখন ব্যাপক বিক্ষোভ চলছিল, তখনই উত্তেজিত জনতা সন্দেহের বশে নির্দোষ যুবক ইন্দ্রজিৎ মণ্ডলকে পিটিয়ে মারে।
এক নজরে বারুইপুর কাণ্ড ও মুখ্যমন্ত্রীর সফর খতিয়ান:
| বিষয়ের ক্ষেত্র | সর্বশেষ আপডেট ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত |
| মুখ্যমন্ত্রীর অবস্থান | ইন্দ্রজিৎ মণ্ডল সম্পূর্ণ নির্দোষ ছিলেন, খুনিদের চরমতম শাস্তি হবে। |
| মোট গ্রেফতার ( lynching মামলা) | এখনও পর্যন্ত মোট ৩৮ জন দাঙ্গাকারীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। |
| নাবালিকা ধর্ষণ মামলা | ৪ জন ধৃত, মূল অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডল পুলিশি এনকাউন্টারে খতম। |
| ফুলতলা অশান্তি আপডেট | নিহত প্রসেনজিৎ বিশ্বাসের পরিবারের জন্য ১০ লক্ষ টাকা সাহায্য ঘোষণা। |
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর এই সফরের পর বারুইপুরের সূর্যপুরের বাসিন্দারা কিছুটা আশ্বস্ত হলেও, খুনের নেপথ্যে ‘অতিবাম’ ও ‘মৌলবাদী’ শক্তির তত্ত্ব রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, আইনশৃঙ্খলা ভাঙার চেষ্টা বা উগ্রপন্থী কোনো উসকানিকে সরকার কোনোভাবেই রেয়াত করবে না। ইন্দ্রজিৎকে ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব না হলেও, তাঁর পরিবারকে যেভাবে দ্রুততার সাথে সামাজিক ও আর্থিক সুরক্ষা দেওয়া হলো এবং পুলিশ যেভাবে এনকাউন্টার ও গণগ্রেফতারের মাধ্যমে কড়া বার্তা দিল, তা আগামী দিনে এই অঞ্চলের শান্তি বজায় রাখতে বড় ভূমিকা নেবে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।






