England vs Mexico: মেক্সিকোয় পৌঁছতেই হেনস্থার মুখে জুড বেলিংহ্যামরা! উচ্চতার ধাক্কা সামলাতে এবার ‘ভায়াগ্রা’র শরণাপন্ন ইংল্যান্ড দল, মিলল ফিফার সবুজ সংকেত

source : আনন্দবাজার
বিশ্বকাপের রাউন্ড অফ ১৬-র হাইভোল্টেজ ম্যাচে মুখোমুখি হতে চলেছে ইংল্যান্ড ও মেক্সিকো। কিন্তু মাঠের বল গড়ানোর আগেই মাঠের বাইরের একাধিক ঘটনায় উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে আবহ। মেক্সিকোয় পা রাখতেই ব্রিটিশ ফুটবলারদের যেমন স্থানীয় ফুটবলপ্রেমীদের চরম উন্মাদনা ও হেনস্থার মুখে পড়তে হয়েছে, তেমনই মেক্সিকোর আবহাওয়ার সঙ্গে খাপ খাওয়াতে এক অবিশ্বাস্য ও অভাবনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইংল্যান্ডের টিম ম্যানেজমেন্ট। ৭৩৫০ ফুট উঁচুতে খেলার ধকল সামলাতে হ্যারি কেন (Harry Kane)-দের দেওয়া হতে পারে নীল রঙের সেই ম্যাজিক পিল ‘ভায়াগ্রা’!
মেক্সিকান সমর্থকদের এই ‘স্লিপলেস নাইট’ উপহার দেওয়ার কৌশল নতুন নয়। রাউন্ড অফ ৩২-এর ম্যাচ খেলতে এসে একই সমস্যার মুখোমুখি হয়েছিল ইকুয়েডর। এবার একই অভিজ্ঞতা হলো হ্যারি কেনদেরও। ইংল্যান্ডের বিমানবন্দর থেকে হোটেল যাওয়ার পথে বিভিন্ন জায়গায় রাস্তা অবরোধ করা হয়। কড়া নিরাপত্তায় বাস হোটেলে পৌঁছালেও সেখানে ভিড় জমায় শত শত মেক্সিকান সমর্থক।
‘মেক্সিকো, মেক্সিকো’ চিৎকারের পাশাপাশি ইংরেজ ফুটবলারদের উদ্দেশ্যে উড়ে আসে নানা কটূক্তি। ইংল্যান্ড ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (FA) চেয়েছিল দলের হোটেলের নাম গোপন রাখতে। কিন্তু সেই তথ্য ফাঁস হয়ে যাওয়ায় দলের কোচ টমাস টুহেল (Thomas Tuchel) ও ফুটবলাররা চরম বিরক্ত। এখন অন্তত অনুশীলনের জায়গাটি গোপন রাখার আপ্রাণ চেষ্টা চলছে।
এই ম্যাচের সবচেয়ে বড় চমক লুকিয়ে রয়েছে ইংল্যান্ডের চিকিৎসকদের প্রেসক্রিপশনে। মেক্সিকোর বিরুদ্ধে মাঠে নামার আগে জর্ডন পিকফোর্ড, জুড বেলিংহ্যাম (Jude Bellingham), বুকায়ো সাকাদের ভায়াগ্রা খাওয়ানো হতে পারে। কিন্তু কেন এই অদ্ভুত সিদ্ধান্ত?
আসলে ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে মেক্সিকোর বিখ্যাত এস্তাদিও আজতেকা (Estadio Azteca) স্টেডিয়ামে। এই মাঠটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৭৩৫০ ফুট উঁচুতে অবস্থিত। এত উঁচুতে বাতাসে অক্সিজেনের মাত্রা কম থাকে, যার ফলে ফুটবলারদের ফুসফুসে চাপ পড়ে এবং সাধারণ ম্যাচের তুলনায় অনেক দ্রুত শরীর ক্লান্ত হয়ে পড়ে। চিকিৎসাবিজ্ঞান অনুযায়ী, ভায়াগ্রা শরীরের রক্তনালীগুলিকে প্রসারিত করে এবং ফুসফুসে রক্ত তথা অক্সিজেন সরবরাহ বাড়াতে সাহায্য করে। ফলে উচ্চতাজনিত সমস্যা (Altitude Mountain Sickness) অনেকটাই কমে যায়।
খেলোয়াড়দের এই ওষুধ খাওয়ানোর বিষয়ে ফিফা (FIFA) কোনো আপত্তি জানায়নি। ওয়ার্ল্ড অ্যান্টি ডোপিং এজেন্সি (WADA)-র নিয়ম অনুযায়ী, ভায়াগ্রা বা সিলডেনাফিল (Sildenafil) কোনো নিষিদ্ধ ড্রাগ বা ড্রাগের তালিকায় পড়ে না। অ্যাথলিটরা পারফরম্যান্স বা ফিটনেস ধরে রাখতে যেকোনো সময় এই ওষুধ ব্যবহার করতে পারেন। ফলে আইনি কোনো বাধা নেই ইংল্যান্ড দলের সামনে।
এক নজরে ইংল্যান্ড বনাম মেক্সিকো ম্যাচ ও ভায়াগ্রা বিতর্ক:
| ম্যাচের তথ্য | ভেন্যুর বিশেষত্ব | ইংল্যান্ডের প্রধান সমস্যা | চিকিৎসাগত সমাধান |
| তারিখ: ৬ জুলাই, ২০২৬ সময়: ভোর ৫:৩০ মিনিট (IST) | এস্তাদিও আজতেকা (সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৭৩৫০ ফুট উঁচুতে অবস্থিত) | ১. মেক্সিকান সমর্থকদের তৈরি করা মানসিক চাপ ও কটূক্তি। ২. কম অক্সিজেন ও দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়া। | উচ্চতার ধাক্কা ও শ্বাসকষ্ট রুখতে ফুটবলারদের ‘ভায়াগ্রা’ সেবনের অনুমতি। |
মাঠের বাইরে মেক্সিকানদের হট্টগোল বনাম মাঠের ভেতরে কম অক্সিজেনের পাহাড়প্রমাণ চ্যালেঞ্জ—হ্যারি কেনদের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার রাস্তা যে মোটেও সহজ নয়, তা স্পষ্ট। তবে টমাস টুহেলের ‘ভায়াগ্রা তত্ত্ব’ মাঠের ভেতরে বেলিংহ্যাম-সাকাদের কতটা বাড়তি এনার্জি দেয় এবং মেক্সিকোর ঘরের মাঠের চেনা দাপটকে টেক্কা দিতে পারে কিনা, তার উত্তর মিলবে আগামী সোমবার ভোর ৫.৩০ মিনিটে।






