Modi Cabinet Reshuffle: তৃতীয় মোদি সরকারের ২ বছর পূর্ণ হতেই বড় রদবদল! লালকৃষ্ণ আডবানীর পর দেশে কি আবার উপপ্রধানমন্ত্রী? আলোচনায় ২টি নাম

source : সংবাদ প্রতিদিন
তৃতীয় মোদি সরকারের দুই বছর পূর্ণ হতেই দিল্লির ক্ষমতার অলিন্দে রদবদলের হাওয়া বইতে শুরু করেছে। বিজেপির অতীতের ঐতিহ্য মেনে, সরকার গঠনের দুই বছর পরই সাধারণত মন্ত্রিসভার খোলনলচে বদলে ফেলা হয়। এবারও তার ব্যতিক্রম হচ্ছে না। তবে ২০২৬ সালের এই আসন্ন রদবদল কেবল কিছু মন্ত্রীর দপ্তর বদলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং ভারতের শাসনব্যবস্থায় ‘উপপ্রধানমন্ত্রী’ (Deputy Prime Minister)-র মতো একটি হেভিওয়েট আলঙ্কারিক পদের পুনরুজ্জীবন নিয়ে জাতীয় রাজনীতিতে শুরু হয়েছে এক নজিরবিহীন জল্পনা।
সাযুজ্য বজায় রেখে মন্ত্রিসভা ও সংগঠনের খোলনলচে বদল
বিজেপির অভ্যন্তরীণ সূত্রের খবর, এবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা এবং বিজেপির দলীয় সংগঠনের রদবদল একে অপরের পরিপূরক হিসেবে করা হবে। অর্থাৎ, মন্ত্রিসভার কিছু পুরনো বা কম পারফর্ম করা মুখকে দলীয় সংগঠনে ফিরিয়ে আনা হবে এবং সংগঠনের কিছু দক্ষ নেতাকে মন্ত্রিসভায় নতুন সুযোগ দেওয়া হবে।
বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি হিসেবে নীতীন নবীন দায়িত্ব নেওয়ার পর পাঁচ মাস কেটে গেলেও তাঁর নিজস্ব ‘টিম’ এখনও তৈরি হয়নি। মনে করা হচ্ছে, এই রদবদলের মাধ্যমে অন্তত ৭ থেকে ৮ জন নতুন সাংসদ মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে পারেন। একই সাথে বেশ কিছু পুরনো নেতার ছুটি হওয়াও প্রায় নিশ্চিত।
লালকৃষ্ণ আডবানীর পর আবার উপপ্রধানমন্ত্রী?
সাংবিধানিকভাবে ‘উপপ্রধানমন্ত্রী’ পদটির কোনো বাধ্যবাধকতা নেই, এটি মূলত রাজনৈতিক ক্ষমতার সাম্য বজায় রাখার একটি আলঙ্কারিক মাধ্যম। ভারতের ইতিহাসে এযাবৎকাল মাত্র ৭ জন এই পদে বসেছেন। সর্বশেষ উপপ্রধানমন্ত্রী ছিলেন লালকৃষ্ণ আডবানী, যিনি ২০০৪ সাল পর্যন্ত অটল বিহারী বাজপেয়ী সরকারে এই দায়িত্ব সামলেছেন। আডবানীর পর মনমোহন সিংয়ের ১০ বছর এবং নরেন্দ্র মোদির গত ১২ বছরের শাসনকালে এই পদের কোনো অস্তিত্ব ছিল না।
বর্তমানে সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলির দাবি, মোদি-শাহ জুটি আবারও একজন উপপ্রধানমন্ত্রী নিয়োগের কথা গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করছেন এবং এই দৌড়ে মূলত দুটি নাম সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে:
- অমিত শাহ: ভারতের বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং নরেন্দ্র মোদির সবচেয়ে বিশ্বস্ত সেনাপতি। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলায় দলের অভাবনীয় সাফল্যের পুরস্কার স্বরূপ এবং মন্ত্রিসভায় তাঁর অসীম প্রভাবকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে তাঁকে উপপ্রধানমন্ত্রী করা হতে পারে।
- নীতীশ কুমার: বিহারের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে বর্তমানে রাজ্যসভার সাংসদ করে রাখা হলেও, মহাজোটের সমীকরণ বজায় রাখতে তাঁকে বড় কোনো পদে পুনর্বাসন দেওয়া হয়নি। জেডিইউ (JDU) নেতারা প্রকাশ্যেই দাবি তুলছেন, জোটের ভারসাম্য বজায় রাখতে নীতীশ কুমারকে দেশের উপপ্রধানমন্ত্রী করা হোক।
এক নজরে ভারতের উপপ্রধানমন্ত্রী পদের ইতিহাস ও বর্তমান জল্পনা:
| ক্যাটাগরি | ঐতিহাসিক তথ্য | বর্তমান জল্পনা (২০২৬) | সম্ভাব্য কারণ |
| সর্বশেষ উপপ্রধানমন্ত্রী | লালকৃষ্ণ আডবানী (২০০২-২০০৪) | অমিত শাহ | সংগঠনে চূড়ান্ত প্রভাব ও বাংলায় অভাবনীয় সাফল্য। |
| পদের প্রকৃতি | অ-সাংবিধানিক, মূলত আলঙ্কারিক ও সম্মানসূচক। | নীতীশ কুমার | জেডিইউ-এর দাবি এবং এনডিএ (NDA) জোটের অভ্যন্তরীণ ভারসাম্য রক্ষা। |
যদিও এই উপপ্রধানমন্ত্রী পদের জল্পনা নিয়ে কেন্দ্র সরকার বা ভারতীয় জনতা পার্টির কোনো শীর্ষ নেতাই এখনও সরকারিভাবে মুখ খোলেননি, তবে দিল্লির রাজনৈতিক আবহাওয়া বলছে—আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে বড় কোনো চমক অপেক্ষা করে রয়েছে। অমিত শাহের পদোন্নতি নাকি নীতীশ কুমারের পুনর্বাসন, মোদি-শাহর রদবদলের ব্লু-প্রিন্ট কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার।






