১৯৭১-এর পর ফের পাকিস্তান ভাঙার মুখে! ১১ আগস্ট ‘স্বাধীন বালোচিস্তান’ ঘোষণার ডাক বালোচ লিবারেশন আর্মির, বিশ্বজুড়ে পতাকোত্তোলনের আর্জি

১৯৭১ সালে পূর্ব পাকিস্তান হাতছাড়া হয়ে সার্বভৌম বাংলাদেশের জন্ম হয়েছিল। সেই ঐতিহাসিক ঘা শুকোনোর আগেই আবার বড়সড় ভাঙনের মুখে দাঁড়িয়ে পাকিস্তান। দেশটির আয়তনের দিক থেকে বৃহত্তম ও খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ প্রদেশ বালোচিস্তানে দীর্ঘদিনের রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের পর অবশেষে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীনতা ঘোষণার ডাক দিল বালোচ লিবারেশন আর্মি (BLA)। আগামী ১১ আগস্ট দিনটিকে ‘রিপাবলিক অফ বালোচিস্তান’-এর স্বাধীনতা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে বিশ্বজুড়ে বালোচ জনগোষ্ঠীকে উদযাপনের আহ্বান জানানো হয়েছে।
১১ আগস্ট ‘স্বাধীন বালোচিস্তান’ উদযাপনের ডাক
বালোচ লিবারেশন আর্মির অন্যতম শীর্ষ নেতা মির ইয়ার বালচ এক জরুরি বিবৃতিতে জানিয়েছেন, ১১ আগস্ট হবে বালোচ জাতির মুক্তিসংগ্রামের ঐতিহাসিক দিন। এখন থেকে প্রতি বছর এই দিনটিতেই বালোচিস্তানের স্বাধীনতা দিবস পালিত হবে।
মির ইয়ার বালচ বলেন, “আগামী ১১ আগস্ট বালোচিস্তানের প্রতিটি ঘরে, দোকানপাটে, রাস্তাঘাটে এবং জনবহুল স্থানগুলোতে ‘রিপাবলিক অফ বালোচিস্তান’-এর জাতীয় পতাকা সগৌরবে উত্তোলিত হবে। শুধু দেশের ভেতরেই নয়, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা প্রবাসেও আমাদের বালোচ ভাই-বোনেরা এই দিনটিকে স্বাধীনতা দিবস হিসেবে পালন করবেন।”
[বালোচিস্তান স্বাধীনতা ঘোষণা: সংক্ষেপ]
* দিনক্ষণ: ১১ আগস্ট (প্রতি বছর 'স্বাধীন বালোচিস্তান দিবস' পালনের নির্দেশ)।
* নেতৃত্ব: মির ইয়ার বালচ ও বালোচ লিবারেশন আর্মি (BLA)।
* আবেদন: দেশ-বিদেশে 'রিপাবলিক অফ বালোচিস্তান'-এর জাতীয় পতাকা উত্তোলন।
* মূল দাবি: জাতিসংঘ ও বিশ্বশক্তির কাছে 'স্বাধীন রাষ্ট্র' হিসেবে স্বীকৃতি।
“পাকিস্তানের নীতি কেবল রক্তপাত ঘটিয়েছে”— বিএলএ নেতা
পাকিস্তান সরকারের উগ্র সামরিক নীতি ও আগ্রাসনের কড়া সমালোচনা করে মির ইয়ার বালচ স্পষ্ট জানান, পাকিস্তানের সঙ্গে যুক্ত থেকে বালোচিস্তান কোনোদিনই উন্নতি করতে পারবে না।
তিনি অভিযোগ তুলে বলেন, “অধিকৃত কাশ্মীরে নৃশংসতা চালানো, বালোচিস্তানে বর্বর সামরিক অভিযান, আফগান যুদ্ধে ধ্বংসলীলা এবং পারমাণবিক পরীক্ষা— পাকিস্তানের নীতি কেবল রক্তপাত ও হিংসাই ছড়িয়েছে। এদের অধীনে বালোচ জাতির সমৃদ্ধি অসম্ভব। তাই পুরো বিশ্বের উচিত বালোচিস্তানকে একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া, যাতে এই অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠিত হতে পারে।”
পাক সেনার নির্যাতন ও সিপেক (CPEC) প্রকল্পের বিরুদ্ধাচরণ
দীর্ঘদিন ধরে বালোচিস্তানের খনিজ সম্পদ ও প্রাকৃতিক গ্যাস লুট করে চলেছে ইসলামাবাদ— এই অভিযোগ বালোচদের বহু পুরনো। বিশেষ করে চিন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডর (CPEC) তৈরি শুরু হওয়ার পর থেকেই বালোচদের নিজের জমি ও সমুদ্রবন্দর গ্বাদার চিনের হাতে তুলে দেওয়ার প্রতিবাদে স্বাধীনতার আন্দোলন তীব্র আকার ধারণ করে।
বালোচ প্রতিরোধ মোকাবিলা করতে পাক সেনাবাহিনী সেখানে গুমখুন, বেআইনি আটক, গণহত্যা ও নির্যাতনের মতো মানবাধিকার লঙ্ঘন চালিয়ে আসছে। তবে সামরিক শক্তি দিয়ে বিদ্রোহ তো মেলানো যায়ইনি, বরং একের পর এক পাক সেনাঘাঁটিতে হামলা চালিয়ে পাক সেনাকে কোণঠাসা করে ফেলেছে বিএলএ। এবার স্বাধীনতার এই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ইসলামাবাদের বুকে কাঁপন ধরিয়ে দিয়েছে।
এক নজরে বালোচিস্তানের মুক্তি আন্দোলন:
| বিষয় | তথ্য / বিবরণ |
| আক্রান্ত ভূখণ্ড | বালোচিস্তান (পাকিস্তানের বৃহত্তম প্রদেশ) |
| সংগ্রামী দল | বালোচ লিবারেশন আর্মি (BLA) |
| প্রধান বার্তা প্রদানকারী | মির ইয়ার বালচ |
| ঘোষিত স্বাধীনতা দিবস | ১১ আগস্ট |
| অসন্তোষের কারণ | সিপেক (CPEC) মাধ্যমে সম্পদ লুটপাট, সামরিক অভিযান ও গুমখুন |
বাংলাদেশের পর পাকিস্তানের ভূখণ্ড থেকে বালোচিস্তানের এই প্রকাশ্য বিচ্ছিন্নতার ঘোষণা দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিকে এক নতুন মোড়ে এনে দাঁড় করাল। পাক সামরিক জান্তার দমনপীড়ন এড়িয়ে বালোচ লিবারেশন আর্মির এই স্বাধীনতার ডাক শেষ পর্যন্ত কতটা আন্তর্জাতিক সমর্থন পায় এবং পাকিস্তান কীভাবে এর মোকাবিলা করে, তা দেখার জন্য নজর রাখছে আন্তর্জাতিক মহল।





