অভিনেত্রী তৃষাকে নিয়ে রাজনৈতিক মঞ্চে অশ্লীল ইঙ্গিত! এফআইআরের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার বিরোধী দলনেতা উদয়নিধি স্ট্যালিন

দক্ষিণের রাজনীতিতে আচমকাই চড়ল উত্তেজনার পারদ। অভিনেত্রী তৃষাকে কেন্দ্র করে বিতর্কিত ও কুরুচিকর মন্তব্যের অভিযোগে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এমকে স্ট্যালিনের পুত্র তথা বর্তমান বিরোধী দলনেতা উদয়নিধি স্ট্যালিনকে (Udhayanidhi Stalin) গ্রেপ্তার করল চেন্নাই পুলিশ। মঙ্গলবার সকালে তাঁর বাড়ি থেকেই তাঁকে হেফাজতে নেওয়া হয়। এফআইআর দায়ের হওয়ার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই পুলিশি অ্যাকশনে রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে তোলপাড়।
কীভাবে সূত্রপাত এই বিতর্কিত ঘটনার?
ঘটনার সূত্রপাত গত সোমবার, কাবেরী নদীর জলবণ্টন বিবাদকে কেন্দ্র করে আয়োজিত একটি প্রতিবাদ সভায়। সেখানে বক্তব্য রাখার সময় মুখ্যমন্ত্রী জোসেফ বিজয়ের তীব্র সমালোচনা করছিলেন উদয়নিধি। তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্য এক ফোঁটাও কাবেরীর জল পাচ্ছে না, অথচ মুখ্যমন্ত্রী উদাসীন।
ঠিক সেই মুহূর্তেই জনসভার মাঝখান থেকে কেউ এক জন অভিনেত্রী ‘তৃষা, তৃষা’ বলে চিৎকার শুরু করেন। অভিযোগ, ভাষণ থামিয়ে মুখে বাঁকা হাসি এনে চরম কুরুচিকর ও দ্বি-অর্থবোধক (double meaning) একটি মন্তব্য করেন উদয়নিধি, যা সরাসরি তৃষাকে লক্ষ্য করেই করা হয়েছিল বলে দাবি ওঠে।
[ঘটনাপ্রবাহ ও আইনি পদক্ষেপ সংক্ষেপ]
* কারণ: জনসভায় মুখ্যমন্ত্রী বিজয় ও অভিনেত্রী তৃষাকে জড়িয়ে অশালীন ইঙ্গিত।
* অভিযোগকারী: বিজয়ের রাজনৈতিক দল টিভিকে (TVK) ও জাতীয় মহিলা কমিশন।
* পুলিশি পদক্ষেপ: এফআইআরের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গৃহ থেকে গ্রেপ্তার।
* অভিযুক্তের দাবি: মন্তব্য বিকৃত করা হয়েছে, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার তিনি।
টিভিকে-র জাতীয় মহিলা কমিশনে নালিশ ও এফআইআর
উদয়নিধির এই মন্তব্যের পর তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। জোসেফ বিজয়ের দল ‘তামিলগা ভেট্রি কাজাগাম’ (TVK) বিষয়টিকে সাধারণ মহিলাদের সম্মানহানির শামিল বলে আখ্যা দেয়।
জাতীয় মহিলা কমিশনে চিঠি লিখে টিভিকে-র তরফে জানানো হয়— “একজন দায়িত্বশীল বিরোধী দলনেতা প্রকাশ্যে রাজনৈতিক মঞ্চ থেকে মহিলার উদ্দেশ্যে আপত্তিকর ও অশালীন ইঙ্গিত করেছেন। এটি অত্যন্ত নিম্ন রুচির মানসিকতা ও হেনস্থার সমতুল্য।” একই সঙ্গে পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়েরের পর তড়িঘড়ি উদয়নিধিকে গ্রেপ্তার করে চেন্নাই পুলিশ। টিভিকে স্পষ্ট জানিয়েছে, এটি কোনো রাজনৈতিক প্রতিশোধ নয়, নারী সুরক্ষার স্বার্থেই এই পদক্ষেপ।
“ভুল কিছু বলিনি”— পুলিশ ভ্যানে সওয়াল উদয়নিধির
গ্রেপ্তারির পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে নিজের বক্তব্যের সপক্ষে যুক্ত পেশ করেন উদয়নিধি স্ট্যালিন। তিনি বলেন, “আমি কোনো ভুল কথা বলিনি। আপনারা সভার ভিডিও রেকর্ডিং দেখুন, সেখানে বিজয় ছাড়া আমি কি অন্য কারও নাম মুখে এনেছি?”
একে সম্পূর্ণভাবে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বলে দাবি করে পুলিশ ভ্যানে ওঠার সময় উদয়নিধি বলেন, “আদালতেই বিষয়টি চূড়ান্ত হবে। আমি নিশ্চিত যে বিচারব্যবস্থা থেকে ন্যায়বিচার পাব।”
বিতর্কের পুরনো ইতিহাস ও সনাতন ধর্ম বিতর্ক
অতীতে বারবার বিতর্কিত মন্তব্য করে খবরের শিরোনামে উঠে এসেছেন উদয়নিধি। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে সনাতন ধর্মের আদর্শ নিশ্চিহ্ন করার ডাক দিয়ে তীব্র সমালোচনা ও দেশজুড়ে আইনি জটিলতার মুখে পড়েছিলেন তিনি। সনাতন প্রথাকে ডেঙ্গি ও ম্যালারিয়ার সঙ্গে তুলনা করার পাশাপাশি গত মে মাসে নির্বাচনে হারের পরও তিনি দাবি করেছিলেন যে সনাতন ধর্ম মানুষে মানুষে বিভেদ তৈরি করে। এবার সরাসরি অভিনেত্রীকে লক্ষ্য করে কুরুচিকর মন্তব্য করে নতুন করে আইনি জাঁতাকলে পড়লেন এই দ্রাবিড় নেতা।
এক নজরে উদয়নিধি স্ট্যালিন গ্রেপ্তার ঘটনা:
| বিষয় | বিবরণ / তথ্য |
| অভিযুক্ত | উদয়নিধি স্ট্যালিন (তামিলনাড়ুর বিরোধী দলনেতা) |
| অভিযোগের কারণ | অভিনেত্রী তৃষাকে নিয়ে মঞ্চে অশালীন/দ্বি-অর্থবোধক মন্তব্য |
| অভিযোগকারী | বিজয়ের দল ‘টিভিকে’ (TVK) ও জাতীয় মহিলা কমিশন |
| গ্রেপ্তারকারী সংস্থা | চেন্নাই পুলিশ |
| উদয়নিধির অবস্থান | অভিযোগ অস্বীকার, আইনি লড়াইয়ের কথা ঘোষণা |
রাজনীতির মঞ্চে ভাষা ও শালীনতার সীমা কতটা থাকা উচিত, তা নিয়ে আবার বড় প্রশ্ন তুলে দিল উদয়নিধি স্ট্যালিনের গ্রেপ্তারির ঘটনা। বিজয়ের দল টিভিকে এবং উদয়নিধির রাজনৈতিক শিবিরের এই সম্মুখ সমরে আগামী দিনে তামিলনাড়ুর বিধানসভা ও আইনি ময়দানে লড়াই আরও তীব্র হতে চলেছে।





