Germany vs Paraguay World Cup 2026: টাইব্রেকারে জার্মানি বধ প্যারাগুয়ের! বিশ্বমঞ্চে নায়ক হওয়ার আগে ছেলের চিকিৎসার জন্য বুট-জার্সিও বিক্রি করেছিলেন গোলকিপার গিল

source : এইসময় অনলাইন
বিশ্বকাপ ফুটবলের মঞ্চ মানেই যেমন নতুন নতুন তারকার উদয়, ঠিক তেমনই কিছু রূপকথার জন্ম হওয়া। চলতি ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে (FIFA World Cup 2026) তেমনই এক অবিশ্বাস্য রূপকথা লিখল লাতিন আমেরিকার দেশ প্যারাগুয়ে। রাউন্ড অফ ৩২-এর ম্যাচে ইউরোপের অন্যতম মহাশক্তি ও চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানিকে হারিয়ে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় করে দিল তারা। আর এই জয়ের নেপথ্যে যিনি খলনায়ক থেকে এক লহমায় দেশের ভগবান হয়ে উঠলেন, তিনি হলেন প্যারাগুয়ের গোলকিপার অরল্যান্ডো গিল (Orlando Gill)। তবে আজকের এই বিশ্বমঞ্চের নায়ক অরল্যান্ডো গিলের জীবন কোনো সিনেমার চেয়ে কম নয়।
আজ যখন জার্মানির বাঘা বাঘা স্ট্রাইকারদের শট আটকে গিল বিশ্বজুড়ে লাইমলাইটে, তার কয়েক বছর আগের ছবিটা ছিল সম্পূর্ণ অন্ধকার। সন্তানের জন্মের সময় তার কঠিন চিকিৎসার খরচ জোগানোর মতো সামর্থ্য ছিল না এই প্যারাগুয়ান গোলকিপারের। সেই সময় ছেলের জীবন বাঁচাতে নিজের সর্বস্ব বিক্রি করতেও দুবার ভাবেননি গিল।
টাকা জোগাড় করতে নিজের শেষ সম্বলটুকুও বাজি রেখেছিলেন তিনি:
- বিক্রি করে দিয়েছিলেন নিজের প্রিয় খেলার বুট জোড়া।
- বিক্রি করেছিলেন অনুশীলনের সমস্ত সরঞ্জাম।
- এমনকী দেশের হয়ে খেলা প্যারাগুয়ে অনূর্ধ্ব-২০ দলের ঐতিহাসিক জার্সিটাও বিক্রি করে দিতে বাধ্য হয়েছিলেন তিনি।
কঠোর পরিশ্রম, অসীম আত্মত্যাগ আর লড়াকু মানসিকতা যে মানুষকে কতটা ওপরে নিয়ে যেতে পারে, তা আরও একবার প্রমাণ করল গিলের এই জীবনকাহিনী।
২৬ বছর বয়সী অরল্যান্ডো গিল ক্লাব ফুটবলে খেলেন আর্জেন্তিনার প্রথম সারির ক্লাব সান লরেঞ্জো দে আলমাগ্রো-র (San Lorenzo de Almagro) হয়ে। জার্মানির বিরুদ্ধে রোমাঞ্চকর ম্যাচটি ছিল দেশের জার্সিতে তাঁর ১০ম আন্তর্জাতিক ম্যাচ।
চলতি বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বেও প্যারাগুয়ের প্রথম একাদশে নিয়মিত ছিলেন গিল। প্রথম ম্যাচে আমেরিকার বিরুদ্ধে ৪টি গোল হজম করলেও মানসিকভাবে ভেঙে পড়েননি তিনি। এরপরের দুটি ম্যাচেই ঘুরে দাঁড়িয়ে অস্ট্রেলিয়া ও তুরস্কের বিরুদ্ধে অসাধারণ ‘ক্লিন শিট’ রাখেন এই গোলকিপার।
ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে জার্মানি এমন এক দল, যারা এর আগে কখনও বিশ্বকাপের মঞ্চে টাইব্রেকারে ম্যাচ হারেনি। জার্মানির এই অজেয় প্রাচীরে ফাটল ধরালেন অরল্যান্ডো গিল। নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময় মিলিয়ে ১২০ মিনিট ধরে জার্মানির একের পর এক আক্রমণ একা হাতে প্রতিহত করেন গিল।
এরপর ম্যাচ টাইব্রেকারে গড়ালে গিলের ইস্পাতকঠিন মানসিকতার সামনে স্নায়ুর চাপ ধরে রাখতে পারেনি জার্মানি। টাইব্রেকারে অসাধারণ গোলকিপিং করে জার্মানির রেকর্ড ভেঙে দলকে জেতান গিল। এই জয়ের হাত ধরেই দীর্ঘ ১৬ বছর পর বিশ্বকাপের শেষ ১৬ (Round of 16)-এর টিকিট নিশ্চিত করল প্যারাগুয়ে।
জার্মানির মতো হেভিওয়েট দল কেন শেষ ষোলোর আগেই ছিটকে গেল, তা নিয়ে যখন ইউরোপীয় ফুটবল মহলে কাটাছেঁড়া চলছে, তখন লাতিন আমেরিকায় চলছে উৎসব। নিজের সর্বস্ব বিক্রি করে যে বাবা একদিন ছেলের প্রাণ বাঁচিয়েছিলেন, আজ তিনিই দেশের কোটি কোটি মানুষের মুখে হাসি ফোটালেন। অরল্যান্ডো গিলের এই রূপকথা ফুটবল ইতিহাসের পাতায় চিরকাল অম্লান থাকবে।






